সেবার মান বাড়ানোর জন্য নতুন পদ সৃষ্টি হচ্ছে পুলিশে। ঢাকা মহানগর
পুলিশ (ডিএমপি)’র থানা গুলোতে ওসি নামের পদ আর থাকছে না। ওসি (অফিসার
ইনচার্জ) এখন বিসিএস ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা এসি (অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার)
হিসাবে পরিচিত হবেন। পুলিশ সদর দপ্তর ঢাকার থানাগুলোর পরে অন্যান্য বিভাগীয়
শহরে তা বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ এই
উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হবে। বাংলাদেশ পুলিশ এ বিষয়ে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত
নিয়েছে। পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) মো. নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, পুলিশের
সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগে যেমন
ভূমি অফিসে ভূমি অফিসার নিয়োগ দেয়া হতো। কিন্তু, সময়ের পরিবর্তনের ফলে এখন
ওই পদকে করা হয়েছে এসি (ল্যান্ড)। তাই পুলিশও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে
চায়। এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে থানাগুলোতে চৌকস কমকর্তার অধীনে অন্যান্য
পুলিশের সদস্যরা আরও বেশি পেশাদারি হয়ে উঠবে। পুলিশের হেডকোয়ার্টার
সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশে প্রায় ২৩০০ জন বিসিএস ক্যাডারভুক্ত
কর্মকর্তা আছেন। তারা পুলিশের হেড কোয়ার্টার থেকে শুরু করে জেলাগুলোতে
কর্মরত আছেন। বিভাগীয় শহর ছাড়াও জেলাগুলোর এসপি, এডিশনাল এসপি ও এএসপি
ছাড়াও আদালতে পুলিশের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রসিকিউশন বিভাগে এক থেকে দুইজন বিসিএস
ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা কাজ করে থাকেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাছে
নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীতে দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তার অভাব মেটানোর জন্য এই
উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, রাজধানীর ঢাকায় সারা দেশের বিভিন্ন
এলাকার নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন বসবাস করে থাকেন। ঘটছে নানা রকম অপরাধ।
ভিকটিকমরা তাদের সমাধানের জন্য ঢাকা মহানগর এলাকার ৪৯টি থানায় যান। বিভিন্ন
অভিযোগে মামলা অথবা জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করে থাকেন। ওইসব কাজের
তত্ত্বাবধান করে থাকেন সংশ্লিষ্ট থানার ওসিরা। থানার সকল কিছু থাকে তার
নখদর্পণে। অনেক ওসি আছেন তারা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে থাকেন। তবুও কিছু
গুরুত্বপূর্ণ কাজে ঘাটতি থেকে যায়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনেক অপরাধ নিজের
উদ্যোগে এবং অন্য কর্মকর্তাদের দিয়েই তিনি ঠেকাতে পারেন না। পুলিশ বিভাগ এই
ঘাটতিগুলো মেটাতে চায়। পুলিশের ধারণা, ওসির পদে একজন দক্ষ ও মেধাবী
কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিলে তিনি সব বিষয় অত্যন্ত বিচাক্ষণতার সঙ্গে সমাধান
করবেন। হীনম্মন্যতায় না ভোগে অন্যের পরামর্শ নিবেন। সূত্র আরও জানায়,
পুলিশের মধ্যে ইতিমধ্যে যেসব বিসিএস ক্যাডার আছেন তাদের থানার এসি পদে
দায়িত্ব দেয়া হবে না। এতে ওই কর্মকর্তার মানসিক মনোবল ভেঙ্গে যেতে পারে।
এক্ষেত্রে পুলিশের একটি গোয়েন্দা শাখা পুলিশের হেডকোয়ার্টারের আদেশে এক
জরিপ চালিয়েছিল। তৃণমূলে পুলিশে থাকা বিসিএস ক্যাডারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের
থানার এসি পদে নিয়োগের ইতিবাচক ও নেতিবাচক মতামত চাওয়া হয়েছিল। অধিকাংশই
কর্মকর্তারা থানার এসি পদে বদলি হওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক মতামত দিয়েছিলেন।
তাই প্রতি বছরে পুলিশ বিভাগে নিয়োগ পাওয়া বিসিএস ক্যাডারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তাদের থানার এসি পদে নিয়োগ দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাইবার ক্রাইমের ওপর ৬ মাসের একটি অতিরিক্ত
প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
এই পরিবর্তন নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুলহুদা জানান, বাংলাদেশে থানার ওসিকে যদি এসি করা হয় এটা নতুন কোন ঘটনা হবে না। দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার অনেক রাষ্ট্রে এমনটা আছে। তিনি আরও জানান, শহরের থানাগুলোর অনেক কাজ থাকে। সমাজে নিত্যনতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়। ওই কাজগুলো সমাধানের জন্য দক্ষ একজনের অফিসারের প্রয়োজন পড়ে। তবে যতই মান বাড়ানো হোক না কেন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলে কোন কাজই সততা ও দক্ষতার সঙ্গে করা যায় না।
এই পরিবর্তন নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুলহুদা জানান, বাংলাদেশে থানার ওসিকে যদি এসি করা হয় এটা নতুন কোন ঘটনা হবে না। দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার অনেক রাষ্ট্রে এমনটা আছে। তিনি আরও জানান, শহরের থানাগুলোর অনেক কাজ থাকে। সমাজে নিত্যনতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়। ওই কাজগুলো সমাধানের জন্য দক্ষ একজনের অফিসারের প্রয়োজন পড়ে। তবে যতই মান বাড়ানো হোক না কেন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না হলে কোন কাজই সততা ও দক্ষতার সঙ্গে করা যায় না।

No comments:
Post a Comment