বাংলাদেশের কিছু গার্মেন্ট কারখানার হতাশাজনক কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা ঝুঁকি,
শিশুশ্রম এবং পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে
বৃটেনের অন্যতম শীর্ষ দৈনিক দ্য ডেইলি মেইলের অনলাইন সংস্করণে। চিত্রগ্রাহক
ক্লদিও মোনতেসানো ক্যাসিলাসের তোলা বেশ কয়েকটি ছবি দিয়ে ওই প্রতিবেদনটি
তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ছবি বাংলাদেশের হাজারো শিশুর
নির্মম বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছে, যাদের দীর্ঘ সময় কাপড় সেলাই করতে বাধ্য
করা হয়। আনুষ্ঠানিক কারখানাগুলোর নিরাপত্তা মান উন্নত করা সত্ত্বেও
অনিবন্ধিত কারখানাগুলোতে পরিদর্শন করা হচ্ছে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব
কারখানায় মূলত স্থানীয় ও ভারতীয় বাজারের জন্য পোশাক তৈরি করা হয়। কিন্তু
সাব কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে এখানকার পোশাক নেয় প্রসিদ্ধ ও আন্তর্জাতিকভাবে
খ্যাতনামা বিভিন্ন ব্রান্ডও। এর ফলে কোম্পানিগুলো জানতে পারে না, তাদের
পোশাক আসলে কোথায় উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের
অনিয়ন্ত্রিত গার্মেন্ট কারখানাগুলোতে নিরাপত্তার মারাত্মক অভাব ও কর্মরত
শিশুদের ক্ষেত্রে কঠোর রুটিনের বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছেন ক্লদিও মনতেসানো
ক্যাসিলাস। ‘ওল্ড ঢাকা’ সফরের অংশ হিসেবে এ কারখানাগুলোতে দৈবক্রমে সফর করে
বসেন ক্যাসিলাস। কিন্তু সেখানকার অবস্থা দেখে তিনি থমকে যান। অনিবন্ধিত
এসব কারখানার একটি কক্ষে ১৫টি সেলাই মেশিন থাকতে পারে। প্রায়ই এসব কক্ষে
জরুরি বহির্গমন পথ, অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা বা অগ্নি নির্বাপক থাকে না।
কারণ, দেশব্যাপী অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তার যে বিধিমালা বাধ্যতামূলক করা
হয়েছে, সেসবের আওতাধীন নয় এসব কারখানা। যেসব শিশু এখানে কাজ করে তারা
স্কুলে যাওয়ার সময় পায় না। সেলাই থেকে শুরু করে মেশিন পরিষ্কারের প্রচুর
কাজ করতে হয় তাদের। ক্যাসিলাস বলেন, ওই কারখানাগুলোতে শিশু শ্রমিকরা প্রতি
সপ্তাহের ছয় থেকে সাড়ে ছয়দিনই কাজ করে। ন্যূনতম মজুরির চেয়েও অনেক কম
বেতনের ওই কাজ চলে ভোর থেকে সন্ধ্যারও অনেক পর পর্যন্ত। তারা গ্রাম থেকে
শহরে যায় কাজের জন্য, ভালো একটি জীবনের প্রত্যাশায়। কিন্তু তারা এমন এক
জীবন পায়, কাজ ছাড়া যার অস্তিত্ব নেই। একটি ছবিতে দেখা গেছে, অনেক ছেলে
কারখানার গোসলখানায় গোসল সারছে। এখানেই তারা খায়, ধোয় আর ঘুমায়। খবরে
বলা হয়, তৈরি পোশাক রপ্তানির দিক থেকে চীনের পরই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে
বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প। নিরাপত্তা রেকর্ডের দিক থেকে এ শিল্পের
কুখ্যাতি রয়েছে। নিবন্ধিত রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন করা
হয়। কিন্তু অন্যত্র কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক সুবিধা অনেক খারাপ। শিশু ও
প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীরা প্রতি মাসে মাত্র সাড়ে ৬ পাউন্ড আয় করে, যা বাংলাদেশী
টাকায় মাত্র ৮০০ টাকা। সর্বোচ্চ তারা ১৯৫০ টাকা আয় করতে পারে। বাংলাদেশ
সরকার গার্মেন্ট শিল্পে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কর্মীর জন্য যে ন্যূনতম মজুরি
নির্ধারণ করেছে (৫৩০০ টাকা), তার চেয়েও ওই বেতন অনেক কম।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment