Monday, September 14, 2015

মহেশখালীতে দূর্নীতি স্থায়ী করতে মরিয়া অধ্যক্ষ ছলিম উল্লাহ ।

মহেশখালীতে দূর্নীতি স্থায়ী করতে মরিয়া অধ্যক্ষ ছলিম উল্লাহ ।
শহীদুল ইসলাম কাজল, মহেশখালী(কক্সবাজার)প্রতিনিধি
           মহেশখালীর কালারমারছড়া মঈনুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ ছলিম উল্লাহ’র বিরুদ্ধে পারিবারিক কমিটি গঠন, মাদ্রাসার জায়গা, গাছবিক্রি নগদ তহবিল আত্মসাৎ সহ যাবতীয় অনিয়মের তদন্ত ও মাদ্রাসায় নির্বাচিত পরিচালনা কমিটির দাবীতে বিগত ৩১ আগষ্ট/১৪ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক কক্সবাজার, ২৫ সেপ্টেম্বর/১৪ ইং তারিখে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর সচেতন মহল। গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ দেওয়া সত্বেও টাকার বিনিময়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর/১৪ ইং তারিখে বিতর্কিত কমিটির অনুমোদন নিয়ে শুরু করেছেন রামরাজত্ব। পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য, কালারমারছড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মাষ্টার বশির আহমদ জানান, অনিয়মের মূল হুতা দূর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মাওঃ ছলিম উল্লাহ চাকরীর শেষ সময়ে এসে তার ছেলে মাওঃ মুবিনুল হক’কে সহকারী সুপার পদে নিয়োগের জন্য নিয়ম বর্হিভূতভাবে গঠিত পকেট কমিটির মাধ্যমে তড়িগড়ি করে নিয়োগ বাণিজ্যের জন্য জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ০২ সেপ্টেম্বর নয়াদিগন্ত পত্রিকায় শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ইতোমধ্যে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দানের জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আবেদন কারীদের যোগাযোগের ঠিকানা অধ্যক্ষ বরাবর হওয়ায় পছন্দের প্রার্থী দিয়ে করে থাকেন নিয়োগ পরীক্ষা। ফলে যোগ্য অভিজ্ঞ প্রার্থীরা আবেদন করেও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়নি অনেক সময়। ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের মাওঃ খাইরুল আমিন জানন, তিনি বিগত ২০১৩ সালে মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার নিয়োগ পাওয়ার জন্য আবেদন করেও পরীক্ষার প্রবেশ পত্র দেয়নি অধ্যক্ষ ছলিম উল্লাহ। প্রবেশ প্রত্রের জন্য যোগাযোগ করলে আবেদন পত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানান। তবে কি কারনে বাতিল করা হয়েছে জানতে চাইলে জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন অধ্যক্ষ। বর্তমানে গঠিত কমিটির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা সত্বেও মাওঃ ছলিম উল্লাহ মোটা অংকের টাকায় সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ স্থাণীয়দের। নাম প্রকাশে অনিশ্চুক মাদ্রাসার এক শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন মাদ্রাসায় সহ-সুপারের পদ শূন্য থাকলেও ইতিপূর্বে নিয়োগের কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কাল ক্ষেপনের পর অধ্যক্ষের ছেলে মাওঃ মুবিনুল হক’কে নিয়োগের জন্য পছন্দ মতো সাজাঁনো প্রার্থী দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার পাঁয়তারা করে যাচ্ছেন। ছেলেকে নিয়োগের মিশনে সফল হলে সাদ্রাসায় পারিবারিক দূর্নীতি স্থায়ী হতে পারে বলে আশংখা সচেতন মহলের। অভিযোগ উঠেছে, মাদ্রাসার বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ বিক্রি, নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ আনোয়ারুল নাছের কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় দূর্নীতি অনিয়মের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে বলে জানান মাদ্রাসার ভুমি দাতার ছেলে মাষ্টার আব্দুল গফুর। প্রতি বারই অনিয়ম দূর্নীতি করলেও তেমন কোন জবাব দিহিতার সম্মূখিন না হওয়ায় বীরদর্পে প্রকাশ্যে চলছে লুটপাটের