Thursday, November 26, 2015

ব্লগার রাজীব হত্যা মামলার শুনানি

আলোচিত গণজাগরণ মঞ্চের ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ঢাকার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট (জবানবন্দি রেকর্ডকারী) মো. হারুনুর রশিদ ও সুরতহাল রিপোর্টের সাক্ষী কনস্টেবল মো. মুনছুর। দ্রুত বিচার-৩ এর বিচারক সাঈদ আহম্মেদের আদালতে গতকাল এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ম্যাজিস্ট্রেট মো. হারুনুর রশিদ এ মামলার আসামি মাকসুদুল হাসান অনিক (২৬), এহসানুর রেজা রুম্মান (২৩), মো. নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ (১৯), নাফির ইমতিয়াজ (২২) ও সাদমান ইয়াছির মাহমুদের (২০) দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষী কনস্টেবল মো. মুনছুর ব্লগার রাজিবের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সময় উপস্থিত ছিলেন। জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ তাদের জেরা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাজিস্ট্রেটকে জেরা করা হয়। জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষী গ্রহণের জন্য ২৯শে নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৫ জনের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। গত ২৭শে মে নিহত রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিন সাক্ষ্য দেন। ২৪শে জুন সাক্ষ্য দেন নিহতের খালাতো ভাই কাজী গালিবুল ইসলাম। গত ৫ই জুলাই সাক্ষ্য দেন মামলার তৃতীয় সাক্ষী নিহতের ছোট ভাই গোলাম মোর্তুজা হায়দার।সাক্ষ্য গ্রহণকালে আনসারুল্লাহ বাংলাটিম প্রধান মুফতি জসীমউদ্দিন রাহমানীসহ ৮ জন আসামিকে জেলহাজত থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ১১ই মে মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে দ্রুত বিচার আদালতে বদলি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের দু’বছর পর গত ২১শে মে আদালত ৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। এ মামলায় আসামিদের মধ্যে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানী ছাড়া বাকিরা নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস বিভাগের ছাত্র। গ্রেপ্তারের পর তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।  আসামি রেদোয়ানুল আজাদ রানা ছাড়া অন্যদের জেল হাজত থেকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। রানা মামলার শুরু থেকেই পলাতক। বাকি ৭ আসামি হলেন- সাদমান ইয়াছির মাহমুদ, ফয়সাল বিন নাঈম দীপ, এহসান রেজা রুম্মান, মাকসুদুল হাসান অনিক, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজ।আসামিদের মধ্যে সাদমান ছাড়া বাকিরা ঢাকার হাকিম আদালতে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলন শুরুর ১০ম দিনে ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবীতে নিজের বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাজীবকে। ধর্মীয় উগ্রবাদীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পায়।

No comments:

Post a Comment