Sunday, August 9, 2015

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন রাকিব হত্যার আসামি বিউটি

খুলনার রাকিব, বরগুনার রবিউল...নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছে তারা সবাই। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় সুরাইয়া এখনো পৃথিবীতে। অন্যদের বিদায় নিতে হয়েছে চিরতরে। শিশুদের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতায় উদ্বিগ্ন সবাই। বাংলাদেশে শিশুদের প্রতি এই নিষ্ঠুরতার উদ্বেগ জানিয়েছে ইউনিসেফও
খুলনায় কমপ্রেসরের নল ঢুকিয়ে গ্যারেজকর্মী শিশু রাকিবকে (১২) হত্যার ঘটনার অন্যতম আসামি বিউটি বেগম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে জবানবন্দিতে তিনি কী তথ্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। গত শুক্রবার বিকেলে খুলনার মহানগর হাকিম আয়েশা আকতার মৌসুমীর আদালতে ওই ঘটনায় নিজেকে সম্পৃক্ত করে এ জবানবন্দি দেন বিউটি। এদিকে এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) যত দ্রুত সম্ভব দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন এ-সংক্রান্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
পুলিশ জানায়, গতকাল দুপুরে বিউটি বেগমকে ওই আদালতে হাজির করা হয়। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাঁকে সেখান থেকে খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
খুলনা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাজী মোস্তাক আহম্মদ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, বিউটি পুলিশের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা করে স্বীকারোক্তি দেওয়ায় তাঁর ইচ্ছানুযায়ী গতকাল আদালতে পাঠানো হয় তাঁকে। সেখানে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।
তবে জবানবন্দিতে বিউটি কী কী তথ্য জানিয়েছেন, সেসব কাগজ হাতে না আসা পর্যন্ত জানাতে পারবেন না বলে এই কর্মকর্তা জানান। হত্যাকাণ্ডের সময় বিউটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, নাকি খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন, সে সম্পর্কেও এই কর্মকর্তা জানাতে পারেননি।
গত সোমবার বিকেলে খুলনার টুটপাড়ায় শরিফ মোটরস নামের এক মোটরসাইকেলের গ্যারেজে নির্যাতন করে রাকিবকে মেরে ফেলা হয়
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপকমিশনার মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে স্বীকারোক্তিতে বিউটি বেগম হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তা জানানো হবে।
পুলিশ জানায়, মামলার প্রধান দুই আসামি শরীফ ও মিন্টু খান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে এখনো চিকিৎসাধীন। তাঁরা যেদিন চিকিৎসকের ছাড়পত্র পাবেন, সেদিনই তাঁদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।
এদিকে কেএমপির কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি মামলার তদন্ত তদারকির জন্য গত বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা সদর থানায় যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মামলার তদন্তে যাতে কোনো ত্রুটি বা ফাঁক না থাকে, সে জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন ছাড়াও তিনি নিজে এই কাজ তদারক করছেন। পুলিশের কোনো ভুলের কারণে আসামিরা যাতে পার পেয়ে না যান, সে জন্য তাঁরা সতর্ক আছেন।
গত সোমবার বিকেলে খুলনার টুটপাড়ায় শরিফ মোটরস নামের এক মোটরসাইকেলের গ্যারেজে নির্যাতন করে রাকিবকে মেরে ফেলা হয়। মোটরসাইকেলের চাকায় হাওয়া দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত কমপ্রেসর মেশিনের নল ঢুকিয়ে তার মলদ্বার দিয়ে বাতাস ঢোকালে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে সে মারা যায়। নিষ্ঠুর নির্যাতনে তার শরীর ফুলে প্রায় বড়দের মতো হয়ে যায়। ছিঁড়ে যায় নাড়িভুঁড়ি। ফেটে যায় ফুসফুস।

No comments:

Post a Comment