প্রতিযোগিতা। জেলা মুক্তি যোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন থেকে অধ্যক্ষ ছলিম উল্লাহ’র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারনে তদন্ত কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এছাড়া জেডিসি ও দাখিল পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ছেলে মাওঃ মুবিনুল হক ও ভাগিনা মাওঃ কফিল উদ্দিনের মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীদের পাশ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরীক্ষা হলে নোট সরবরাহ করে থাকেন বলে জানান মাদ্রাসা পড়ুয়া একাধিক শিক্ষার্থী।সরেজমিনে গিয়ে এলাকার প্রবীন ব্যক্তি ও শিানুরাগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এলাকার শিানুরাগী মৃত সোলতান আহমদ মাদ্রাসার নামে ৪০ শতক  জায়গা দান করেন। উক্ত জায়গা ১৯৯২ সালে ধলঘাট থেকে আগত হাজী আবু জাফর, হাজী গুনু বহদ্দারের নিকট বিক্রি করে দেন মাদ্রাসার জায়গা অধ্য মাওলানা ছলিম উল্লাহ। এছাড়া মাদ্রাসার দু শিক মাওঃ মফিজুর রহমান, মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইন ও মৃত আবু ছৈয়দকে মাদ্রাসার প্রায় (৫) কানি জায়গা বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সমস্ত অনিয়মের মূলে ছিল তৎকালীন সময়ের একান্ত আস্থাবাজন ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটির নামে তথাকথিত পকেট কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে দায়িত্বে অবহেলা। জানা যায়, এ ধরনের পকেট কমিটি করে মাদ্রাসার ধনসম্পদ আত্মসাতে রের্কড সৃষ্টিকারী মাওঃ ছলিম উল্লাহ বেপরোয়াভাবে মাদ্রাসার সম্পদ আত্মসাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন, নির্বাচিত কমিটির দাবীতে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও দীর্ঘ সময়ে কোন তদন্ত শুরু না হওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে অভিযোগকারীদের মধ্যে। মাদ্রাসা সংশিষ্টদের ম্যানেজ করে অতীতে অনিয়ম করেও পার পেয়ে যাওয়ায় নিয়ম বর্হিভূতভাবে মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি ও নামে বেনামে টাকা আদায় করে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। গত ২৫ সেপ্টেম্বর/১৪ ইং তারখে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দেওয়া সত্বেও কিভাবে ৩০ সেপ্টেম্বর ঐ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হল এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) মোঃ আশরাফুজ্জামান জানান- অভিযোগের তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসক কক্সবাজার’কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাঁচ দিন পর মোটা অংকের টাকায় তড়িগড়ি করে কমিটি অনুমোদন নিয়ে নেয় অধ্যক্ষ। বোর্ড কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কর্মকান্ডে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে শিক্ষানুরাগী মহলের কাছে। অন্যদিকে অধ্যক্ষের অনিয়মের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর বিগত ৩০ আগষ্ট /১৪ ইং তারিখে অভিযোগ দিলেও এখনো দেখা মিলিনি তদন্ত কর্মকর্তার। ফলে এ সুযোগে বিতর্কিত কমিটি দিয়ে ছেলেকে নিয়োগ দানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মাওঃ ছলিম উল্লাহ। এ নিয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ারুল নাছের জানান, অভিযোগের তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ নোমান হোসেন’কে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ নোমান হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি জানান, ব্যবস্তার কারনে এতদিন তদন্ত কাজ শেষ করা যায়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তদন্তের কাজ শেষ করা হবে। এলাকার শিক্ষানুরাগী মহল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানান।

No comments:

Post a Comment