Tuesday, October 13, 2015

চট্টগ্রামে যুবলীগ ছাত্রলীগের অস্ত্র হাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি এলাকায় ফের যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর এবং ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে এ ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয়পক্ষের কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্রসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ উভয়পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে এ ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুরে বাবরের অনুসারীরা সিআরবি সাতরাস্তা মোড়ের গোয়ালপাড়া সংলগ্ন অংশে সমবেত হয়। সেখানে তারা একটি সমাবেশ করে। এ সময় আটমাসিং সড়ক দিয়ে মিছিল নিয়ে আসতে থাকে লিমনের অনুসারীরা। মিছিলটি সমাবেশের দিকে এগিয়ে আসতেই উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষে নেতাকর্মীদের কাছেই লাঠিসোটা, কিরিচ, রামদা চাপাতি সহ আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে পুলিশ মাঝখানে অবস্থান নিয়ে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশ চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলে জানা গেছে। ফাঁকাগুলির পাশাপাশি পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়ে। এতে উভয়পক্ষ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালীন পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। পুলিশ ও বিবদমান দু’পক্ষের গোলাগুলিতে পুরো এলাকা যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এর আগেও এ দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একই এলাকায় দুজন নিহত হয়েছিলেন। ফলে এলাকাবাসী ছিলেন উৎকণ্ঠায়।
এ বিষয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন জানান, ‘আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বাবর ও লিমন গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা মাঝখানে অবস্থান নিয়ে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি।’
জানা যায়, হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-অর্থ সম্পাদক। আর সাইফুল ইসলাম লিমন ছাত্রলীগে গত কমিটির বহিষ্কৃত নেতা। এর আগেও এই দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে সিআরবি এলাকায় সংঘর্ষে ২০১৩ সালের ২৪শে জুন দুইজন নিহত হন। এদের মধ্যে একজন ৮ বছরের শিশু আরমান হোসেন টুটুল। অপরজন যুবলীগ কর্মী সাজু পালিত। ৪৮ লাখ টাকার দরপত্র জমা দেয়া নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ওই ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় বাবর লিমনসহ উভয়পক্ষের ৮৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে পুলিশ চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাবর লিমন সহ ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সবাই জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়।
এদিকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ ঘটেছে বলা হলেও ধারণা করা হচ্ছে উভয় পক্ষ শক্তি প্রদর্শনে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতেও রেলওয়ের দরপত্র দখলে নিজেদের শক্তির মহড়া দিয়েছে দুই পক্ষ।

No comments:

Post a Comment