Monday, August 3, 2015

ঢাকা টেস্টও ড্র: টেস্টে নিজেদের সর্বোচ্চ বিন্দুতে বাংলাদেশ

আম্পায়ারদের কাছে আজ মাঠ খেলার অনুপযুক্ত মনে হওয়ায়
ঢাকা টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলাও পরিত্যক্ত
ঘোষণা করা হয়েছে। ছবিটি রোববারের। ছবি: এএফপি
তিন দিন পর আজ সোমবার সকালে সূর্যের হাসি। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের আকাশে রোদ। কিন্তু বৃষ্টিতে ক্ষতি যা হওয়ার তা আগেই হয়ে গেছে। আম্পায়ারদের কাছে আজ মাঠ খেলার অনুপযুক্ত মনে হয়েছে। এ কারণে ঢাকা টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলাও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রামের পর ড্র হলো ঢাকা টেস্টও। এর মধ্য দিয়ে অমীমাংসিতভাবে শেষ হলো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার দুই ম্যাচের সিরিজ। ঢাকা টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং নেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। প্রথম দিনের শেষে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৪৬। দ্বিতীয় টেস্টের পাঁচ দিনের মধ্যে শুধু প্রথম দিনই খেলা হয়। এর আগে বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সিরিজের প্রথম টেস্টটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। র‍্যাঙ্কিং-শীর্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে দুটি টেস্টই বৃষ্টির কল্যাণে ড্র হওয়ায় বাংলাদেশের ৬ পয়েন্ট বেরেছে। এখন বাংলাদেশের মোট পয়েন্ট ৪৭। র‍্যাঙ্কিংয়ের ৮ নম্বর দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৮১। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধরতে বাংলাদেশকে সামনে আরও অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে।
টেস্টে নিজেদের সর্বোচ্চ বিন্দুতে বাংলাদেশ
ঢাকা টেস্টও বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র করল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এটা চতুর্থ টেস্ট সিরিজ ড্র। র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সিরিজ ড্র করার ফল বাংলাদেশ পেয়েছে খুব দ্রুত। বাংলাদেশের রেটিং ৬ পয়েন্ট বেড়ে ৪৭ হয়েছে। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত সেরা রেটিং এটি। তবে দলগত র‍্যাঙ্কিংয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বাংলাদেশ এখনো নবম স্থানেই আছে।
সিরিজে সমতার পর দুই দলের করমর্দন। ছবিঃ শামসুল হক
জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্ট সিরিজ জয় ও পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চারটি টেস্ট ড্র করার ফলে বাংলাদেশের রেটিংয়ে এই উন্নতি। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ানডে রেটিং ও র‍্যাঙ্কিংয়ের উন্নতি অবশ্য চোখে পড়ার মতো। ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এখন সপ্তম দল। রেটিং পয়েন্টও ৯৬। তবে ওয়ানডে রেটিংয়ের সঙ্গে টেস্ট রেটিংয়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ওয়ানডেতে দলগুলোর পয়েন্ট কেবল ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে। টেস্ট রেটিংয়ে সিরিজের ফলাফল যোগ হয়। গত চার বছরে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ জয় কেবল জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। টেস্ট সিরিজ ড্র করবার নজিরও কেবল চারবার।
টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং এখন ৮১। অর্থাৎ, বাংলাদেশের সঙ্গে রেটিং ব্যবধান ৩৪। এই বিপুল ব্যবধান কমাতে হলে বাংলাদেশকে খুব দ্রুত কিছু টেস্ট জিততে হবে। সামনেই আছে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুই টেস্ট ম্যাচের সিরিজ। এ সিরিজেও বাংলাদেশের সামনে আছে রেটিং বাড়িয়ে নেওয়ার বিশাল সুযোগ। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গের সিরিজ ড্র করতে পারলেও বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ৫২। সিরিজটি ১-০ ব্যবধানে জিততে পারলে রেটিং পয়েন্ট হবে ৫৬। এবার পরিসংখ্যানের খাতিরে বাংলাদেশকে ২-০ তে বিজয়ী ধরে নিয়ে রেটিং হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের রেটিং দাঁড়াচ্ছে ৫৮! সে তুলনায় বাংলাদেশের হারানোর প্রায় কিছুই নেই এই সিরিজে। সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলেও বাংলাদেশের রেটিং হবে ৪৬।
ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন সমীহ জাগানিয়া। তবে টেস্টে এখনো নিজেদের সেরা কারিকুরি দেখানোটা বাকি। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের প্রথম টেস্টে নিজেদের ক্ষমতার কিছুটা নমুনা দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও তাই করবে বাংলাদেশ, এটাই সবার প্রত্যাশা।

No comments:

Post a Comment