Monday, November 30, 2015

তুরস্কের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা

রাশিয়ার যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করার জেরে তুরস্কের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাশিয়া। এ-সংক্রান্ত একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ওই নিষেধাজ্ঞার অধীনে তুরস্ক থেকে আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাশিয়ায় তুরস্কের কোন কোম্পানি কাজ করতে পারবে না। রাশিয়ার কোম্পানিগুলোতে তুরস্কের কোন নাগরিক কাজ করতে পারবেন না। এছাড়া দু’দেশের মধ্যে চার্টার ফ্লাইট বা ভাড়া করা কোন ফ্লাইট চলবে না। রাশিয়ার অপারেটরদেরকে পর্যটকদের জন্য তুরস্কের প্যাকেট বিক্রি করতে বারণ করা হয়েছে। ওদিকে নিহত পাইলট লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওলেগ পেশকোভের মৃতদেহ রাশিয়ার হাতে বুঝিয়ে দেয়ার কথা রয়েছে। গত মঙ্গলবার তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে তুরস্ক এই পাইলট, সহ পাইলট সহ রাশিয়ার যুদ্ধবিমান এসইউ-২৪ গুলি করে ভূপাতিত করে। এরপর থেকে দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধংদেহি মনোভাব ফুটে ওঠে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে তার ‘পিঠে ছুরি’ মারা হয়েছে। জবাবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান বলেন, আগুন নিয়ে খেলবেন না। সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্কতা উচ্চারণ করেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হতে পারে আরেকটি যুদ্ধ এবং তার পরিণতি হতে পারে একটি বিশ্বযুদ্ধে। শুক্রবার রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান মস্কোকে ওই হুঁশিয়ারি দেন। এর পরদিনই শনিবার তিনি বিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তার নাগরিকদের অপ্রয়োজনে রাশিয়া সফরে না যেতে পরামর্শ দিয়েছে। উল্লেখ্য, তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক। রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার তুরস্ক। গত বছর ৩০ লাখের বেশি রাশিয়ান পর্যটক তুরস্ক সফর করেছেন। ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দমিত্রি পেশকভ শনিবার বলেন, বর্তমানে ৯০ হাজারের মতো তুর্কি নাগরিক কাজ করছেন রাশিয়ায়। তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ সংখ্যা দাঁড়াবে দুই লাখ। এ সপ্তাহের শুরুর দিকে রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছে, তুরস্কের শতকরা ১৫ ভাগ পণ্য রাশিয়ার নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলতে পারে নি। ফলে তুরস্ক থেকে কিছু আমদানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অনেক ট্রাক সীমান্তে আটকা পড়ে আছে। এর মধ্যে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় আরও কিছু আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সেগুলো কি ধরনের পণ্য তা পরিষ্কার নয়। এরই মধ্যে এ বছর রাশিয়ায় ১০০ কোটি ইউরোর খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি করেছে তুরস্ক। রাশিয়া বলছে, তাদের সবজি চাহিদার শতকরা ২০ ভাগই যায় তুরস্ক থেকে। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি বলেছেন, গত বছর চামড়া, বস্ত্র ও পোশাক খাতে ১৫২ কোটি ডলারের পণ্য রাশিয়ায় রপ্তানি করেছে তুরস্ক। শুক্রবার তুরস্কের সঙ্গে ভিসা ফ্রি চলাচল স্থগিত করেছে রাশিয়া। এরই মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন। কিন্তু তার আগে এরদোগানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন

No comments:

Post a Comment