Thursday, November 26, 2015

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি বিএনপিতে

দলীয় প্রতীকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি। আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এ স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চায় বিএনপি। এত দিন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসার কারণে বিদেশে অবস্থান করায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে দলের করণীয় ঠিক করতে স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতাদের নিয়ে গতকাল বৈঠক করেছেন খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে নেতিবাচক বক্তব্য এলেও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণে চাপ তৈরি হয় তৃণমূলে। আর বাস্তবতা বিবেচনা করেই দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ ছিল ইতিবাচক। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিতে গিয়ে কয়েক সপ্তাহ আগেই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, বিএনপি খালি মাঠে গোল করার সুযোগ দেবে না। এছাড়া বিএনপিপন্থি বিশিষ্টজনদের সংগঠন আদর্শ ঢাকা আন্দোলন-এর আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমদও একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে মত ব্যক্ত করেন। এদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সে অংশটির মনোভাব বুঝতে পেরে তফশিল ঘোষণার দ্বিতীয় সপ্তাহেই প্রাক-প্রস্তুতি শুরু করেন বিএনপির তৃণমূল নেতারা। নীরবে চলে তাদের এ প্রস্তুতি। মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের অনেকেই নির্বাচনের পক্ষে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ ও নিজেদের প্রস্তুতির বিষয় উল্লেখ করে গণমাধ্যমে বক্তব্যও দিয়েছেন।বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আলাপে জানা যায়, সরকারের সব কূটকৌশল জানার পরও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। প্রয়োজনে সে অংশগ্রহণ হবে কৌশলী। আপাতত দুটি কৌশলের কথাই উঠে এসেছে নেতাদের ঘরোয়া আলোচনায়। তার একটি হচ্ছে সরাসরি দলীয় প্রতীক ধানের শীষ মার্কায় অন্যটি হচ্ছে নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়া। তবে দলের নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই সরাসরি প্রতীকে নির্বাচনের পক্ষে। তবে সরাসরি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সম্ভাব্য নানা প্রতিকূলতার বিষয়ও উঠে এসেছে আলোচনায়। নেতারা জানান, এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে শক্ত অবস্থান নিয়েই মাঠে থাকবে। ভোটকেন্দ্রে কোন অনিয়ম হলে অতীতের মতো খুব সহজে ছাড় দেবে না। সব ধরনের অনিয়ম প্রথমে প্রতিরোধ করা হবে। যারা প্রতিরোধ করতে পারবেন সে ধরনের প্রার্থীকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অগ্রাধিকার দেয়ার ব্যাপারেও নেতারা নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। আর চূড়ান্তভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেই ভোট বর্জনের দিকে যাবে বিএনপি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রার্থীদের সমর্থনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। এক্ষেত্রে এলাকায় প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, সামাজিক প্রভাব এবং সাংগঠনিক দক্ষতা দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে প্রতিটি পৌরসভা ও উপজেলায় বিএনপির সমর্থণ প্রত্যাশীদের একাধিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় দপ্তরের নির্দেশ পেলেই আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে সেসব তালিকা চেয়ারপারসনের কাছে জমা দেয়া হবে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু জেলায় অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে আলোচনা ও কিছু কিছু প্রার্থীর পক্ষে সমর্থনও চূড়ান্ত করেছে। নেতারা জানান, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই মনে করেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনও হবে বিগত নির্বাচনগুলোর মতোই। বর্তমান মহাজোট সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না। কিন্তু তার পরও সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে। নেতাকর্মীরা মনে করেন, জাতীয় নির্বাচন এবং স্থানীয় নির্বাচনের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। জাতীয় নির্বাচন বর্জনের প্রভাবের চেয়ে তৃণমূলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বর্জনের প্রভাব পড়ে বেশি। এছাড়া বর্তমানে সরকারবিরোধী কোন আন্দোলন কর্মসূচি নেই। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে নেতারা বলছেন, প্রথমত- নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত হলেই বিএনপির জয় হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা সক্রিয় হবেন। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী হবে। দ্বিতীয়ত- আওয়ামী লীগ তথা সরকার যদি এই নির্বাচনকে প্রভাবিত করে এবং গায়ের জোরে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেয় তাহলে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। এতে ফের প্রমাণিত হবে এই সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কখনই সম্ভব নয়। পুলিশি প্রহরায় কেন্দ্র দখল করে সরকারদলীয় প্রার্থীদের জেতানো হলে বিদেশিদের কাছেও ফের নেতিবাচক বার্তা যাবে।বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন বিরাজমান। সে আন্দোলনের অংশ ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে এ নির্বাচন ভাবা যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াই নেবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করলেও বিএনপি নেতারা আসন্ন সে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। গতকাল এক আলোচনা সভায় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, আমরা অতীতের মতো দলীয়করণের গন্ধ পাচ্ছি। আগে তো তারা প্রার্থীদের সমর্থন দিত, তাতেই প্রশাসনের কিছু অংশ সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিরোধী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিত। এবার তো সরকারের তরফ থেকেই সরাসরি মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে। তাই আসন্ন পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে কি না তা নিয়ে আমাদের আশঙ্কা রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয় সূত্র জানায়, দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশের সার্বিক বিষয় নিয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। 

No comments:

Post a Comment