![]() |
| চট্টগ্রামে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে ড্রাম এনে ডিকেন্টিং করা হচ্ছে। ছবিটি দক্ষিণ পতেঙ্গা ভিআইপি রোড থেকে তোলা : নয়া দিগন্ত |
সরকারের
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বিদেশ থেকে
ড্রামে ভরে নিন্মমানের বিটুমিন আমদানি করার পর ড্রাম থেকে খুলে তা গলিয়ে
বিপুল পরিমাণে বাজারজাত করছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এ পদ্ধতি
অনুসরণ করে বিটুমিন বাজারজাত করায় সেটির মান ধরে রাখা বেশ কঠিন বলেই
জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘১১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেই বিটুমিন গলাতে হয়। কিন্তু দ্রুত গলানোর জন্য তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় সংশ্লিষ্টরা। এতে বিটুমিনের গুণগত মান নিশ্চিত কমে যায়।’
চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, টঙ্গীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ড্রামভর্তি বিটুমিন গলানোর (ডিক্যান্টিং) কারখানাও গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে। কয়েকজন ব্যবসায়ীর সুবিধার জন্য দেশের রাস্তাঘাটের যে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে সেটি দেখার যেন কেউ নেই। অবৈধ এসব কারখানার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযান কিংবা ব্যবস্থা নিচ্ছে না সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের রাস্তাঘাট তৈরির জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত মাত্রা ও মানের না হওয়া এসব বিটুমিন ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। কারণ নিন্মমানের এসব বিটুমিনের স্থায়িত্ব কম হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই নষ্ট হয়ে যায় দেশের হাজার হাজার কিলোমিটার রাস্তাঘাট। এতে যান চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হয়, সড়ক দুর্ঘটনাসহ বাড়ে জনদুর্ভোগও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বৈধ আমদানিকারক জানান, জাহাজভর্তি করে বিটুমিন আমদানির পর বন্দর থেকে ছাড় করার আগেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং বুয়েটের ল্যাবরেটরিতে এর মান পরীক্ষা করা হয়। মান পরীক্ষার পর এসব বিটুমিন বাজারজাত করা হচ্ছে। অথচ ইরানে তৈরী নিন্মমানের বিটুমিন ড্রামে আমদানি করে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় গলিয়ে বাজারে ছাড়ার কারণে তৈরি হয়েছে অসম প্রতিযোগিতা। নিন্মমানের এসব বিটুমিনে রাস্তার কার্পেটিং দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বছর না পেরোতেই আবার ওই রাস্তা মেরামত করতে হয় সরকারি টাকা খরচ করে। ভালো গ্রেডের বিটুমিনে রাস্তার ক্ষতি হয় কম। এতে সরকারি টাকারও সাশ্রয় হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস্তা নির্মাণের ডিজাইন, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া ঠিক থাকলে বাংলাদেশে যেকোনো রাস্তা ১৫ বছরে নষ্ট হবে না। অথচ বর্ষা শুরুর আগেই আমাদের রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা হয়। বিদেশেও তো বৃষ্টি হয়। সেখানে তো রাস্তার তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। এখানে যে বিটুমিন ব্যবহার করা হয় সেগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মাঠপর্যায়ে যে ধরনের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ দরকার তা করা হয় না। এটা মনিটর করলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
চলতি বছরের ২৭ জুলাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয় ‘বিশেষ কারিগরি প্রয়োজন ব্যতীত উন্নয়ন প্রকল্পে বিটুমিনাস কাজে ৬০-৭০ গ্রেড মানের বিটুমিন ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর লাইসেন্স নিয়ে দেশে বিটুমিন আমদানি ও বাজারজাত কারী দু’টি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া চালান ব্যবহার করে অবৈধ বিটুমিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সারা দেশের বিটুমিন ব্যবহারকারীদের সাথে প্রতারণা করছে।
অবৈধ আমদানি ও কারখানার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদিত ড্রামভর্তি বিটুমিন অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সূত্র মতে বর্তমানে দেশে বিটুমিনের বার্ষিক চাহিদা হলো দেড় লাখ টন। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ হাজার টন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘১১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেই বিটুমিন গলাতে হয়। কিন্তু দ্রুত গলানোর জন্য তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় সংশ্লিষ্টরা। এতে বিটুমিনের গুণগত মান নিশ্চিত কমে যায়।’
চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, টঙ্গীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ড্রামভর্তি বিটুমিন গলানোর (ডিক্যান্টিং) কারখানাও গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে। কয়েকজন ব্যবসায়ীর সুবিধার জন্য দেশের রাস্তাঘাটের যে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে সেটি দেখার যেন কেউ নেই। অবৈধ এসব কারখানার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযান কিংবা ব্যবস্থা নিচ্ছে না সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের রাস্তাঘাট তৈরির জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত মাত্রা ও মানের না হওয়া এসব বিটুমিন ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। কারণ নিন্মমানের এসব বিটুমিনের স্থায়িত্ব কম হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই নষ্ট হয়ে যায় দেশের হাজার হাজার কিলোমিটার রাস্তাঘাট। এতে যান চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হয়, সড়ক দুর্ঘটনাসহ বাড়ে জনদুর্ভোগও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বৈধ আমদানিকারক জানান, জাহাজভর্তি করে বিটুমিন আমদানির পর বন্দর থেকে ছাড় করার আগেই বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং বুয়েটের ল্যাবরেটরিতে এর মান পরীক্ষা করা হয়। মান পরীক্ষার পর এসব বিটুমিন বাজারজাত করা হচ্ছে। অথচ ইরানে তৈরী নিন্মমানের বিটুমিন ড্রামে আমদানি করে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় গলিয়ে বাজারে ছাড়ার কারণে তৈরি হয়েছে অসম প্রতিযোগিতা। নিন্মমানের এসব বিটুমিনে রাস্তার কার্পেটিং দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বছর না পেরোতেই আবার ওই রাস্তা মেরামত করতে হয় সরকারি টাকা খরচ করে। ভালো গ্রেডের বিটুমিনে রাস্তার ক্ষতি হয় কম। এতে সরকারি টাকারও সাশ্রয় হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস্তা নির্মাণের ডিজাইন, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া ঠিক থাকলে বাংলাদেশে যেকোনো রাস্তা ১৫ বছরে নষ্ট হবে না। অথচ বর্ষা শুরুর আগেই আমাদের রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা হয়। বিদেশেও তো বৃষ্টি হয়। সেখানে তো রাস্তার তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। এখানে যে বিটুমিন ব্যবহার করা হয় সেগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মাঠপর্যায়ে যে ধরনের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ দরকার তা করা হয় না। এটা মনিটর করলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
চলতি বছরের ২৭ জুলাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বলা হয় ‘বিশেষ কারিগরি প্রয়োজন ব্যতীত উন্নয়ন প্রকল্পে বিটুমিনাস কাজে ৬০-৭০ গ্রেড মানের বিটুমিন ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর লাইসেন্স নিয়ে দেশে বিটুমিন আমদানি ও বাজারজাত কারী দু’টি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া চালান ব্যবহার করে অবৈধ বিটুমিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সারা দেশের বিটুমিন ব্যবহারকারীদের সাথে প্রতারণা করছে।
অবৈধ আমদানি ও কারখানার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদিত ড্রামভর্তি বিটুমিন অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সূত্র মতে বর্তমানে দেশে বিটুমিনের বার্ষিক চাহিদা হলো দেড় লাখ টন। এর মধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ হাজার টন।

No comments:
Post a Comment