Sunday, November 29, 2015

মাইগ্রেশনের মাধ্যমে এইডস ঝুঁকি বাড়ছে

মাইগ্রেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে এইডস ঝুঁকি বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, সরকারি-বেসরকারি অর্থায়ন বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের এইডস আক্রান্তের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব। গতকাল রাজধানীর ধানমণ্ডি আহছানিয়া মিশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে  এসব তথ্য তুলে ধরেন সেভ দ্য চিলড্রেনের উপ-পরিচালক শেখ মাসুদুল আলম। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে ৫০ শতাংশ টার্গেট গ্রুপকে কভারেজের আওতায় আনার চেষ্টা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও টিবি রোগ থেকে এইডস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ২০০৪ সাল ও ২০০৯ সালে বাংলাদেশে সাইজ এস্টিমেশন হয়েছিল। এ বছর গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে সাইজ এস্টিমেশনের কাজ চলছে। মাসুদুল আলম জানান, ১৭২টি সেন্টারের মাধ্যমে ১৪ হাজার মাদকাসক্ত, ২৮ হাজার ৬০০ যৌনকর্মী, ১ হাজার ১০৬ এইচআইভি আক্রান্তকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়েছে। এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে সারা দেশে ১০১টি এসটিসি সেন্টার তৈরির কাজ চলছে। যেন এসব সেন্টারগুলো থেকে এইচআইভি আক্রান্তরা পুরো চিকিৎসা পায়। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগ নির্ণয় পদ্ধতির সঙ্গে যদি এইচআইভি পরীক্ষা করার ব্যবস্থা যুক্ত করা যায় তাহলে এইচআইভি নির্ণয় করাটা আরও সহজ হবে। যখন বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ছে তখন অর্থ বরাদ্দ কমে যাচ্ছে। জাতিসংঘের এইডসবিষয়ক শাখার এক তথ্য মতে, সারা বিশ্বে ৩ কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার মানুষ এইডস আক্রান্ত। ২০১৪ সালে ২০ লাখ প্রাপ্ত বয়স্ক ও শিশু এইডস আক্রান্ত হয়েছে। ২০০০ হাজার সালের তুলনায় এইডস আক্রান্তের হার ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০০০-১৪ সাল পর্যন্ত এন্টি রেট্রোভাইরাল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে ৭০ লাখ ৮০ হাজার এইডস আক্রান্ত মানুষকে বাঁচানো গেছে। ২০০৪ সাল থেকে ১০ লাখ ২০ হাজার মানুষ এইডস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। যা এইডসে মৃত্যু হারের চেয়ে ৪২ শতাংশ কম। ২০১৪ সালে ২ লাখ ২০ হাজার শিশু নতুন করে এইডস আক্রান্ত হয়েছে। ২০১৪ সালের এন্টি রেট্রোভাইরাল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে ১০ লাখ ৪০ হাজার শিশু সুস্থ হয়েছে। ২০১৪ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নতুন করে এইডস আক্রান্ত হয়। ২০০০-১৪ সাল পর্যন্ত নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার অনুপাতে যা ৩১ শতাংশ কম। ২০১৪ সালের পরিসংখ্যান মতে, বাংলাদেশে ৩ হাজার ৬৭৮ জন এইডস আক্রান্ত।  বাংলাদেশে ৩০৯ জন শিশু যাদের বয়স ০-১৪ বছর মূলত জন্মগতভাবেই এইডস আক্রান্ত। এদের মধ্যে ২০১৪ সালে ৬৩ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের ২০৮ জনকে এন্টি রেট্রোভাইরাল ট্রিটমেন্ট দেয়ার প্রয়োজন থাকলেও মাত্র ৭৯ জনকে দেয়া সম্ভব হয়েছে। ২০১৪ সালে এইডস আক্রান্তদের মধ্যে ৩০ শতাংশ নারী। এইডস মুক্ত সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে ১৩৮ গর্ভবতী মায়ের চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও পেয়েছেন মাত্র ২৫ জন। সিরিঞ্জের মাধ্যমে যারা মাদক সেবন করেন তাদের এইডস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ২৮ শতাংশ বেড়ে যায়। যৌনকর্মীদের মাধ্যমে ১২ শতাংশ বাড়ে। ১৯ শতাংশ বাড়ে সমকামিতার মাধ্যমে। ৪৯ শতাংশ বাড়ে হিজড়াদের মাধ্যমে। প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর বলেন, মাদরাসা থেকে শুরু করে প্রতিটি স্কুলে এ বার্তাটা পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের রক্ষণশীলতার জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আইন হওয়ার পরও কিন্তু বাল্যবিয়ে রোধ করা যাচ্ছে না। গণমাধ্যমগুলোকে কমিটমেন্টের জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।যারা বিদেশে কাজ করতে যান তার প্রায় ৩০ শতাংশ দেশে এসে এইডস ছড়ায়। আহ্‌ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মিশনের উপ-পরিচালক ইকবার মাসুদ।

No comments:

Post a Comment