একটা দলের বয়স ৯৫ বছর। অন্য দলটির ৭৯। ঐতিহ্যের সঙ্গে ঐতিহ্যের মহারণ!
প্রায় শতাব্দী প্রাচীন ইস্টবেঙ্গল এই উপমহাদেশের ১৩৬টি ট্রফি জয়ের গৌরবধারী। ঢাকা মোহামেডানও আভিজাত্যের ঝান্ডা হাতে এই অঞ্চলের ফুটবলে বড় শক্তি।
সমৃদ্ধ অতীতের পতাকাবাহী দুটি দলের দ্বৈরথ ফুটবল তৃষ্ণার্তদের জন্য রোমাঞ্চকরই। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে তাই আজ শেখ কামাল ক্লাব কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালটা আকর্ষণীয় এক লড়াই দেখারই আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। সর্বশেষ দুদলের সাক্ষাৎ ১৯৯৬ সালে ঢাকায় প্রথম বঙ্গবন্ধু কাপে, মোহামেডানের জয় ৩-১ গোলে। নব্বইয়ের শুরুর দিকে দিল্লির ডুরান্ড কাপে ইস্টবেঙ্গলের কাছে সাদাকালোর দুই গোলে হারের প্রতিশোধও ছিল ওই জয়।
১৯ বছর পর আজ দুদলের ভাবনায় শুধুই ফাইনাল। ইস্টবেঙ্গল কলকাতা থেকে কাল সকালে চট্টগ্রামে উড়িয়ে এনেছে দক্ষিণ কোরিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেলা আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার ডু ডং হাইয়ুনকে। এই টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচেই যিনি চোট পেয়ে কলকাতা ফিরে চিকিৎসা নিয়েছেন। বিকেলে দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে দলের অনুশীলন দেখতে দেখতে ইস্টবেঙ্গল দলনেতা স্বপন বলের কণ্ঠে আশাবাদ, ‘এই ছেলেটা দেখবেন সেমিফাইনালটা খেলে দেবে।’
ডু ডং কে নিয়ে ইস্টবেঙ্গল শিবির বেশ উচ্ছ্বসিত। অন্য এক কর্মকর্তা নিজের মুঠোফোনে সর্বশেষ কলকাতা ডার্বিতে মোহনবাগানকে চার গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়া ইস্টবেঙ্গলের জয়ে ডু ডংয়ের গোল দুটি দেখাচ্ছিলেন। বাঁ পায়ের বাঁকানো ফ্রিকিকে সেই দুর্দান্ত দুটি গোল করা ডুডং এবার কলকাতা লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১০) হয়ে ইস্টবেঙ্গলকে করেছেন চ্যাম্পিয়নও। অস্ট্রেলিয়ান লিগে ব্রিসবেন রোয়ার ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ডু ডং আজ মোহামেডানের জন্য বড় বিপৎসংকেত।
ইস্টবেঙ্গলের মূল দলের ১৪ জন চলে গেছেন আইএসএলে, এই সুযোগে তরুণেরা মাঠে উজাড় করে দিচ্ছেন নিজেদের। গোলরক্ষক দিব্যেন্দু আস্থার প্রতীক। উইংয়ে নবীন অবিনাশ কাঁপিয়ে দিচ্ছেন প্রতিপক্ষকে। প্রহ্লাদ রায়ের ডিফেন্স ভাঙার ক্ষমতাও ঢাকার পরাশক্তির জন্য একটা হুমকি।
কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য এই নবীনদের খেলায় খুব খুশি। তাদের ওপর আস্থা রাখছেন সেমিফাইনালেও, ‘ওরা ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে খেলছে, দলকে সেমিফাইনালে তুলে এখন আশা করি ফাইনালেও নিয়ে যাবে।’ অধিনায়ক দিপক মণ্ডলও আছেন একই আশায়, ‘যেভাবে তিনটি ম্যাচ খেলেছি, সেভাবে খেলেই আমরা ফাইনালে যেতে চাই।’
ফাইনালে ওঠার ব্যাকুলতা ঢাকা মোহামেডানের আরও বেশি। ঘরের দল বলে কথা! কোচ জোসিমউদ্দিন জোসির ভাষায়, ‘মাঠে মোহামেডান খেলবে না, খেলবে গোটা বাংলাদেশ। দুই বাংলার লড়াই ছাপিয়ে এটি আসলে দুই দেশের লড়াই।’ আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক অরূপ বৈদ্য তাই জিততে মরিয়া, ‘ইস্টবেঙ্গল ভালো দল, তবে ওদের হারানোর ক্ষমতা আমাদের আছে।’
আন্তর্জাতিক ক্লাব টুর্নামেন্টে মোহামেডান খেলছে ১০ বছর পর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘরোয়া লিগে যেমন তেমন, যেকোনো টুর্নামেন্টে সাদাকালোদের চেহারা বারবরই অন্য রকম। এটাই তাদের বড় মানসিক শক্তি। কিন্তু এই মোহামেডান চোট-অসুস্থতায় জর্জরিত। উইঙ্গার জুয়েল রানার জন্ডিস। প্রথম ম্যাচে আঘাত পাওয়া মিডফিল্ডার সোহেল রানার মাথায় পড়েছে ১২টি সেলাই। মোবারক, ইব্রাহিমের জ্বর। বিপুলের চোখে সমস্যা। সব মিলিয়ে দলের সাতজনই ফিট নন। তারপরও মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে যুদ্ধ জয়ে ঝাঁপাবে মোহামেডান।
জোসির কাছে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, দুবাই থেকে শুভকামনা জানিয়ে ফোন আসছে। ঢাকায় তাঁর মেয়ে রোজা রাখছেন। মোহামেডানের সাফল্য কামনায় নফল নামাজ আদায় করছেন এক নিকট আত্মীয়। এসবই তাঁর কাছে বড় অনুপ্রেরণা। সবাইকে খুশি করতে দেশবাসীর কোছে দোয়াও চাইলেন আলাদা করে।
মর্যাদার লড়াইয়ে এত মানুষের এত প্রার্থনা বৃথা যাবে? হতেই পারে না!
প্রায় শতাব্দী প্রাচীন ইস্টবেঙ্গল এই উপমহাদেশের ১৩৬টি ট্রফি জয়ের গৌরবধারী। ঢাকা মোহামেডানও আভিজাত্যের ঝান্ডা হাতে এই অঞ্চলের ফুটবলে বড় শক্তি।
সমৃদ্ধ অতীতের পতাকাবাহী দুটি দলের দ্বৈরথ ফুটবল তৃষ্ণার্তদের জন্য রোমাঞ্চকরই। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে তাই আজ শেখ কামাল ক্লাব কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালটা আকর্ষণীয় এক লড়াই দেখারই আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। সর্বশেষ দুদলের সাক্ষাৎ ১৯৯৬ সালে ঢাকায় প্রথম বঙ্গবন্ধু কাপে, মোহামেডানের জয় ৩-১ গোলে। নব্বইয়ের শুরুর দিকে দিল্লির ডুরান্ড কাপে ইস্টবেঙ্গলের কাছে সাদাকালোর দুই গোলে হারের প্রতিশোধও ছিল ওই জয়।
১৯ বছর পর আজ দুদলের ভাবনায় শুধুই ফাইনাল। ইস্টবেঙ্গল কলকাতা থেকে কাল সকালে চট্টগ্রামে উড়িয়ে এনেছে দক্ষিণ কোরিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেলা আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার ডু ডং হাইয়ুনকে। এই টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচেই যিনি চোট পেয়ে কলকাতা ফিরে চিকিৎসা নিয়েছেন। বিকেলে দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে দলের অনুশীলন দেখতে দেখতে ইস্টবেঙ্গল দলনেতা স্বপন বলের কণ্ঠে আশাবাদ, ‘এই ছেলেটা দেখবেন সেমিফাইনালটা খেলে দেবে।’
ডু ডং কে নিয়ে ইস্টবেঙ্গল শিবির বেশ উচ্ছ্বসিত। অন্য এক কর্মকর্তা নিজের মুঠোফোনে সর্বশেষ কলকাতা ডার্বিতে মোহনবাগানকে চার গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়া ইস্টবেঙ্গলের জয়ে ডু ডংয়ের গোল দুটি দেখাচ্ছিলেন। বাঁ পায়ের বাঁকানো ফ্রিকিকে সেই দুর্দান্ত দুটি গোল করা ডুডং এবার কলকাতা লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১০) হয়ে ইস্টবেঙ্গলকে করেছেন চ্যাম্পিয়নও। অস্ট্রেলিয়ান লিগে ব্রিসবেন রোয়ার ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ডু ডং আজ মোহামেডানের জন্য বড় বিপৎসংকেত।
ইস্টবেঙ্গলের মূল দলের ১৪ জন চলে গেছেন আইএসএলে, এই সুযোগে তরুণেরা মাঠে উজাড় করে দিচ্ছেন নিজেদের। গোলরক্ষক দিব্যেন্দু আস্থার প্রতীক। উইংয়ে নবীন অবিনাশ কাঁপিয়ে দিচ্ছেন প্রতিপক্ষকে। প্রহ্লাদ রায়ের ডিফেন্স ভাঙার ক্ষমতাও ঢাকার পরাশক্তির জন্য একটা হুমকি।
কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য এই নবীনদের খেলায় খুব খুশি। তাদের ওপর আস্থা রাখছেন সেমিফাইনালেও, ‘ওরা ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে খেলছে, দলকে সেমিফাইনালে তুলে এখন আশা করি ফাইনালেও নিয়ে যাবে।’ অধিনায়ক দিপক মণ্ডলও আছেন একই আশায়, ‘যেভাবে তিনটি ম্যাচ খেলেছি, সেভাবে খেলেই আমরা ফাইনালে যেতে চাই।’
ফাইনালে ওঠার ব্যাকুলতা ঢাকা মোহামেডানের আরও বেশি। ঘরের দল বলে কথা! কোচ জোসিমউদ্দিন জোসির ভাষায়, ‘মাঠে মোহামেডান খেলবে না, খেলবে গোটা বাংলাদেশ। দুই বাংলার লড়াই ছাপিয়ে এটি আসলে দুই দেশের লড়াই।’ আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক অরূপ বৈদ্য তাই জিততে মরিয়া, ‘ইস্টবেঙ্গল ভালো দল, তবে ওদের হারানোর ক্ষমতা আমাদের আছে।’
আন্তর্জাতিক ক্লাব টুর্নামেন্টে মোহামেডান খেলছে ১০ বছর পর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘরোয়া লিগে যেমন তেমন, যেকোনো টুর্নামেন্টে সাদাকালোদের চেহারা বারবরই অন্য রকম। এটাই তাদের বড় মানসিক শক্তি। কিন্তু এই মোহামেডান চোট-অসুস্থতায় জর্জরিত। উইঙ্গার জুয়েল রানার জন্ডিস। প্রথম ম্যাচে আঘাত পাওয়া মিডফিল্ডার সোহেল রানার মাথায় পড়েছে ১২টি সেলাই। মোবারক, ইব্রাহিমের জ্বর। বিপুলের চোখে সমস্যা। সব মিলিয়ে দলের সাতজনই ফিট নন। তারপরও মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে যুদ্ধ জয়ে ঝাঁপাবে মোহামেডান।
জোসির কাছে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, দুবাই থেকে শুভকামনা জানিয়ে ফোন আসছে। ঢাকায় তাঁর মেয়ে রোজা রাখছেন। মোহামেডানের সাফল্য কামনায় নফল নামাজ আদায় করছেন এক নিকট আত্মীয়। এসবই তাঁর কাছে বড় অনুপ্রেরণা। সবাইকে খুশি করতে দেশবাসীর কোছে দোয়াও চাইলেন আলাদা করে।
মর্যাদার লড়াইয়ে এত মানুষের এত প্রার্থনা বৃথা যাবে? হতেই পারে না!
![]() |
| এই সেলফি তোলা গত পরশু, চট্টগ্রামে টিম হোটেলের সামনে। আজ ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে ম্যাচ শেষেও জয়ের সেলফিই তুলতে চাইবেন ঢাকা মোহামেডানের খেলোয়াড়েরা l প্রথম আলো |

No comments:
Post a Comment