পার্বত্য
চুক্তি পরবর্তীকালে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর সাথে উপজাতীয়
সন্ত্রাসীদের সবচেয়ে বড় বন্দুকযুদ্ধ ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে শনিবার
সকাল সাড়ে পাঁচটায়। রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ির রূপকারি ইউনিয়নস্থ দোখাইয়া
নামক এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের সাথে সংঘটিত এ বন্দুকযুদ্ধে ৫ জন নিহত
হয়েছে। এতে একটি একে-৪৭ রাইফেল, ৩টি এসএলআর, দুইটি চাইনজ রাইফেল, একটি নাইন
এমএম পিস্তলসহ ৮ আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৩৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার ভোররাত থেকে থেমে থেমে চলা এই বন্দুকযুদ্ধে অন্তত পাচঁজন উপজাতীয় সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে ৪ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক নিশ্চিত করেছেন। বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা হলো : লংগদু উপজেলাধীন মাইনীমুকস্থ শিলছড়ি এলাকার শান্তি কুমার চাকমা’র সন্তান রূপায়ন চাকমা (২৫), জেকশন ওরফে প্রকাশ চাকমা (৩০), তাতুমনি ত্রিপুরা (৩০), শান্তি মারমা (৩২) ও বাবুল চাকমা (২৮)।
অপরদিকে, নিহত উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের সামরিক নাম ও পদবী হচ্ছে : কর্পোরাল সন্তু মনি ত্রিপুরা, কর্পোরাল ফলিন চাকমা, ল্যান্স কর্পোরাল শান্তি মারমা, প্রিয় চাকমা ও সুনীল ত্রিপুরা। নিহতরা সকলেই পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস সংস্কারপন্থী (এমএন লারমা) এর সশস্ত্র ক্যাডার বলে জানা গেছে।
বাঘাইহাটস্থ চার ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের একটি দল বাঘাইছড়িস্থ রূপকারি ইউনিয়নের দোখাইয়া নামক এলাকায় একটি বসতবাড়ি দখলে নিয়ে সেখানে সশস্ত্র ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এই খবর পাওয়ার পর আমরা এলাকাটিতে অভিযান পরিচালনা করি। সেখানে পৌঁছার সাথে সাথেই আমাদের উপর গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। এসময় আমাদের সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। উভয়পক্ষের গোলাগুলিতে ঘটনাস্থলেই ২ জন এবং পালিয়ে যাবার সময় আরো ৩ জন নিহত হয়েছে।
এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, ৩টি এসএলআর, ২টি চায়নিজ রাইফেল, ২টি এসএমজি, ১টি নাইন এমএম পিস্তল, ১৬টি ম্যাগজিন ও অন্তত ৫৩৯ রাউন্ড গুলি, সেনাবাহিনীর মতো পোশাক ও অস্ত্র রাখার সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
কমান্ডার লে. কর্নেল হায়দারের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর একটি গ্রুপ শুক্রবার দিনগত রাতে ঘটনাস্থল ঘেরাও করে। পরে সন্ত্রাসীরা যৌথবাহিনীর সদস্য কর্তৃক নিজেদের ঘেরাও করা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাদের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। এসময় সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই ৫ জন নিহত হয়। গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর কর্পোরাল লিয়াকত মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। আহত লিয়াকতকে হেলিকপ্টারে করে খাগড়াছড়ি সেনা হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
বাঘাইহাট জোন কমান্ডার লে. কর্নেল হায়দার জানান, সন্ত্রাসীরা এলাকার বিনয় জ্যোতি চাকমা নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে আত্মগোপন করেছিল। গুলি বিনিময়ের সময় তারা বাড়ির সদস্যদের জিম্মি করে। কিন্তু সেনাবহিনীর সতর্ক গুলিবর্ষণের সাধারণ কোনো নাগরিক হতাহত হয়নি। সন্ত্রাসী দলে মোট ২০ জন থাকলেও বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাদের আটকের জন্য এখনো অপারেশন চলছে। ৩৫ মিনিট ধরে এ বন্দুকযুদ্ধ চলে। এতে সেনাবাহিনী ৩ শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে বলে তিনি আরো জানান।
বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন ফকির এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে নিহতদের লাশ এবং আটক গুলি ও সামরিক সরঞ্জামাদি বুঝে নিয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়রা এ ঘটনাকে পার্বত্য চুক্তি পরবর্তীকালে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের সাথে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় বন্দুকযুদ্ধ ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর এ পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এদিকে, রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় ইউপিডিএফ জড়িত নয় বলে দাবি করা হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, রাঙামাটির বাঘাইছড়ির বড়াদামে শনিবার ভোরে সেনাবাহিনীর সাথে ‘সন্ত্রাসীদের’ সংঘর্ষের ঘটনায় ইউপিডিএফকে জড়িয়ে কোন কোন সংবাদ মাধ্যমে (টিভি চ্যানেলে) যে রিপোর্ট প্রচারিত হচ্ছে তা আদৌ সত্য নয়।
প্রচারিত সংবাদে উক্ত ঘটনার সাথে মিথ্যাভাবে ইউপিডিএফকে জড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কার সাথে সংঘর্ষ হয়েছে এবং আটক ও নিহতরা কারা তা পরিষ্কার জানা থাকা সত্ত্বেও একটি বিশেষ মহল ইউপিডিএফের ভাবমূর্তি ক্ষুুণœ করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ও দুরভিসন্ধিমূলকভাবে ইউপিডিএফের নাম জড়াতে চাইছে।’
শনিবার ভোররাত থেকে থেমে থেমে চলা এই বন্দুকযুদ্ধে অন্তত পাচঁজন উপজাতীয় সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে ৪ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক নিশ্চিত করেছেন। বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা হলো : লংগদু উপজেলাধীন মাইনীমুকস্থ শিলছড়ি এলাকার শান্তি কুমার চাকমা’র সন্তান রূপায়ন চাকমা (২৫), জেকশন ওরফে প্রকাশ চাকমা (৩০), তাতুমনি ত্রিপুরা (৩০), শান্তি মারমা (৩২) ও বাবুল চাকমা (২৮)।
অপরদিকে, নিহত উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের সামরিক নাম ও পদবী হচ্ছে : কর্পোরাল সন্তু মনি ত্রিপুরা, কর্পোরাল ফলিন চাকমা, ল্যান্স কর্পোরাল শান্তি মারমা, প্রিয় চাকমা ও সুনীল ত্রিপুরা। নিহতরা সকলেই পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস সংস্কারপন্থী (এমএন লারমা) এর সশস্ত্র ক্যাডার বলে জানা গেছে।
বাঘাইহাটস্থ চার ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের একটি দল বাঘাইছড়িস্থ রূপকারি ইউনিয়নের দোখাইয়া নামক এলাকায় একটি বসতবাড়ি দখলে নিয়ে সেখানে সশস্ত্র ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এই খবর পাওয়ার পর আমরা এলাকাটিতে অভিযান পরিচালনা করি। সেখানে পৌঁছার সাথে সাথেই আমাদের উপর গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। এসময় আমাদের সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। উভয়পক্ষের গোলাগুলিতে ঘটনাস্থলেই ২ জন এবং পালিয়ে যাবার সময় আরো ৩ জন নিহত হয়েছে।
এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, ৩টি এসএলআর, ২টি চায়নিজ রাইফেল, ২টি এসএমজি, ১টি নাইন এমএম পিস্তল, ১৬টি ম্যাগজিন ও অন্তত ৫৩৯ রাউন্ড গুলি, সেনাবাহিনীর মতো পোশাক ও অস্ত্র রাখার সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
কমান্ডার লে. কর্নেল হায়দারের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর একটি গ্রুপ শুক্রবার দিনগত রাতে ঘটনাস্থল ঘেরাও করে। পরে সন্ত্রাসীরা যৌথবাহিনীর সদস্য কর্তৃক নিজেদের ঘেরাও করা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাদের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। এসময় সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই ৫ জন নিহত হয়। গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর কর্পোরাল লিয়াকত মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। আহত লিয়াকতকে হেলিকপ্টারে করে খাগড়াছড়ি সেনা হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
বাঘাইহাট জোন কমান্ডার লে. কর্নেল হায়দার জানান, সন্ত্রাসীরা এলাকার বিনয় জ্যোতি চাকমা নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে আত্মগোপন করেছিল। গুলি বিনিময়ের সময় তারা বাড়ির সদস্যদের জিম্মি করে। কিন্তু সেনাবহিনীর সতর্ক গুলিবর্ষণের সাধারণ কোনো নাগরিক হতাহত হয়নি। সন্ত্রাসী দলে মোট ২০ জন থাকলেও বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাদের আটকের জন্য এখনো অপারেশন চলছে। ৩৫ মিনিট ধরে এ বন্দুকযুদ্ধ চলে। এতে সেনাবাহিনী ৩ শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে বলে তিনি আরো জানান।
বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন ফকির এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে নিহতদের লাশ এবং আটক গুলি ও সামরিক সরঞ্জামাদি বুঝে নিয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়রা এ ঘটনাকে পার্বত্য চুক্তি পরবর্তীকালে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের সাথে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় বন্দুকযুদ্ধ ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর এ পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এদিকে, রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় ইউপিডিএফ জড়িত নয় বলে দাবি করা হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, রাঙামাটির বাঘাইছড়ির বড়াদামে শনিবার ভোরে সেনাবাহিনীর সাথে ‘সন্ত্রাসীদের’ সংঘর্ষের ঘটনায় ইউপিডিএফকে জড়িয়ে কোন কোন সংবাদ মাধ্যমে (টিভি চ্যানেলে) যে রিপোর্ট প্রচারিত হচ্ছে তা আদৌ সত্য নয়।
প্রচারিত সংবাদে উক্ত ঘটনার সাথে মিথ্যাভাবে ইউপিডিএফকে জড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কার সাথে সংঘর্ষ হয়েছে এবং আটক ও নিহতরা কারা তা পরিষ্কার জানা থাকা সত্ত্বেও একটি বিশেষ মহল ইউপিডিএফের ভাবমূর্তি ক্ষুুণœ করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ও দুরভিসন্ধিমূলকভাবে ইউপিডিএফের নাম জড়াতে চাইছে।’

No comments:
Post a Comment