ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে চিঠি পাঠিয়েছেন ডাক, তার ও
টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। গতকাল তিনি এ চিঠি পাঠান। তবে এই
চিঠিতে ফেসবুক খোলা বা বন্ধ রাখার ব্যাপারে কোন কথা নেই বলে জানিয়েছেন
তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক
কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিছু বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করার জন্য চিঠি দিয়েছি।
সেখানে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখা হয়েছে। এই
বিষয়টি ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে বলেছি। এছাড়াও জনপ্রিয় এই মাধ্যমটিতে নানা ধরনের
অপব্যবহারসহ নেতিবাচক বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ফেসবুক
কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাব পাওয়ার পরই তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো
চূড়ান্ত করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা
করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিরাপত্তার
বিষয়ে সবুজ সংকেত পেলেই ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যম চালু করা হবে। এর আগে গত
শনিবার এক গোলটেবিল বৈঠকে তারানা হালিম জানান, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য
জানতে একটি চুক্তি করার লক্ষ্য নিয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেবে সরকার।
বর্তমানে দেশে পাঁচ কোটি ৪১ লাখ সক্রিয় ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে ফেসবুক
ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক কোটি ৭০ লাখ। মানহানিকর কনটেন্ট, নারীর প্রতি
অবমাননা, রাজনৈতিক অপপ্রচারসহ আরও কিছু নেতিবাচক কাজ ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটে
বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ফেসবুকের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন ধরনের চুক্তি না
থাকায় ফেসবুকের অপব্যবহারের মাধ্যমে ঘটা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না। বাংলাদেশে ফেসবুকের কোন অ্যাডমিন না
থাকায় আপত্তিকর পোস্ট বা কনটেন্ট সরানোও কঠিন হয়ে পড়ে।সূত্র জানায়, এর
আগে ফেসবুকের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ
কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছিলেন তারানা হালিম। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে
খুব বেশি দূর এগোতে পারেনি বিটিআরসি। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে
চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ১২ই নভেম্বর ফেসবুকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত
‘গ্লোবাল গভর্নমেন্ট রিকোয়েস্ট রিপোর্ট’-এ বলা হয়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে
জুন- এই ছয় মাসে ফেসবুকের কাছে তিনটি অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে তথ্য চায়
বাংলাদেশ সরকার। তিনবার অনুরোধের মাধ্যমে এই তিনজনের তথ্য জানতে চাওয়া হয়।
সরকারের এ অনুরোধে ফেসবুক সাড়া দেয়নি বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত বছরের শেষ ছয় মাসে পাঁচটি অনুরোধের মাধ্যমে পাঁচজনের অ্যাকাউন্ট
সম্পর্কে তথ্য জানতে চেয়েছিল সরকার। গত বছরের নভেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে
২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ফেসবুকের কাছে ১৭টি
অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। মোট সাতটি অনুরোধের মাধ্যমে এই
তথ্য চাওয়া হয়েছিল।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment