Tuesday, August 11, 2015

স্বরাষ্ট্রসচিবের নির্দেশে তারেকের পাসপোর্ট নবায়ন হয়েছিল

মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড় বছর আগেই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাসপোর্ট নবায়নের আদেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মো. আবদুল করিম। তাঁর নির্দেশে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে তারেক রহমানের পাসপোর্টটি পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন করে দিয়েছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল রোববার হাইকোর্টে দেওয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে তারেক রহমান একই সময়ে একাধিক পাসপোর্ট নেননি বলে হাইকোর্টে দেওয়া পুলিশের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের এই প্রতিবেদন জমা দেয় রাষ্ট্রপক্ষ। প্রতিবেদনগুলো গ্রহণ করে আদালত তারেকের বিষয়ে ইতিপূর্বে জারি করা রুলের শুনানির জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনের দৃষ্টিতে পলাতক অবস্থায় তারেক রহমানের কোনো ধরনের বক্তব্য-বিবৃতি সব ধরনের গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ৭ জানুয়ারি নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানাতে পররাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া তারেক রহমানের পাসপোর্টের বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
আদালতের নির্দেশ অনুসারে এসব প্রতিবেদন দাখিলের পর গত ২৩ জুন তারেক রহমানের নামে একাধিক পাসপোর্ট থাকা এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়ে জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশকে আবার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তারেক রহমানের নামে সি-০৯৭৪৪৯৬ পাসপোর্টটি ইস্যু করা হয়। ওই পাসপোর্টের মেয়াদ ছিল ২০১০ সালের ৩ জুন পর্যন্ত। ২০০৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জামিন নিয়ে বিএনপির এই নেতা চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান এবং ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর পাসপোর্টটি নবায়নের জন্য সেখানকার বাংলাদেশ হাইকমিশনে আবেদন জানান। একই দিন লন্ডনে বাংলাদেশের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার আল্লামা সিদ্দিকী ঢাকা থেকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মো. আবদুল করিমের ফোন পান। স্বরাষ্ট্রসচিব তারেক রহমানের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে নির্দেশ দেন। এরপর আল্লামা সিদ্দিকী হাইকমিশনের তখনকার মিনিস্টার (কনস্যুলার-বিষয়ক) এনামুর রহমান চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্রসচিবের নির্দেশের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে তারেক রহমানের পাসপোর্টের মেয়াদ ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
এদিকে হাইকোর্টে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে তারেক রহমান একাধিক পাসপোর্ট নেননি। বৈধ মেয়াদের মধ্যে পাসপোর্টের পাতা শেষ হয়ে যাওয়ায় নীতিমালা অনুসরণ করে তারেক রহমানের নামে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।

No comments:

Post a Comment