Monday, November 30, 2015

সহপাঠিনীকে গণধর্ষণের দায়ে মুম্বইয়ে ৪ স্কুলছাত্র গ্রেপ্তার

ভারতের মুম্বইয়ে সহপাঠিনীকে গণধর্ষণের দায়ে চার স্কুলছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৫-১৬ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীরা গণধর্ষণের একটি ভিডিও ধারণ করে হোয়্যাটসঅ্যাপেও প্রকাশ করেছে বলে জানায় পুলিশ। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ছাত্রী ও অভিযুক্ত ছাত্রদের বসবাস ছিল এলাকায়। পড়াশুনার উদ্দেশ্যে তারা প্রায়ই একে অপরের বাসায় যেত। আটকের পর অভিযুক্ত ছাত্রদের আদালতের সামনে হাজির করা হয়েছে। সেখান থেকে কিশোর সংস্কার কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে তাদের। পুলিশের তদন্ত চলছে। মুম্বইয়ের মালাদ পুলিশ স্টেশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ৮ই নভেম্বর ওই মেয়েটিকে প্রথম ধর্ষণ করা হয়। এরপর বেশ কয়েকবার তার ওপর যৌন সহিংসতা চলে। শশাঙ্ক সন্ধভর নামে ওই কর্মকর্তা বলেন, ৮ই নভেম্বর পড়াশুনার জন্য সাহায্যের কথা বলে অভিযুক্ত ছাত্রদের একজন মেয়েটিকে টেলিফোনে বাসায় আমন্ত্রণ জানায়। ওই মেয়েটি বাসায় পৌঁছার পর অভিযুক্ত চার জন তাকে গণধর্ষণ করে। তিনি জানান, অভিযুক্তরা গণধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে দেয়ার হুমকি দেয় মেয়েটিকে। এরপর আরও বেশ ক’বার তারা মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে ওই ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপে আপলোডও করে দেয়। ওই মেয়েটির পিতা মারা গেছে, তার মা বিদেশে কাজ করে। নিজের বোন, নানি ও খালার সঙ্গে মুম্বইয়ে থাকে সে। বুধবার হোয়াটসঅ্যাপে গণধর্ষণের ওই ভিডিওটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এমনকি মেয়েটির খালাকেও ওই ভিডিও পাঠায় কেউ একজন। কর্মকর্তারা জানান, গণধর্ষণের একটি মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনা এমন এক সময় ঘটলো, যখন প্রায় একই ধরনের একটি ঘটনায় বয়সের কারণে সীমিত সাজাপ্রাপ্ত এক কিশোর অপরাধী ছাড়া পেতে যাচ্ছে। তিন বছর আগে দিল্লিতে বাসে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ওই কিশোরের সাজা হয়েছিল। এর ফলে ধর্ষণের মতো যৌন সহিংসতার অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত কিশোরদের কী ধরনের শাস্তি হওয়া উচিত, তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে ভারতে।

No comments:

Post a Comment