Friday, August 7, 2015

নাভিদের বাবা বলল, আমি হতভাগ্য পিতা

কাশ্মীরে ধরা পড়া জঙ্গি মোহাম্মদ নাভিদ ইয়াকুব ওরফে ওসমান খানের নাগরিকত্বে প্রশ্নে ভারত ও পাকিস্তান যখন বিবাদে জড়িয়ে পড়েছে তখনই পাকিস্তানের এক ব্যক্তি নিজেকে উসমানের বাবা বলে দাবি করলেন। বৃহস্পতিবার ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই ব্যক্তি নিজেকে ইয়াকুব দাবি করে বলেন, ‘আমি এক হতভাগ্য পিতা।’ তিনি পাকিস্তান​ থেকে ফোনে কথা বলছেন বলেও জানান। ইয়াকুব পাঞ্জাবি ভাষায় আজ বেলা ১টা ২২ মিনিটে হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। এক মিনিট ২০ সেকেন্ড কথা বলার পর থেকেই ইয়াকুবের ফোন বন্ধ রয়েছে। নিজের ও ছেলের প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে হত্যা করা হতে পারে। লস্কর-ই-তাইয়েবা ও পাকিস্তানের সেনাদের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের আশঙ্কায় আছি আমরা।’
ভারত থেকে ফোন করা হয়েছে এটা শুনে ইয়াকুব বলেন, ‘আপনারা ভারত থেকে ফোন করেছেন। আমাদের হত্যা করা হবে। আমি এক হতভাগ্য পিতা।’ কথা বলার সময় ইয়াকুবকে বিচলিত মনে হয়েছে বলেও খবরে বলা হয়েছে। ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে গত বুধবার বিএসএফের গাড়িবহরে হামলার সময় ধরা পড়েন মোহাম্মদ নাভিদ। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা তাঁকে বড়মাপের জঙ্গি বলে চিহ্নিত করেছেন। তাঁরা বলছেন, ধরার পর বুধবার সারা রাত জিজ্ঞাসাবাদে নাভিদ স্বীকার করেছেন, তিনি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
ভারতের সরকারি সূত্রগুলো বলেছে, নাভিদ জিজ্ঞাসাবাদে বারবার তাঁর বক্তব্য পাল্টাচ্ছেন। তিনি ৪৫ দিন আগে ভারতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন। ধরা পড়ার পর থেকে তিনবার নাম পাল্টেছেন ২২ বছর বয়সী এই জঙ্গি। প্রথমে নিজের নাম বলেন, কাসিম। পরে একবার বলেন ওসমান, এরপরই আবার বলেন তাঁর নাম নাভিদ। তিনি শেষ পর্যন্ত আবার ‘কাসিম’ নামে ফিরে এসেছেন বলে জানা গেছে। বারবার নাম পাল্টালেও নাভিদ তাঁর বাড়িঘর এবং পরিবার সম্পর্কে দেওয়া তথ্য পাল্টাননি। নাভিদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাড়ি পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে। তাঁর আরও দুই ভাই ও এক বোন আছে। অপর এক সঙ্গীকে নিয়ে গত রমজান মাসে তিনি কাশ্মীর সীমান্ত দিয়েই ভারতে প্রবেশ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে নাভিদ বলেছেন, তাঁরা জম্মুর উধমপুরে পৌঁছে ট্রাকে চড়েন। তাঁদের ওপর সেনাবাহিনীর কোনো বহরে হামলা করার নির্দেশ ছিল। সঙ্গী রকিকে নিয়ে বুধবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গাড়িবহরে হামলা চালান নাভিদ। এতে দুই বিএসএফ সদস্য নিহত হন। আহত হন ১৪ জন। পরে একটি গ্রামের ভেতরে ঢুকে তিনজনকে জিম্মি করেন নাভিদ ও তাঁর সঙ্গী। নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় নাভিদের সঙ্গী নিহত হয়। নাভিদ ধরা পড়েন।
এদিকে মোহাম্মদ নাভিদ ইয়াকুব ওরফে ওসমান খান পাকিস্তানের নাগরিক নয় বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার। পাকিস্তানের সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, দেশটির ন্যাশনাল ডেটাবেইস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথোরিটি (এনএডিআরএ) জানিয়েছে, এ নামটি তাদের তালিকায় নেই। ওই কর্মকর্তা বলেন, নাভিদ পাকিস্তানি নাগরিক-এমন অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’।
তবে পাকিস্তানের এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে ভারতের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, এনএডিআরের নিজস্ব ওয়েবসাইটেই বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে তারা এযাবৎ মাত্র ৯ কোটি ৬০ লাখ জনের তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছে। আর ইয়াকুব পরিচয়ে আজ এক ব্যক্তি হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে কথা বলার পর ভারতের দাবি আরও জোরাল হলো।

No comments:

Post a Comment