পুলিশে ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই কনস্টেবল নিয়োগ
নিয়ে তদবিরের চাপে রয়েছে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপাররা। প্রভাবশালী নেতারা
তালিকা ধরিয়ে দিচ্ছেন পুলিশ সুপারদের হাতে। রাজনৈতিক কর্মী বলে নিয়োগের
জন্য চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু গোপনে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অঙ্কের অর্থ। পুলিশ
সুপারদের অনেকেই এসব তালিকা নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। কথা না শুনলে বদলি করে
দেয়া হবে বলে হুমকিও দেয়া হচ্ছে। পুলিশ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা
গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ
কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘ম্যানুপুলেশন’ করার কোনো সুযোগ নেই। নিয়ম
অনুযায়ী শারীরিক মাপে যোগ্য হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সেই
পরীক্ষার খাতায় শুধু কোড নম্বর থাকে। সেটি আলাদা একটি কমিটি দেখে। যার ফলে
নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক তদবির হয় কিংবা কোনো প্রেসার থাকে বলে আমার জানা
নেই। পুলিশ সূত্র জানায়, সারা দেশের ৬৪ জেলায় এবার একসঙ্গে ১০ হাজার
কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে সাড়ে ৮ হাজার পুরুষ কনস্টেবল ও
দেড় হাজার নারী কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে। গত ৩রা ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন
জেলায় শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা নেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী
১৩ই ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে।
কনস্টেবল নিয়োগের এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। বিভিন্ন জেলার প্রভাবশালী নেতারা পুলিশ সুপারদের
কাছে দলীয় কর্মী হিসেবে নিয়োগের জন্য চাপ দিয়ে তালিকা ধরিয়ে দিচ্ছেন। এসব
তালিকায় ১০ থেকে ৪০ জনের নাম পর্যন্ত রয়েছে। এসব তালিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট
পুলিশ সুপাররা এক প্রকারের বিপাকে রয়েছেন। সূত্র জানায়, এর আগে
মৌলভীবাজার ও ঠাকুরগাঁও জেলায় স্থানীয় এমপির তালিকা মতো নিয়োগ না দেয়ায়
বিষয়টি নিয়ে পারস্পরিক দোষারোপের অভিযোগ ওঠে। বিষয়গুলো নিয়ে পুলিশ সদর
দপ্তর থেকে তদন্ত করানো হয়। সেসব তদন্তেও স্থানীয় এমপির কথামতো নিয়োগ না
দেয়ায় জনপ্রতিনিধিরা পুলিশ সুপারদের প্রতি ক্ষিপ্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে জানা
গেছে, তারা অনেকেই স্থানীয় এমপির কাছ থেকে তালিকা পেয়েছেন। মন্ত্রী-এমপির
চাপের কথা স্বীকার করে একজন পুলিশ সুপার বলেন, অনেক সময় নানাবিধ কারণে কথা
শুনতে হয়। তা না হলে নানারকম ভুল তথ্য দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে
বিষোদ্গার করতে থাকেন। সূত্র জানায়, পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগের পুরো
বিষয়টি সাধারণত পুলিশ সুপারদের হাতে থাকে। প্রায় প্রত্যেক জেলাতেই নিয়োগের
ক্ষেত্রে অনিয়মের পুরনো অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,
চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এবার ঢাকা জেলায় সর্বাধিক সংখ্যক কনস্টেবল নিয়োগ
করা হবে। এই জেলায় ৫৯২ জন পুরুষ কনস্টেবল ও ১০৪ জন নারী কনস্টেবল নিয়োগ
দেয়া হবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন জেলার লোকজন ঢাকার আশেপাশের উপজেলায়
স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে পুলিশে নিয়োগ নিয়ে থাকে। এর কারণ হলো
ঢাকা জেলায় নিয়োগের কোটা বেশি থাকলেও এই জেলার বাসিন্দারা পুলিশ কনস্টেবল
হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করে থাকেন অনেক কম। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য
অনুযায়ী এবার ঢাকা ছাড়া অন্য জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৪৪৯ জন পুরুষ
কনস্টেবল ও ৭৯ জন নারী কনস্টেবল নিয়োগ দেয়া হবে। এছাড়া, গাজীপুরে ১৩৮ জন
পুরুষ ও ২৪ জন নারী, মানিকগঞ্জে ৮৯ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী, মুন্সীগঞ্জে ৮৮
জন নারী ও ১৬ জন নারী, নারায়ণগঞ্জে ১৪৯ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী, নরসিংদীতে
১৩১ জন পুরুষ ও ২৩ জন নারী, ফরিদপুরে ১২০ জন পুরুষ ও ২১ জন নারী,
গোপালগঞ্জে ৭৯ জন পুরুষ ও ১৪ জন নারী, মাদারীপুরে ৭৭ জন পুরুষ ও ১৪ জন
নারী, রাজবাড়ীতে ৬৫ জন পুরুষ ও ১২ জন নারী, শরীয়তপুরে ৭৪ জন পুরুষ ও ১৩ জন
নারী, জামালপুরে ১৪৪ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী, শেরপুরে ৮৭ জন পুরুষ ও ১৫ জন
নারী, কিশোরগঞ্জে ১৭৬ জন পুরুষ ও ৩১ জন নারী, নেত্রকোনায় ১৩৬ জন পুরুষ ও ২৪
জন নারী, ময়মনসিংহে ৩০৬ জন পুরুষ ও ৫৪ জন নারী, টাঙ্গাইলে ২২৪ জন পুরুষ ও
৪০ জন নারী, কক্সবাজারে ১২১ জন পুরুষ ও ২১ জন নারী, খাগড়াছড়িতে ৩৬ জন পুরুষ
ও ৬ জন নারী, বান্দরবানে ২০ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী, রাঙ্গামাটিতে ৩৬ জন
পুরুষ ও ৬ জন নারী, কুমিল্লায় ৩১৫ জন পুরুষ ও ৫৬ জন নারী, বি-বাড়িয়ায় ১৬৩
জন পুরুষ ও ২৯ জন নারী, চাঁদপুরে ১৫৪ জন পুরুষ ও ২৭ জন নারী, নোয়াখালীতে
১৭৭ জন পুরুষ ও ৩১ জন নারী, ফেনীতে ৮২ জন পুরুষ ও ১৫ জন নারী, লক্ষ্মীপুরে
২০২ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী, বগুড়ায় ২০৭ জন পুরুষ ও ৩৭ জন নারী, জয়পুরহাটে
৫৯ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী, পাবনায় ১৪৯ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী, সিরাজগঞ্জে
১৮৪ জন পুরুষ ও ৩২ জন নারী, রাজশাহীতে ১৫৬ জন পুরুষ ও ২৮ জন নারী, নওগাঁয়
১৬৪ জন পুরুষ ও ২৯ জন নারী, নাটোরে ১০৪ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী, চাঁপাই
নবাবগঞ্জে ৯৮ জন পুরুষ ও ১৭ জন নারী, রংপুরে ১৭৩ জন পুরুষ ও ৩১ জন নারী,
গাইবান্ধায় ১৪৬ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী, লালমনিরহাটে ৭৬ জন পুরুষ ও ১৩ জন
নারী, কুড়িগ্রামে ১২১ জন পুরুষ ও ২১ জন নারী, নীলফামারীতে ১০৭ জন পুরুষ ও
১৯ জন নারী, দিনাজপুরে ১৮১ জন পুরুষ ও ৩২ জন নারী, পঞ্চগড়ে ৫৮ জন পুরুষ ও
১০ জন নারী, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮৩ জন পুরুষ ও ১৫ জন নারী, খুলনায় ১৬১ জন পুরুষ ও
২৯ জন নারী, বাগেরহাটে ১০৪ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী, সাতক্ষীরায় ১২৭ জন পুরুষ
ও ২৭ জন নারী, যশোরে ১৭০ জন পুরুষ ও ৩০ জন নারী, ঝিনাইদহে ১০৮ জন পুরুষ ও
১৯ জন নারী, মাগুরায় ৫৬ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী, নড়াইলে ৪৮ জন পুরুষ ও ৮ জন
নারী, কুষ্টিয়ায় ১১৯ জন পুরুষ ও ২১ জন নারী, চুয়াডাঙ্গায় ৬৯ জন পুরুষ ও ১২
জন নারী, মেহেরপুরে ৪০ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী, বরিশালে ১৬১ জন পুরুষ ও ২৯ জন
নারী, ভোলায় ১১৭ জন পুরুষ ও ২১ জন নারী, ঝালকাঠিতে ৪৮ জন পুরুষ ও ৮ জন
নারী, পিরোজপুরে ৭৬ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী, বরগুনায় ৫৮ জন পুরুষ ও ১০ জন
নারী, পটুয়াখালীতে ১০০ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী, সিলেটে ১৭৫ জন পুরুষ ও ৩১ জন
নারী, হবিগঞ্জে ১২০ জন পুরুষ ও ২১ জন নারী, মৌলভীবাজারে ১১০ জন পুরুষ ও ২০
জন নারী এবং সুনামগঞ্জে ১৩৭ জন পুরুষ ও ২৪ জন নারী কনস্টেবল নিয়োগ করা
হবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment