Monday, November 30, 2015

ব্যাংকের বিরুদ্ধে ৩৯৩০ অভিযোগ

আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রায়ই ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়েন। ভোগান্তিতে পড়া গ্রাহকরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিযোগ করতে পারছেন। তবে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় ব্যাংকের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগের পরিমাণ কমেছে। গত অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকরা সর্বমোট ৩ হাজার ৯৩০টি অভিযোগ করেছেন। আগের অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৪৭৬টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস বিভাগ (এফআইসিএসডি) এই বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটির মোড়ক উন্মোচন করেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এ সময় ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী, কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান, ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি ও ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, এফআইসিএসডির মহাব্যবস্থাপক একেএম আমজাদ হোসেন, উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মামুনুল হক, যুগ্ম পরিচালক সরদার আল এমরান, উপ-পরিচালক আবদুর রাজ্জাক, সহকারী পরিচালক খোকন কুমার পাল, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা, সুবিধাভোগী গ্রাহক ও ব্যাংকের অন্যান্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় বক্তারা বলেন, অভিযোগের পরিমাণ আরও কমিয়ে আনতে হবে। এমনভাবে ব্যাংকিং সেবা দিতে হবে যেন কেউ অভিযোগ করার সুযোগ না পায়।      প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জমা হওয়া ৩ হাজার ৯৩০টি অভিযোগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে স্বীকৃত বিলের মূল্য পরিশোধ না করা সংক্রান্ত অভিযোগ, যা মোট অভিযোগের ৩১ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাধারণ ব্যাংকিং সংক্রান্ত, যা মোট অভিযোগের ২১ শতাংশ। এছাড়া, প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর মধ্যে ঋণ ও অগ্রিম ১৮ শতাংশ, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত ৬ শতাংশ, ব্যাংক গ্যারান্টি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, মোবাইল ব্যাংকিং ১ দশমিক ৫ শতাংশ, রেমিট্যান্স ১ শতাংশ এবং বিবিধ ১৮ শতাংশ।বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবারই প্রথম আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অভিযোগের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। আলোচ্য সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৯৩০টি অভিযোগ এসেছে। যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫৪৫টি বা ১২ দশমিক ২০ শতাংশ কম। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে অভিযোগ এসেছিল ৪ হাজার ৪৭৬টি। তার আগের অর্থবছরে অভিযোগ সংখ্যা ৪  হাজার ২৯৬টি। তবে অভিযোগের পরিমাণ কমলেও এবারই প্রথম শতভাগ অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের ২০১৩-১৪ অর্থবছরে নিষ্পত্তির হার ছিল ৯৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং তার আগের বছর ছিল ৬৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রতিটি ব্যাংকেই আলাদা আলাদা গ্রাহক অভিযোগ কেন্দ্র খোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং ছোটখাটো অভিযোগগুলো সেখানেই নিষ্পত্তি করার কথা বলা হয়েছিল। যদি কোন গ্রাহক সুনির্দিষ্ট ব্যাংকে তার অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে না পারেন তখন পুনরায় বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করতে পারবেন বলেও নির্দেশনা ছিলো। আর এসব কারণেই বিদায়ী অর্থবছরে অভিযোগের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎপরতায় শতভাগ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। 
প্রসঙ্গত, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১১ সালের ১লা এপ্রিল গঠন করে গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র। পরে এর পরিধি বাড়তে থাকায় আরও বৃহৎ পরিসরে একে ঢেলে সাজিয়ে গঠন করা হয় ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস বিভাগ (এফআইসিএসডি)।

No comments:

Post a Comment