৩০শে ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগে। তফসিল ঘোষণার পর তোড়জোড় শুরু হয়েছে দলটির তৃণমূলে। দলীয় মনোনয়ন পেতে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ। এদিকে নির্বাচন ঘিরে দলের কর্মকৌশল ঠিক করতে আজ বসছে কার্যনির্বাহী ও পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা। এ সভায় নির্বাচন নিয়ে দলের কৌশল নির্ধারণ করা হবে। এ বৈঠকের পর প্রার্থী মনোনয়নসহ নির্বাচন বিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশনা তৃণমূলে পৌঁছে দেয়া হবে।নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হলেও আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের শরিকরা জোটগত না-কি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। তবে, ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, আপাতত দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এজন্য জেলায় জেলায় ইতিমধ্যে ১৪ দলের শরিক নেতাদের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে যদি জোটগতভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় তাহলে সেভাবেই তারা প্রস্তুতি নেবেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩০শে ডিসেম্বর দেশের মেয়াদোত্তীর্র্ণ ২৩৪টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নতুন বিধি অনুযায়ী এবারই প্রথম দলীয় প্রতীক ও পরিচয়ে পৌরসভা নির্বাচনের ভোটে অংশ নেবেন প্রার্থীরা।আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় নেতা আলাপকালে মানবজমিনকে বলেন, তফসিল ঘোষণা হলেও নির্বাচনী রূপরেখা তৈরি ও প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কি ধরনের পদ্ধতি বা কৌশল অবলম্বন করা হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে, বৃহস্পতিবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকেই এ বিষয়ে নির্বাচনের চূড়ান্ত রূপরেখা ও কৌশল নির্ধারণ করা হবে। নেতারা আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সচরাচর তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। তবে, আগামী পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কি হবে তা বৃহস্পতিবারের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নির্ধারণ করা হতে পারে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকেই পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নূহ-উল-আলম লেনিন মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। তাই আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই নির্বাচনের রূপরেখা, প্রার্থী বাছাইসহ সকল বার্তা তৃণমূলে পৌঁছে যাবে। এ বিষয়ে ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া জোটগত না-কি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়া সে বিষয়েও খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি’র অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি শুধু নয়, সকল বৈধ রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসুক আমরা তাই চাই।আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ মানবজমিনকে বলেন, আওয়ামী সবসময়ই নির্বাচনে বিশ্বাস করে। পৌরসভা নির্বাচন নিয়েও আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচনী গাইডলাইন এখনো নির্ধারণ না হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা নির্ধারণ করা হবে। সেটি ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক বা কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে হতে পারে। তবে, যাই হবে দলের সভানেত্রীর সিদ্ধান্তক্রমেই হবে। পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটগত না এককভাবে অংশ নেবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনের আগে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হবে।দলের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ নতুন গজিয়ে ওঠা দল নয়। এই দল সবসময়ই নির্বাচনে আগ্রহী। বিগত কয়েক বছর ধরেই পৌরসভা নির্বোচন নিয়ে দলের অভ্যন্তরে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। তবে, তফসিলের বিধি-বিধান এখনো হাতে আসেনি। তফসিলের বিধি-বিধান দেখে খুব শিগগিরই নির্বাচনী রূপরেখা ও প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা হবে। দলের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মানবজমিনকে বলেন, বৃহস্পতিবার আমাদের ওয়ার্কিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকেই পৌরসভা নির্বাচনের রূপরেখা ও কৌশল নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এদিকে ডিসেম্বরের শেষদিকে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কি ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চলছে নানা বিশ্লেষণ। তবে, কেন্দ্রীয় নেতাদের বেশির ভাগই তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ে আগ্রহী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকেও এ বিষয়ে মনিটরিং হচ্ছে বলে দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছে। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, অনেকদিন ধরেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হচ্ছে। কাউন্সিল করার পাশাপাশি আগামী পৌরসভা নির্বাচনের জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলে আমাদের নজর ছিল। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের একটি খসড়াও আমরা তৈরি করেছি। এ বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।এদিকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয়ভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা। ১৪ দলের একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আপাতত দলীয়ভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এজন্য প্রস্তুতি হিসেবে তৃণমূলে দিক-নির্দেশনাও দিয়েছেন জোটের শরিক দলের শীর্ষ নেতারা। জানতে চাইলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া মানবজমিনকে বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচনের জন্য এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোন আলোচনা হয়নি। তবে, এককভাবে নির্বাচনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। এজন্য সারা দেশের জেলা-উপজেলায় নেতাদের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জোটের বড় শরিক আওয়ামী লীগ। তারা যদি আমাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জোটগতভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আগামী পৌরসভা নির্বাচন জোটগতভাবেই হবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment