Monday, August 10, 2015

ঠিকানা পায়নি, ১৩ জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীকে অব্যাহতির সুপারিশ! by গাজী ফিরোজ

নাম ও দলীয় পরিচয় দিয়ে জামায়াত-শিবিরের ৬৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও গুলি লুটের অভিযোগে মামলা করেছিল পুলিশ। আড়াই বছর তদন্ত শেষে দেওয়া অভিযোগপত্রে পুলিশ বলছে, ‘সবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য–প্রমাণ পাওয়া গেছে, তবে ১৩ জনের ঠিকানা না পাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হোক।’ পুলিশের এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর পাঁচলাইশ থানাধীন বিপণিবিতান সানমার ওশান সিটির সামনে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের মিছিল থেকে হামলা হয় পুলিশবাহী গাড়িতে। ওই সময় বায়েজিদ বোস্তামী থানার গাড়িটি দামপাড়া পুলিশ লাইন পেট্রলপাম্পে তেল আনতে যাচ্ছিল। হামলাকারীদের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। নুরুল ইসলাম নামের আনসার সদস্যের ২০ রাউন্ড রাইফেলের গুলিও লুটের অভিযোগ আনা হয়।
এই ঘটনায় ওই দিন রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাছির উদ্দীন বাদী হয়ে বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারায় পাঁচলাইশ থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত করেন পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকরাম হোসেন।
তদন্ত শেষে হালিশহর থানায় সদ্য বদলি হওয়া এসআই আকরাম হোসেন ৬৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি অভিযোগপত্র জমা দেন গত জুন মাসে। ১৩ জনের নাম ঠিকানা না পাওয়ায় তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ১১ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আকরাম হোসেন বলেন, মামলার এজাহারে ১৩ আসামির নাম ও দলীয় পদবি থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা সংগ্রহ করা যায়নি। তাই তাঁদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। ঠিকানা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। আড়াই বছর তদন্ত করে আসামির ঠিকানা না পাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেছি।’
চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, এজাহারে নাম ও দলীয় পরিচয় ছিল। তাহলে আড়াই বছর পুলিশ কী তদন্ত করল? তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পেলে কাউকে বাদ দেওয়া ভিন্ন বিষয়। কিন্তু এই মামলায় একদিকে পুলিশ বলছে, সাক্ষ্য–প্রমাণ পেয়েছে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে। আবার বলছে, নাম–ঠিকানা না পাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হোক। এটি স্ববিরোধী বক্তব্য। বিষয়টি তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। আড়াই বছরে লুট হওয়া ২০টি গুলিও উদ্ধার করতে পারেনি। তাই পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দিয়ে পুনরায় তদন্তের জন্য পাঠাতে আবেদন জানানো হবে।
এদিকে গত ২৯ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. শাহেনূরের আদালতে অভিযোগপত্র দুটি গ্রহণের শুনানির দিন ধার্য থাকলেও শুনানি হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষ এ অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করতে সময়ের আবেদন করে। পরে আদালত ২০ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য রাখেন।
অভিযোগপত্রে দেখা গেছে, ৬৩ আসামির সবাই নগর জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী। তাঁদের মধ্যে নগর জামায়াতের আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য শাহাজাহান চৌধুরী, নগর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল নজরুল ইসলাম, নগর জামায়াতের শুরা সদস্য শামসুজ্জামান হেলালী ও চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আ ন ম মশরুর হোসাইন রয়েছেন।
পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও গুলি লুটের কথা অস্বীকার করে মামলার আসামি ও নগর জামায়াতের শুরা সদস্য শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াত-শিবির মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অংশ নেওয়া নেতা-কর্মী যে যার মতো পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে যায়। এ সুযোগে কিছু উচ্ছৃঙ্খল জনতা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছে। জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে পুলিশ তাদের মামলায় জড়িয়েছে।
অভিযোগপত্র থেকে পুলিশের অব্যাহতির সুপারিশ করা ১৩ জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মী হলেন নগর জামায়াতের নেতা খায়রুল বাশার, ডবলমুরিং থানা জামায়াতের রুকন ছালেহ আহম্মদ, ডবলমুরিং থানা জামায়াতের শুরা সদস্য মো. শহিদুল্লাহ, ছাত্রশিবির কোতোয়ািল থানার সভাপতি মো. আমিন, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাজাহারুল হোসেন, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম, নগর শাখার ছাত্রকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মো. আজিজ, চটগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি নুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক তারেক হোসেন, উত্তর জেলার সদস্য মো. সোহেল, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ও নগর জামায়াতের আমিরের দেহরক্ষী মো. দিদার।

No comments:

Post a Comment