![]() |
| শেখ হাসিনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় |
আগামী
সপ্তাহে দিল্লিতে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠিয়েছেন। ছিটমহল বিনিময়ের পর
পুর্নবাসনের অর্থ ভারত সরকার কমিয়ে দেয়ায় মমতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সেই
ক্ষোভের কথা পৌঁছে দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। আর তাই এই ক্ষোভ
প্রশমনের জন্যই ১০-১২ আগষ্টের মধ্যে সুবিধামত সময়ে মমতাকে দিল্লিতে আসার
আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে মমতার সঙ্গে ছিটমহলবাসীর পুর্নবাসন
নিয়ে আলোচনার ফাঁকে তিস্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছিল।
তিস্তা নিয়ে ঢাকা সফরে গিয়েও সবুজ সঙ্কেত দিলেও এখনও আলোচনা শুরু হয় নি।
মমতার মতে, তিস্তা চুক্তি হলে উত্তরবঙ্গে পানি সঙ্কট দেখা দেবে। তবে মমতাকে
বোঝাতে মোদী অবশ্য উত্তরবঙ্গেও জন্য বড় অঙ্কেও আর্থিক প্যাকেজ দেবার কথা
ভেবেছেন। যাতে তিস্তা চুক্তির ফলে পশ্চিমবঙ্গ কোনও সঙ্কটে না পড়ে। কিন্তু
রোববার নবান্নে মমতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে আলোচনায়
তিস্তা নিয়ে কোনও কথা হবে না। তিনি পুর্নবাসনের অঙ্ক নিয়েই আলোচনা করবেন।
বাংলাদেশের ছিটমহলগুলি থেকে আসা মানুষের পুর্নবাসনে অনেকদিন আগেই
পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৪ হাজার কোটি রুপি দাবি করেছিল। তখন ধারণা করা হয়েছিল
বাংলাদেশ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ ভারতে আসবে। তবে ভারত সরকার প্রতিশ্র“তি
দিয়েছিল ৩০০৮ কোটি দেবার। এখন মাত্র এক হাজার মানুষ এবারে আসার জন্য অপশন
দেয়ায় ভারত সরকার সেই অর্থ কমিয়ে ৫০ কোটি রুপি করার কথা জানানোতেই তৈরি
হয়েছে বিতর্ক। কেন্দ্রের যুক্তি, মাথাপিছু ৫ লক্ষ রুপি দিলে একহাজার জনের
জন্য ৫০ কোটির বেশি প্রয়োজন হবে না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতে,
ছিটমহলের পরিকাঠামো উন্নয়ন, ব্রীজ তৈরি ও অন্যান্য উন্নয়ন কাজের জন্য অনেক
অর্থ প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য বিষয়টি নিযে বিবাদ তৈরি হওয়া আগেই একটা
সমঝোতা করার লক্ষ্যে মমতাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। তার আরেকটি লক্ষ্য এই ক্ষতে
প্রলেপ দেবার পাশাপাশি তিস্তা নিয়ে জট খোলার রাস্তা তৈরি। কিন্তু মমতা সাফ
না বলে দেয়ায় তিস্তা নিয়ে আলোচনা ফেল বিশ বাঁও জলে চলে গেল বলে মনে করা
হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment