Tuesday, October 13, 2015

শিশু নির্যাতন বরদাশত করা হবে না -শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০১৫ উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল
বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার
সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য
দেন l ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোর দিয়ে বলেছেন, শিশু গৃহকর্মীদের নির্যাতন এবং কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োগ সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। সরকার কোনো ধরনের শিশু নিপীড়ন বরদাশত করবে না।
গতকাল রোববার রাজধানীতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলনায়তনে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ, ২০১৫ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
‘শিশু গড়বে দেশ, যদি পায় পরিবেশ’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে গতকাল বিশ্ব শিশু দিবস পালিত হয়।
প্রতিটি পথশিশুর খাদ্য, আশ্রয় এবং শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো শিশু রাস্তায় জীবনযাপন করবে না। আমরা ১৬ কোটি লোকের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। তাই প্রায় ৩৪ লাখ পথশিশুকে খাওয়ানোর সক্ষমতাও সরকারের রয়েছে।’
প্রতিটি শিশুকে তাদের এলাকার স্কুলে ভর্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা যে এলাকায় বাস করে, সেখানকার স্কুলগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া তাদের অধিকার। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, শিক্ষা যেন শিশুর জন্য বোঝা না হয়। স্কুলগুলোতে ও পরিবারে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা নিজেরা শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবে এবং পড়াশোনায় উৎসাহ বোধ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সরকারের দায়িত্ব। কারণ, তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশকে নেতৃত্ব দেবে। পাশাপাশি প্রতিটি শিশুকে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে হবে। দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস না জানলে আগামী প্রজন্ম জীবনসংগ্রামে জয়ী হতে অনুপ্রাণিত হবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার প্রতিটি শিশুর খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি এবং মায়েদের পুষ্টির ওপর বিশেষ নজর দিয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমছে। নবজাত শিশুরা যাতে বেশি দিন মায়ের যত্ন পেতে পারে এ লক্ষ্যে কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় সেক্টরের প্রতিটি অফিসে দিবাযত্ন কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শিশুদের যথাযথ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নগরের অনেক শিশু খামারের মুরগির বাচ্চার মতো বদ্ধ পরিবেশে বড় হচ্ছে। সব শিশুর খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য প্রতিটি ফ্ল্যাটবাড়ি ও আবাসিক এলাকায় খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রাখতে হবে।
প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা তাঁর সরকারের রয়েছে।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফের আবাসিক প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেইগবিডার। বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

No comments:

Post a Comment