Tuesday, August 11, 2015

সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছয়জন নিহত: তিনটি বাঘের চামড়াসহ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

সুন্দরবনে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছয়জন নিহত হয়েছেন। রোববার বিকেলে পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জে শিবসা নদী-সংলগ্ন আলকি মান্দারবাড়িয়া এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, নিহত ব্যক্তিরা ইলিয়াস-জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য এবং বাঘ শিকারি। বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তিরা হলেন খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আনছার সানা (৫৫), সিদ্দিক সানা (৪৪), বাপ্পি হোসেন (২২), শফিকুল ইসলাম (৩৮), মজিদ গাজী (৩৫) ও মামুন গাজী (২৮)। এর মধ্যে মজিদ গাজীকে গত শনিবার রাতে দক্ষিণ বেদকাশী থেকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঘের চামড়াসহ চারটি বিদেশি একনলা বন্দুক, একটি বিদেশি পিস্তল, বিপুলসংখ্যক গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধ চলাকালে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্রনাথ সরকারসহ পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশের অভিযোগের ব্যাপারে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত দুইটায় কয়রার দক্ষিণ বেদকাশী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মজিদ গাজী নামের একজনকে আটক করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ইলিয়াস বাহিনীর সদস্য বলে জানান। গতকাল ভোরে তাঁকে নিয়ে সুন্দরবনে অভিযানে গেলে তিনি পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেন। এরপর পুলিশের চাপে তিনি ইলিয়াসের আস্তানার সন্ধান দেন। আস্তানায় যাওয়ার আগে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইলিয়াস বাহিনীর সদস্যরা গুলি ছুড়তে থাকেন। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় ৩০ মিনিট বন্দুকযুদ্ধ শেষে ইলিয়াস বাহিনী পিছু হঠতে বাধ্য হয়। পরে আস্তানা ও এর আশপাশ থেকে ছয়জনের গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) এস এম মনিরুজ্জামান গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, সুন্দরবনের বাঘ কমার পেছনে একটি সক্রিয় গ্রুপ রয়েছে। এদের মধ্যে ইলিয়াস-জাহাঙ্গীর বাহিনী অন্যতম। এরা বাঘসহ বিভিন্ন বন্য পশু শিকার করে পাচার করে। বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তিরা আগেই ধরা পড়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি শুধু মজিদ গাজীর কথা বলেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে বাঘের চামড়া উদ্ধার করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
ডিআইজি বলেন, নিহত ব্যক্তিদের কয়রা উপজেলায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আনতে মধ্যরাত হয়ে যাবে। তারপর তাঁদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হবে।
পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. জহির উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বন্দুকযুদ্ধের বিষয়ে পুলিশ তাঁকে কিছু জানায়নি। তবে এর আগে তিনি শুনেছেন, খুলনা রেঞ্জের কবাদক স্টেশন থেকে তিনটি বাঘের চামড়া উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এ সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

No comments:

Post a Comment