Tuesday, December 8, 2015

হলফনামা সরিয়ে প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগ

রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে জমা দেয়া মনোনয়নপত্র থেকে হলফনামা সরিয়ে ভুল তথ্য সংযোজন করে প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগ করেছেন বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন প্রার্থী। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তারা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেছেন। এসব প্রার্থীরা দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সুবিধা থেকে  কৌশলে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী শামসুর রহমান বলেন, গোপালনগরে ৮৪ হোল্ডিংয়ের ট্যাক্স ৩ হাজার ৪০০ টাকা বাকি থাকার অভিযোগ দিয়ে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অথচ ৮৪ হোল্ডিংয়ে আমার কোন জায়গাই নেই। তিনি বলেন, পৌরসভার সচিব কিছু ফটোকপি করা কাগজপত্র নিয়ে এসেছেন। আমি তাদের মূল দলিল ও ডকুমেন্ট দেখানোর কথা বলেছিলাম। কিন্তু তারা কিছুই দেখাতে পারেনি। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলাম- ওই হোল্ডিংয়ে আমার নামে কোন জায়গা থাকলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে গতকাল মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর আপিল করেছি। আগামী ১০ই ডিসেম্বর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি-আপিলে আমি প্রার্থিতা ফিরে পাবো। গোপালগঞ্জ পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী তৌফিকুল ইসলাম বলেন, হলফনামায় দেয়া তথ্যের সঙ্গে আয়কর রিটার্নের তথ্যের গরমিল থাকায় অভিযোগ দিয়ে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অথচ আমি ৪ জন আইনজীবীর সাহায্য নিয়ে নির্ভুল তথ্য দিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। আমার হলফনামায় দেয়া তথ্যে কোন ভুল ছিল না। তিনি বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা প্রকাশ্যেই বলছেন-গোপালগঞ্জ হলো প্রধানমন্ত্রীর এলাকা। এখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হবে। তাই প্রহসনমূলকভাবে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আমি আপিল করবো। চাঁদপুরের ছেঙ্গারচর পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী সারোয়ার আলম আবেদিন বলেন, টিন সার্টিফিকেট ও শিক্ষাগত যোগ্যতায় ভুল তথ্য দেয়ার অজুহাতে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। আমি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। টিন সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স সবকিছুই আমি স্বচ্ছ কাগজপত্র দাখিল করেছি। সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার উদ্দেশ্যেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তবে আমি জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর আপিল করেছি। আগামী ১০ই ডিসেম্বর সকাল ১০টায় শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে। আশা করছি- শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পাবো। সেখানে না পেলে উচ্চ আদালতে যাবো। ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজীবউল্লাহ নাসের বলেন, হলফনামায় স্বাক্ষর ও নোটারি না থাকায় অভিযোগ দিয়ে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।  অথচ আমি হলফনামায় স্বাক্ষর ও নোটারি সবকিছু নির্ভুল তথ্য দিয়ে জমা দিয়েছি। সেই ফটোকপি আমার কাছে রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে আমার মূল হলফনামা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আজ আমি আপিল করবো। এদিকে মাগুরা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী খুরশিদ হায়দার টুটুল হলফনামায় জন্ম নিবন্ধনের সনদ ও এসএসসি সনদে দ্বৈত জন্ম তারিখ দিলে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়নি বলে অভিযাগ করেছেন বিরোধী প্রার্থীরা

No comments:

Post a Comment