Monday, August 10, 2015

দ্বীপের মানুষের ভরসা কমিউনিটি ক্লিনিক: মাতারবাড়ীতে সাত মাসে সেবা নিয়েছেন ১৫ হাজার মানুষ by রুহুল বয়ান

মহেশখালীর মাতারবাড়ী ইউনিয়নের সাইরারডেইল
কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের
ভিড়। গত বুধবার সকাল ১০টার চিত্র -প্রথম আলো
‘কমিউনিটি ক্লিনিক আমাদের বড় ভরসার জায়গা। চিকিৎসা পাই, সঙ্গে ওষুধও। আগে তো অসুখ হলে ওষুধের দোকানদার যা বলত তা করতাম। এখন গ্রামের মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকমুখী।’ কথাগুলো বলেন বছর চল্লিশের গৃহবধূ নূর আয়েশা। তিন বছরের শিশু রহিমার জ্বরের চিকিৎসা করাতে এসেছে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের সাইরারডেইল কমিউনিটি ক্লিনিকে। নূর আয়েশার মতো মাতারবাড়ীর হাজারো দ্বীপবাসীর ভরসা এখন কমিউনিটি ক্লিনিক। গত সাত মাসে এখানকার চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা নিয়েছেন অন্তত ১৫ হাজার মানুষ।
৫ আগস্ট সকাল ১০টায় সাইরারডেইল এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, শ খানেক রোগীর লম্বা লাইন। ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্লিনিকে দায়িত্বরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ফরিদা ইয়াছমিন। একই চিত্র দেখা যায় মাইজপাড়া, মনহাজিরপাড়া ও সিকদারপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকেও।
ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার মধ্যে স্থানীয় লোকজনকে জ্বর, কাশি, সর্দি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে সেবাসহ বিনা মূল্যে ওষুধপত্র দেওয়া হয়। এখানে দিনে ৫০ থেকে ১০০ রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর অনুপাতে বরাদ্দ করা ওষুধ কম।
সিকদারপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি এনামুল হক বলেন, আগে স্থানীয় লোকজন হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যেত। এখন মানুষ সচেতন। তারা আসে কমিউনিটি ক্লিনিকে।
উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রামগঞ্জের ও দুর্গম এলাকার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারা দেশের ন্যায় ২০০৯ সালের জুলাই মাস থেকে মহেশখালীতে ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে। পরে উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা ও মাতারবাড়ী ইউনিয়নের সাইরারডেইল এলাকায় আরও দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে মাতারবাড়ীতে সাইরারডেইল, মাইজপাড়া, মনহাজিরপাড়া ও সিকদারপাড়ার চারটি কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
মাতারবাড়ী ইউনিয়নে সহকারী স্বাস্থ্যপরিদর্শক মাহফুজ উল্লাহ আনচারী বলেন, শুরুতেই চার ক্লিনিকে প্রতি মাসে এক হাজার মানুষ সেবা নিলেও এখন দুই হাজারের বেশি মানুষ সেবা নিচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সাত মাসে চার ক্লিনিক থেকে সেবা নিয়েছে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুচিন্ত চৌধুরী বলেন, দুর্গম এলাকা মাতারবাড়ীতে চারটি কমিউনিটি ক্লিনিকে কার্যক্রম বেশ ভালো চলছে। স্থানীয় লোকজন সহজেই প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাসহ বিনা মূল্যে ওষুধপত্র পাচ্ছে।

No comments:

Post a Comment