প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিদেশিদের যারা খুন করেছে, তাদের খুঁজে বের করবই।
বিচারও করব। দেশের ভাবমূর্তি যারা ক্ষুণ্ন করছে, যারা জঙ্গিবাদের মদদ
দিচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ ও আইসিটি পুরস্কার পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে এ সংবর্ধনা দেয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। খবর বাসসের।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ যখনই বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে চায়, বাংলার মানুষ যখনই মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়, তখনই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে সময় আমাদের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে পুরস্কৃত করছে, ঠিক তখনই দুজন বিদেশিকে হত্যা করা হলো। এগুলো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’
বাঙালি জাতিকে দাবায়া রাখতে পারবা না—বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের এ উদ্ধৃতি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ তার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে মাথা উঁচু করে চলবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এই ধরিত্রীর অতি উষ্ণায়ন এবং বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত উন্নত দেশগুলোই দায়ী। বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশের তেমন কোনো দায় নেই। কিন্তু আমাদেরকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কারও মুখের দিকে তাকিয়ে থাকিনি। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ‘‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’’ গঠন করেছি। বিগত পাঁচ বছরে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
পরিবেশ রক্ষায় ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতি সম্প্রদায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সময় পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়গুলো যথাযথভাবে পালন করলে সরকারের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায়।’
শিল্প-কারখানার জন্য জমি কেনার সময় কৃষিজমি, জলাধার ও পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, ব্যবসায়ীদের সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরাই বন্যা, খরা এবং লবণাক্ততা সহিষ্ণু বেশ কয়েক প্রকারের ফসলের জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। যেগুলো বিরূপ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ফলন দিতে সক্ষম।’
দুটি পুরস্কার নিঃসন্দেহে তাঁর এবং দেশবাসীর জন্য গর্বের বিষয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পুরস্কারপ্রাপ্তি সমন্বিতভাবে টেকসই উন্নয়নচর্চায় আমাদের দায়িত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের এমন কিছু করা চলবে না, যা দেশের ক্ষতি করে। আমাদের নদীনালা, খালবিল, জলাভূমি এবং বাস্তুতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে হবে। বনভূমি, জীববৈচিত্র্য এবং বন্য প্রাণিসম্পদকে ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না।’
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পথ তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক পরিবেশ মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ভারত, ভুটান ও নেপালকে নিয়ে চার দেশের যোগাযোগব্যবস্থা এবং চীনকে নিয়ে বাণিজ্যিক অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে।
সরকার দারিদ্র্যের হার হ্রাস করতে পেরেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য নির্মূল করতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করতে পারেন, এ জন্য সরকার বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে এ খাত উন্মুক্ত করে দিয়েছে। দেশে সুদের হার বেশি উল্লেখ করে তিনি ব্যবসায়ীদের টাকা নিজ দেশে রাখার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন।
আওয়ামী লীগ ব্যবসাবান্ধব উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ দল ব্যবসা করে না, তবে ব্যবসা করার পরিবেশ তৈরি করে দেয়। বর্তমান সরকার মুদ্রাস্ফীতি ৬-এর ঘরে রেখেছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। স্বাগত বক্তৃতা দেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাতলুব আহমাদ। আরও বক্তৃতা করেন সংগঠনটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ, প্রথম সহসভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও সহসভাপতি মাহবুবুল আলম প্রমুখ।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ ও আইসিটি পুরস্কার পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে এ সংবর্ধনা দেয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। খবর বাসসের।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ যখনই বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে চায়, বাংলার মানুষ যখনই মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়, তখনই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে সময় আমাদের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে পুরস্কৃত করছে, ঠিক তখনই দুজন বিদেশিকে হত্যা করা হলো। এগুলো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’
বাঙালি জাতিকে দাবায়া রাখতে পারবা না—বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের এ উদ্ধৃতি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাংলাদেশ তার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে মাথা উঁচু করে চলবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এই ধরিত্রীর অতি উষ্ণায়ন এবং বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত উন্নত দেশগুলোই দায়ী। বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশের তেমন কোনো দায় নেই। কিন্তু আমাদেরকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কারও মুখের দিকে তাকিয়ে থাকিনি। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ‘‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’’ গঠন করেছি। বিগত পাঁচ বছরে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
পরিবেশ রক্ষায় ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতি সম্প্রদায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সময় পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়গুলো যথাযথভাবে পালন করলে সরকারের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায়।’
শিল্প-কারখানার জন্য জমি কেনার সময় কৃষিজমি, জলাধার ও পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, ব্যবসায়ীদের সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরাই বন্যা, খরা এবং লবণাক্ততা সহিষ্ণু বেশ কয়েক প্রকারের ফসলের জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। যেগুলো বিরূপ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ফলন দিতে সক্ষম।’
দুটি পুরস্কার নিঃসন্দেহে তাঁর এবং দেশবাসীর জন্য গর্বের বিষয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পুরস্কারপ্রাপ্তি সমন্বিতভাবে টেকসই উন্নয়নচর্চায় আমাদের দায়িত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের এমন কিছু করা চলবে না, যা দেশের ক্ষতি করে। আমাদের নদীনালা, খালবিল, জলাভূমি এবং বাস্তুতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে হবে। বনভূমি, জীববৈচিত্র্য এবং বন্য প্রাণিসম্পদকে ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না।’
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পথ তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক পরিবেশ মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ভারত, ভুটান ও নেপালকে নিয়ে চার দেশের যোগাযোগব্যবস্থা এবং চীনকে নিয়ে বাণিজ্যিক অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে।
সরকার দারিদ্র্যের হার হ্রাস করতে পেরেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য নির্মূল করতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করতে পারেন, এ জন্য সরকার বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে এ খাত উন্মুক্ত করে দিয়েছে। দেশে সুদের হার বেশি উল্লেখ করে তিনি ব্যবসায়ীদের টাকা নিজ দেশে রাখার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন।
আওয়ামী লীগ ব্যবসাবান্ধব উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ দল ব্যবসা করে না, তবে ব্যবসা করার পরিবেশ তৈরি করে দেয়। বর্তমান সরকার মুদ্রাস্ফীতি ৬-এর ঘরে রেখেছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। স্বাগত বক্তৃতা দেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাতলুব আহমাদ। আরও বক্তৃতা করেন সংগঠনটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ, প্রথম সহসভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও সহসভাপতি মাহবুবুল আলম প্রমুখ।

No comments:
Post a Comment