জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একক একটি চুক্তিতে উপনীত হতে আজ ফ্রান্সের
রাজধানী প্যারিসে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন। এর
নাম দেয়া হয়েছে ২১তম ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস বা সিওপি২১।
এতে অংশ নেবে বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশ। এর উদ্দেশ্য বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি
দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে রাখা। বর্তমানে এটা ধরা হয়েছে ২ দশমিক ৫৪ ডিগ্রি
সেলসিয়াস থেকে ৩ দশমিক ৭৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি
সেলসিয়াসে আটকে রাখা যাবে ফসিল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, বায়ু অথবা
সৌরশক্তির মতো পরিবেশ দূষণকারী নয় এমন শক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে।ওদিকে
গতকাল হাজার হাজার মানুষ প্যারিসের রাজপথে তাদের জুতা রেখে এ সম্মেলনের
প্রতিবাদ জানান। আভাজ ডট অর্গ নামের একটি বেসরকারি সংগঠনের আয়োজনে এ
প্রতিবাদে পোপ ফ্রান্সিস ও ফ্যাশন ডিজাইনার ভিভিয়েন ওয়েস্টউডের দুই জোড়া
জুতা রাখা হয়। এ প্রতিবাদে একজোড়া জুতা পাঠান ফরাসি অভিনেত্রী মারিও
কেটিলার্ড। ওদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বিশ্ব কী কী সমস্যার সম্মুখীন
হতে পারে তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে মিডিয়ায়। এতে বলা হয়, বিংশ
শতাব্দীর মধ্যভাগে শুরু হয় ব্যাপক আকারে শিল্পকারখানা থেকে কার্বন নিঃসরণ। এ
সময়েই বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয়। এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমনকি
যদি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তার মানে হলো হিমবাহ
গলে যাবে, মেরু অঞ্চলে বরফ গলে যাবে। এতে দ্রুত সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা
বৃদ্ধি পাবে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দেবে। পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দেবে।
গত জুলাইয়ে বিজ্ঞানী, বিশ্লেষক, অর্থনীতিক ও সামরিক ঝুঁকি বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা
সতর্ক করেন, এমন অবস্থা হলে খাদ্য ও পানির সঙ্কট তীব্র হবে। তাতে সংঘাত
বাড়বে। অভিবাসীর সংখ্যা বাড়বে। রাষ্ট্র তা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হবে। এ
অবস্থা মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হবে অভিজাত সরকারগুলোও। গত বছর কার্বন
নিঃসরণ ছিল সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দূষণ সৃষ্টি করেছে চীন।
তারপরেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, রাশিয়া ও জাপান।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment