প্রাকৃতিক
সম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশের ‘অসাধারণ অগ্রগতি’র প্রশংসা করে ঢাকাস্থ মার্কিন
রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট বলেছেন, এখনও দেশের ৩ কোটি মানুষ চরম
দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। তাদের বেশির ভাগই তিন বেলা খাবার অথবা
পুষ্টিকর খাবার পায় না। ওই দুর্বল মানুষগুলোর পরিবারের সদস্যরা শিক্ষা বা
স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ পায় না, উল্টো লগ্নি ব্যবসায়ী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে
ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকে। বাংলাদেশে ‘চরম দারিদ্র্য’ নির্মূল করতে এবং এখানে
একটি গণতান্ত্রিক, সহিষ্ণু সমপ্রদায়ের প্রসারে স্বাধীনতার পর থেকে
যুক্তরাষ্ট্র সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গতকাল
ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে ‘এনহ্যান্সড কোস্টাল ফিশারিজ ইন বাংলাদেশ (ইকোফিশ)’
শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনীতে দেয়া বক্তৃতায় রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ সাইদুল হক। সেখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন,
‘গত দুই দশকে বাংলাদেশ তার নাগরিকদের সুবিধার জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নে
অসাধারণ অগ্রগতি করেছে। ১৯৯৭ সাল থেকে বন, জলাভূমি, সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ
রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকার অংশীদার হয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশের
উন্নয়ন বিশেষ করে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইলিশের
উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন,
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ প্রায় ২০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানে একটি
গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করে। যার অর্থনৈতিক মূল্য বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও
ভারতে ২০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশে ইলিশ মাছ উৎপাদন মোট দেশজ আয়ের ১ দশমিক ৫
শতাংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। উপকূলীয় এলাকার জন্য ওই প্রকল্পের বিষয়ে
রাষ্ট্রদূত বলেন- দেড় কোটি ডলার আর্থিক সহায়তায় পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি
ওয়ার্ল্ড ফিশ ও বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করবে। এটি উপকূলীয়
মৎস্যজীবী সমপ্রদায়ের সহিষ্ণুতা উন্নয়নে কাজ করবে। মৎস্য চাষের পরিবর্তনশীল
সহ-ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ইলিশ মাছ শিকারি জেলেদের
সহিষ্ণুতাও বৃদ্ধি করবে। বাংলাদেশ সরকারের ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির সাফল্যের
ওপর ওই প্রকল্প নির্ভর করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কীভাবে নির্দিষ্ট মৎস্য
অভয়াশ্রম এবং সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকার ব্যবস্থাপনা করতে হয় সে বিষয়ে
ইকোফিশ প্রকল্প বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে স্থানীয় সমপ্রদায়কে উপদেশ দেবে। এটি
মৎস্যচাষি সমপ্রদায়ের আর্থসামাজিক দুর্বলতাকে চিহ্নিত করবে, অতিদরিদ্র
নারীদের জন্য সঞ্চয়ী হিসাব স্থাপন, নারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প আয়ের
সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করবে। ইলিশ সংরক্ষণ তহবিল স্থাপনে ইকোফিশ প্রকল্প
সাহায্য করবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment