Friday, August 7, 2015

কুমার নদে অবৈধভাবে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার

ফরিদপুরের কুমার নদে বেড়া দিয়ে দুই মাস ধরে মাছ
শিকার করা হচ্ছে। ছবিটি সম্প্রতি সদরের উত্তর
আলীপুর এলাকা থেকে তোলা l প্রথম আলো
ফরিদপুর শহরের কুমার নদে আড়াআড়ি বেড়া দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করা হচ্ছে। প্রায় দুই মাস ধরে শহরের উত্তর আলীপুর, গুহলক্ষ্মী ও ভাটিলক্ষ্মীপুর এলাকায় বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বেড়াগুলো অপসারণ করা হবে।’
গত বৃহস্পতিবার শহরের মদনখালি থেকে অম্বিকাপুর শ্মশানঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কুমার নদের আনুমানিক দুই কিলোমিটার অংশে দুই ধরনের চারটি বেড়া দেওয়া হয়েছে। বেড়া দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, জাল ও বাঁশ দিয়ে একধরনের বেড়া দেওয়া হয়েছে। তাতে বড় থেকে শুরু করে ছোট আকারের সব মাছ ধরা পড়ছে। আরেক ধরনের বেড়া দেওয়া হয়েছে শুধু বাঁশ দিয়ে। এ বেড়ায় বোয়াল, রুইসহ বড় আকারের মাছ ধরা পড়ছে।
ভাটিলক্ষ্মীপুর এলাকায় দেখা যায়, লুৎফর মিয়ার বাড়ির কাছে বাঁশ ও সরু জাল দিয়ে আড়াআড়ি বেড়া দিয়েছেন মোকলেস ফকির।
নদে বেড়া দিয়ে মাছ শিকারের কথা স্বীকার করে মোকলেস ফকির বলেন, ‘আমি বেড়া দিয়ে মাছ ধরছি। এখন আমাকে কী করতে হবে বলেন।’
গুহলক্ষ্মীপুর তৈয়ব মোল্লার বাড়ির কাছে জাল ও বাঁশ দিয়ে আড়াআড়ি বেড়া দিয়েছেন ওই এলাকার প্রভাত মালো। প্রভাত মালোর চাচাতো বোনের স্বামী তারাপদ মালো বলেন, বেড়ায় ছোট-বড় সব মাছই ধরা পড়ছে। রুই, কাতলা ছাড়াও ছোট ছোট কাজলি, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে।
উত্তর আলীপুর এলাকার মিজান প্রামাণিকের বাড়ির সামনে শুধু বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়েছেন মো. মাসুদ পারভেজ। তিনি বলেন, ‘মাছ খাওয়ার জন্য আমি নিজে ও আত্মীয়স্বজন মিলে এ বেড়া দিয়েছি। আমার বাণিজ্যিক কোনো উদ্দেশ্য নেই।’ তিনি বলেন, ‘আমি আধা কেজির নিচে কোনো ছোট মাছ ধরছি না। বড় বোয়ালের দিকেই আমার নজর।’
উত্তর আলীপুর এলাকার মৃত হাসেমের বাড়ির কাছে বাঁশ ও জাল দিয়ে বেড়া দিয়েছেন সদর উপজেলার কোমরপুরের অমল মালো। দিনের বেলায় বেড়াটির মাঝামাঝি অংশে কিছু জায়গা ফাঁকা রাখা হয়। রাতে সেখানে জাল দিয়ে আটকে মাছ ধরা হয়। অমল কুমার মালো বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। কোনো রকমে খেয়েপরে বেঁচে আছি। আর কোনো ব্যবসা নেই। আমি শুধু কাজলি, চিংড়ি, বাইলাজাতীয় মাছ ধরি। অন্য মাছ ধরি না।’
ওই চারটি বেড়াসংলগ্ন এলাকার অন্তত ২০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে এ বেড়াগুলো দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বেড়ার ক্ষেত্রে দু-তিনটি নৌকা নিয়ে রাতে মাছ ধরা হয়। সাধারণত সন্ধ্যার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত এ মাছ ধরার কাজ চলে। এ কাজে আশপাশের মহল্লার প্রায় ২০ জন জেলে সহযোগী হিসেবে যুক্ত আছেন।
১৯৫০ সালের মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, নদীতে বা কোনো চলমান জলস্রোতে মাছের স্বাভাবিক চলাচলে আড়াআড়ি বেড়া দিয়ে মাছ শিকার নিষিদ্ধ। গত বছরও এসব জায়গায় বাঁশ ও জালের বেড়া দিয়ে মাছ ধরা হয়েছিল। সেবার প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বেড়া ও জাল অপসারণ করা হয়।

No comments:

Post a Comment