Sunday, November 29, 2015

সোনারগাঁ থেকে অপহৃত শিশু শ্রীনগরে উদ্ধার, অপহরণকারীর আত্মহত্যা

সোনারগাঁ থেকে অপহরণের ৩৬ ঘণ্টা পর শুক্রবার সন্ধ্যায় অপহৃত শিশু জিসানকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাগরা গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অপহরণকারী রাসেলকে স্থানীয়রা পুলিশে দেয়ার জন্য একটি ঘরে আটকে রাখে। রাতে অপহরণকারী রাসেল ঘরের ধরনায় গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন। পুলিশ নিহত রাসেলের লাশ উদ্ধার করে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। আত্মহত্যার ঘটনায় শ্রীনগর থাকায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন জানান, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের প্রতাপনগর গ্রামের হাজী সালাউদ্দিনের ভাড়াটিয়া ও জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার পশ্চিম কাজলাপাড়া গ্রামের মো. মুল্লুক মিয়ার শিশুপুত্র জিসান (৩)কে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তার সহকর্মী রাসেল জোরপূর্বক বাড়ির সামনে খেলা করার সময় অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে শিশু জিসানের পরিবার তাকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অপহৃত শিশু জিসানের চাচা সাদ্দামের মোবাইল ফোনে জিসানের মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারী রাসেল। টাকা পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নম্বর দেয় সে। এ ঘটনায় জিসানের বাবা মুল্লুক মিয়া বাদী হয়ে রাসেলকে আসামি করে বৃহস্পতিবার বিকালে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর রাসেল শিশু জিসানকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার বাগরা গ্রামে তার আত্মীয় বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে অপহরণকারী রাসেলের আত্মীয় বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুল হক ওরফে ফজলকে জানালে তিনিসহ স্থানীয়রা অপহরণকারী রাসেলকে আটক করে পুলিশে দেয়ার জন্য বাগরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের বাড়ির একটি ঘরে সন্ধ্যায় আটকে তালাবদ্ধ করে রাখে। আটককৃত অপহরণকারী রাসেল গতকাল শুক্রবার রাতে ওই ঘরে ধরনার সাথে ও গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। তিনি আরও জানান, পুলিশ বাগরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের বাড়িতে উপস্থিত হওয়ার আগেই অপহরণকারী রাসেল আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ নিহত রাসেলের লাশ উদ্ধার করে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।সোনারগাঁ থানার ওসি শাহ মো. মঞ্জুর কাদের পিপিএম জানান, শিশু জিসানকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অপহরণকারী আত্মহত্যার ঘটনায় শ্রীনগর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment