Wednesday, August 12, 2015

খাই খাই স্বভাব ছাড়ুন -নেতা–কর্মীদের আশরাফ

জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
খাই খাই করা, দল ও প্রধানমন্ত্রীকে খাটো করার স্বভাব ছাড়ার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের অনুরোধ করেছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এই অনুরোধ করেন। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতার স্বাদ ভবিষ্যতেও পাবেন। কিন্তু এই যে খাই খাই করা, দলকে খাটো করা, প্রধানমন্ত্রীকে খাটো করা, নিজেকে খাটো করা—সেই অভ্যাসগুলো ছাড়তে হবে।’
আশরাফ বলেন, ‘এই ১৫ আগস্টের ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই কারণেই আমি মাঝে মাঝে আতঙ্কিত হই। শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগের হাল ধরেছেন। বহু শক্তি আছে, শেখ হাসিনার মঙ্গল হোক, সেটা কামনা করেন না। আমি একটাই অনুরোধ রাখব—আসুন, আরেকটু সতর্ক হই।’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। সেই পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল বলেই তাঁকে হত্যার সুযোগ হয়। আর কখনো যেন এমন পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, সে জন্য নেতা-কর্মীদের অনুরোধ করেন তিনি।
’৭৫ সালের ঘটনার প্রেক্ষিত তুলে ধরে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আমরা বাঙালি জাতি কি ওই সময় ছিলাম না? বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা ছিল না? আমাদের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী কি ছিল না? আমাদের রাজনৈতিক দল ছিল না? ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ছিল না? তো কোথায় ছিলেন? এই ঘটনা ঘটতে পারে তা কি আন্দাজ করা যায় নাই? গোয়েন্দা সংস্থারাই কী করল? এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত, তার তথ্য নিতে পারত, নেয় নাই। এটা গোয়েন্দা সংস্থা জানে না, পুলিশ জানে না, দলও জানে না, দেশের মানুষেরা জেনেছে—এটা তো হতে পারে না। আমি মনে করি, এর পেছনে একটা গভীর ষড়যন্ত্র আছে।’ তিনি বলেন, ‘যখন আমাদের মধ্যে শৃঙ্খলা থাকে না, যখন আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখি না, তখনই কেবল এই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। আমি আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আওয়ামী পরিবারের সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা সোচ্চার থাকুন। সব সময় সতর্ক থাকবেন। আমাদের যেকোনো পরিবেশ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
আশরাফ বলেন, ‘আমি কোনো দল, সংগঠন কিংবা গ্রুপকে ইঙ্গিত করে কথাগুলো বলছি না। আমি আপনাদেরই উদ্দেশ করে বলছি। আমাদের কি ১৫ আগস্টে ব্যর্থতা ছিল না? এটা বড় একটা দল, আমরা তো বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে পারি নাই। যদি আবার এ ধরনের ঘটনা ঘটে, আমরা কি পারব? দ্বিতীয়বার এ ঘটনার জন্য আমরা প্রস্তুত? আমার মনে হয় তো না। দল ক্ষমতায়, ১৯৭৫ সালেও তো দল ক্ষমতায় ছিল। রক্ষা করতে পারছে ক্ষমতা? সুতরাং এখানে আমি আপনাদের আরেকটু সজাগ থাকতে বলব। এখন আরেকটু সতর্ক হতে হবে। আমি যে কথাগুলো বলছি, তা একটু গুরুত্ব দিয়েন। আমি কী কথা বলছি, সেটা অনুধাবন করলেই আপনারা বুঝতে পারবেন।’
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, সহসভাপতি মতিউর রহমান, তানভীর শাকিল প্রমুখ।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বলে সংবিধানে কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে সঠিক সময়েই নির্বাচন হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. আবুল হোসেন, সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির, আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক শামীম, বেনজীর আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ।

No comments:

Post a Comment