Sunday, August 9, 2015

বাঁধ, বিদ্যালয় ও বাজার হুমকিতে: নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙনে ৭০ পরিবার গৃহহীন

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে
যাচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা ও ফসলি জমি। ভাঙনের কবলে পড়েছে
চর জুজিরা গ্রামের এই মসজিদটিও। ছবি -প্রথম আলো
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের ভাঙনে নড়িয়ার চারটি গ্রামের ৭০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। সুরেশ্বর লঞ্চ ঘাটের ১০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জায়গা নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে সুরেশ্বর রক্ষা বাঁধ, দুটি বাজার, দুটি বিদ্যালয় ও চারটি গ্রাম।
পনি উন্নয়ন বোর্ডের শরীয়তপুর কার্যালয় সূত্র জানায়, পদ্মায় পানি ও স্রোত বাড়ায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত শনিবার থেকে ভাঙনে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর, চর জুজিরা, চর নড়িয়া ও মুন্সিকান্দী গ্রামের ৭০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। নদীতে বিলীন হয়েছে ৮০ একর ফসলি জমি ও সুরেশ্বর লঞ্চ ঘাটের ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জায়গা। নদীতে স্রোত থাকায় হুমকিতে রয়েছে দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর সুরেশ্বর রক্ষা বাঁধ, সুরেশ্বর লঞ্চঘাট, সুরেশ্বর বাজার, ওয়াপদা বাজার, ভাঙনকবলিত ওই চারটি গ্রাম, সুরেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় ও সুরেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গত বৃহস্পতিবার পদ্মার ভাঙনকবলিত সুরেশ্বর ও চরজুজিরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন-আতঙ্কে গ্রামগুলোর লোকজন তাঁদের বসতঘর সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সুরেশ্বর লঞ্চঘাটের কয়েকটি দোকানও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সুরেশ্বর রক্ষা বাঁধের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ভাঙন দেখা দেওয়ায় বাঁধটি হুমকিতে রয়েছে। বাঁধের পূর্ব প্রান্তের পাশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
সুরেশ্বর গ্রামের রুনু বেগম (৪৫) বলেন, ‘আমার বাড়িটি নদীর কাছেই ছিল। রাতে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়, আতঙ্কে আমরা বাড়ি ছেড়ে চলে যাই। পরদিন ঘর ভেঙে সরিয়ে নিই। এখনো থাকার কোনো জায়গা পাইনি।’
সুরেশ্বর লঞ্চ ঘাটের ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, ‘ভাঙন দেখা দিলে আমার দোকান সরিয়ে নিই। দোকানের আয় দিয়ে সংসার চলত। দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বিপাকে পড়েছি।’
সুরেশ্বর গ্রামের লোকমান হোসেন বলেন, সুরেশ্বর দরবার শরীফকে পদ্মার ভাঙনের কবল হতে রক্ষা করার জন্য সুরেশ্বর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এখন বাঁধের পাশে পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধে ভাঙন দেখা দিতে পারে।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা বেগম বলেন, জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাস ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মধ্যে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেছেন। চাল বিতরণ করার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। যাঁরা গৃহহীন হয়েছেন তাঁদের খাস জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে।
পাউবো শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল খালেক বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ এলাকার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২৮০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব পানি উন্নয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে।

No comments:

Post a Comment