ফেনীর ছাগলনাইয়ায় শাহ্ আলম নামে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীকে অপহরণ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছে অপহরণকারীরা। অপহরণকারীদের পরিচয় জেনে ফেললে অপহৃত শাহ্ আলমকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে রোববার মধ্যরাতে তাকে পৌরসভার মির্জার বাজারের নির্জন স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত শাহ্ আলম জানান, ছাগলনাইয়া পৌরসভার দক্ষিণ যশপুর ওয়ার্ডের আলী আকবরের সাত ছেলে (তিনি সহ) দক্ষিণ আফ্রিকায় চাকরি করেন। সম্প্রতি তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরে এলে স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতা মজুমদারবাড়ীর আবুল কাশেমের ছেলে রিজভী তার বাহিনী নিয়ে শাহ্ আলমের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। একপর্যায়ে শাহ্ আলম কিছু টাকা দিলেও তাদের চাঁদার পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছিল। চাঁদা দেয়া বন্ধ করে দিলে রিজভী তার বাহিনী নিয়ে শাহ্ আলমকে রোববার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে অপহরণ করে মোটরসাইকেলযোগে ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যায়। এ সময় অহরণকারীরা শাহ্ আলমের পরিবারের কাছে মুঠোফোনে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। শাহ্ আলমের পরিবার টাকা দিতে অপারগতা জানালে অপহরণকারীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে। পরে শাহ্ আলমের স্বজনরা অপহরণকারীদের প্রতিনিধির হাতে নগদ ৫৩ হাজার টাকা তুলে দেয়। এ সময় শাহ্ আলমের পকেটে থাকা ইসলামী ব্যাংকের ছাগলনাইয়া শাখার একটি ফাঁকা চেকে অপহরণকারীরা জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে। একপর্যায়ে অপহরণের বিষয়টি পুলিশকে না জানাতে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে একশ’ টাকা মূল্যের ৩টি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে অপহরণকারীরা। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ রাতেই রিজভীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার মা খুকী বেগমকে (৫০) আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে অপহরণকারীরা শাহ্ আলমকে মুমূর্ষু অবস্থায় ছাগলনাইয়া পৌরসভার মির্জার বাজারের নির্জন স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়। রাতেই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদ খান চৌধুরী জানান, অপহরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। শাহ্ আলমের পার্শ্ববর্তী বাড়ির স্বজনরা তার কাছে নগদ টাকা চাইলে তিনি দিতে অপরগতা প্রকাশ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ আলমকে তারা মারধর করলে তিনি আহত হন। তবে এ ঘটনায় শাহ্ আলম বাদী হয়ে রিজভীকে প্রধান আসাামি করে অজ্ঞাত আরও ১০/১৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও সেটি ত্রুতিপূর্ণ থাকায় গ্রহণ করা হয়নি। ওসি লিখিত অভিযোগটি পুনরায় সংশোধন করে এজহার আকারে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ আরও জানায়, লিখিত এজহার পেলে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment