Tuesday, November 24, 2015

মা-বোনদের বলে যাই...

ভূঞাপুরে জোরেশোরে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীরা পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়কে ব্যানার, বিলবোর্ড, তোরণ টাঙিয়ে জানান দিচ্ছেন নিজেদের অবস্থান। ভোটারদের মনোযোগ কাড়তে সালাম, আদাব ও শুভেচ্ছা সংবলিত বিলবোর্ডও টানানো হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। মাঝে মাঝে শোনা যাচ্ছে মা-বোনদের বলে যাই স্লোগান। দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির হাফডজন নেতা ইতিমধ্যেই জোর লবিং শুরু করে দিয়েছেন। দ্বারস্থ হচ্ছেন কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের যারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান মেয়র ও ভূঞাপুর আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম তালুকদার বিদ্যুৎ, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম চঞ্চল। এদিকে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর। ভোটারদের নজর কাড়তে যে যার আঙ্গিকে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। গত পৌর নির্বাচনে দলীয় কোন্দলের কারণে একক প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয়েছিল বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। উভয় দলেই ছিল একাধিক প্রার্থী। দলীয় মনোনয়নের বাইরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন আমিরুল ইসলাম তালুকদার বিদ্যুৎ ও বিএনপির আবদুল খালেক মণ্ডল।  তবে এবারের বিষয়টা একটু ভিন্ন। আওয়ামী লীগের মধ্যে দলীয় কোন্দল থাকলেও দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা ওঠার পর নেতাকর্মীরা একটু নড়েচড়ে বসেছেন। গোপনে গ্রুপিং থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলছে না। দলীয় মনোনয়নের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। তবে নিজ পছন্দের ব্যক্তির পক্ষে গোপন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে কর্মীরা। এদিকে বিএনপিতে দলীয় কোন্দল না থাকলেও নির্বাচনী মাঠে তাদের তেমন কোন তৎপরতা নেই। তবে গোপনে তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটির স্থানীয় একাধিক নেতা জানিয়েছে। গত নির্বাচনে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দলীয় মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নিলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল খালেক মণ্ডল। যার কারণেই ভরাডুবি হয়েছিল উভয় প্রার্থীর। আর তাই এবার নড়েচড়ে বসেছে দলটি। একক প্রার্থী দেয়ার লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে তারা। ইতিমধ্যে আবদুল খালেক মণ্ডল নির্বাচনে না আসার ঘোষণা দেয়ায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দলীয় প্রার্থী অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। বর্তমান মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, মেয়র হিসেবে আমার মেয়াদকালে পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ভূঞাপুরবাসীর প্রাণের দাবি বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করেছি। পৌর এলাকার ভেতরে নতুন রাস্তা নির্মাণ ও ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান করেছি। বামনহাটা লৌহজং নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ করেছি। নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছে। আমার বিশ্বাস দল এবারও আমাকে মূল্যায়ন করবে। আমিরুল ইসলাম তালুকদার বিদ্যুৎ বলেন, আমি ভূঞাপুর পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমার মেয়াদকালে পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এটাই আমার শেষ নির্বাচন। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দিবে। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বর্তমানে পৌরসভার বিশৃঙ্খল অবস্থা। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সকল সমস্যার সমাধান করবো। আজহারুল ইসলাম বলেন, আমি দুবার কমিশনার ও প্যানেল চেয়ারম্যান ছিলাম। গত বছর দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু দল পরের নির্বাচনে মনোনয়নের আশ্বাস দিয়েছিল। আমি দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। অনেকেই দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিল। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য থেকেছি। আমার বিশ্বাস দল তার কথা রাখবে। আমাকে মূল্যায়ন করবে। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে ভূঞাপুর পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলবো। তরিকুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন চাইবো। আমি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য শ্রম দিয়ে চলেছি। আমার বিশ্বাস দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। এদিকে মেয়র প্রার্থীদের তৎপরতায় অনেকটা আড়ালে পড়ে গেছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কাউন্সিলরদের নির্বাচনী তৎপরতা। ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে ৯টি ওয়ার্ড ও ৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থী এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment