Tuesday, August 11, 2015

ছাত্রলীগের গোলাগুলিতে মাগুরায় মায়ের পেটে শিশু গুলিবিদ্ধ: সেন সুমন ৭ দিনের রিমান্ডে

মাগুরায় মায়ের পেটে শিশু গুলিবিদ্ধ
মাগুরায় ছাত্রলীগের গোলাগুলিতে মায়ের জঠরে শিশু গুলিবিদ্ধ ও এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি ছাত্রলীগের নেতা সেন সুমনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ছাড়া এ মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির শারীরিক অবস্থা রয়েছে স্থিতিশীল।
এর আগে গত বুধবার মো. সুমন ও মো. সোবহান নামে দুই আসামিকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে চাঞ্চল্যকর এ মামলার ১৬ আসামির আটজনকে এখনো গ্রেপ্তার বা একটি অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। আলোচিত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রধান আসামি সেন সুমনকে মাগুরা সদর সহকারী জজ আদালতে হাজির করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা রিমান্ড শুনানি শেষে আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ফারাহ্ মামুন তাঁর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাঁকে ১০ দিনের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশ জানায়, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সেন সুমনকে ২ আগস্ট রাজধানীতে এক বন্ধুর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরদিন তাঁকে মাগুরা আনা হয়। এর পরদিন আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। গতকাল ছিল এর শুনানির দিন।
গ্রেপ্তার হননি আট আসামি, হয়নি অস্ত্র উদ্ধার: সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় আসামি করা হয়েছিল ১৬ জনকে। তাঁদের মধ্যে গতকাল রাত পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিশ। তবে ঘটনায় ব্যবহৃত একটি অস্ত্রও গত ১৭ দিনে উদ্ধার করতে পারেনি তারা।
পুলিশ জানায়, গতকাল রাত নয়টার দিকে মাগুরা-ঝিনাইদহ সীমান্তে মাগুরার আলমখালী বাজার এলাকা থেকে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. ফরিদ (৩৫) ও মো. মিল্টন (১৯)। ঢাকা থেকে একটি বাসে চুয়াডাঙ্গা যাচ্ছিলেন তাঁরা। এ নিয়ে মোট আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলার বাদী রুবেল ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া নিয়েও চলছে গড়িমসি। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে প্রশাসন কারও ইশারায় চলছে। এখন ন্যায়বিচার পাব কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।’
অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া বিষয়ে পুলিশ সুপার এ কে এম এহসান উল্লাহ বলেন, ‘অস্ত্র উদ্ধার হবে। তবে এখন আমাদের মূল লক্ষ্য আসামি গ্রেপ্তার। সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারলেই সফলতা আসবে।’
শিশু সুরাইয়ার অবস্থা স্থিতিশীল: গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়াকে গতকাল আবারও রক্ত দেওয়া হয়েছে। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কানিজ হাসিনা বলেছেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকায় তাকে স্পেশাল কেয়ার বেবি ইউনিটেই আপাতত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে এখন মায়ের দুধ খাচ্ছে। প্রতিদিন এই খাওয়ার পরিমাণ অল্প অল্প করে বাড়ানো হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment