Tuesday, August 11, 2015

তুরস্কে মার্কিন কনস্যুলেটসহ বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলা: সেনা ও পুলিশসহ নিহত ৬

ইস্তাম্বুলের সুলতানবেলি এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার পর
রাস্তায় তুরস্কের বিশেষ পুলিশের টহল। গতকাল মার্কিন
কনস্যুলেট ও একটি থানায় জোড়া হামলায় কেঁপে
ওঠে তুরস্কের এ বৃহত্তম শহর l ছবি: এএফপি
তুরস্কের সরকার ও কুর্দি মিলিশিয়াদের মধ্যে ক্রমেই বেড়ে চলা সংঘাতের মধ্যে গতকাল সোমবার কয়েক দফা হামলায় ছয় পুলিশ ও সেনা নিহত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হামলা হয় দেশের বৃহত্তম নগর ইস্তাম্বুলের মার্কিন কনস্যুলেটে। এ হামলাটি চালায় চরম বামপন্থী একটি সংগঠনের দুই নারী কর্মী। খবর এএফপি, বিবিসি ও আল-জাজিরার।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাতোলিয়ার খবরে বলা হয়, রোববার মধ্যরাতের কিছু পরে সন্দেহভাজন একজন আত্মঘাতী হামলাকারী ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশে অবস্থিত সুলতানবেইলি এলাকার একটি থানায় গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ হামলায় তিন পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন আহত হন। আত্মঘাতী ওই হামলার পর অন্য জঙ্গিরা থানা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে করে রাতভর পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ চলে। ভোরের দিকে দুজন জঙ্গিকে হত্যা করে পুলিশ। তবে তাদের সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক পরিচয় স্পষ্ট নয়। সংঘর্ষে আহত একজন পুলিশ সদস্য পরে হাসপাতালে মারা যান।
এদিকে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ও থানায় গুলির ওই ঘটনার পর গতকাল ভোরে দুই সশস্ত্র নারী ইস্তাম্বুলের উপকণ্ঠে ইস্তিনিয়ে এলাকায় অবস্থিত সুরক্ষিত মার্কিন কনস্যুলেট লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ইস্তাম্বুলের গভর্নর এক বিবৃতিতে জানান, ওই দুই হামলাকারীকে ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। একপর্যায়ে একজন নারীকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, তাঁর কাছ থেকে রাইফেলসহ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই নারী চরমপন্থী মার্ক্সবাদী সংগঠন রেভল্যুশনারি পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (ডিএইচকেপি-সি) সদস্য। সংগঠনটি এর আগে ২০১৩ সালে আঙ্কারায় মার্কিন দূতাবাসে আত্মঘাতী হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছিল। গতকালের হামলারও দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে তারা।
এদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিরনাক প্রদেশের সিলোপি এলাকায় রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার আঘাতে পুলিশের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় কুর্দি বিদ্রোহীরা জড়িত বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়। এ ছাড়া একই প্রদেশে পৃথক এক ঘটনায় সামরিক হেলিকপ্টারে লঞ্চার দিয়ে রকেট ছোড়ে কুর্দি বিদ্রোহীরা। এ ঘটনায় একজন সেনাসদস্য নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন।
এমন একসময়ে এসব হামলার ঘটনা ঘটল, যখন তুর্কি সরকারের সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে (পারতিয়া কারকিরিন কুর্দিস্তান) এবং ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের তুমুল উত্তেজনা চলছে। আইএস ও পিকেকে সম্প্রতি তুরস্কে কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করে। এরপর দুটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করে তুরস্ক।

No comments:

Post a Comment