Thursday, December 24, 2015

‘খালা আমার রোল মডেল’ -টিউলিপ সিদ্দিক

ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি করতে চেয়েছেন টিউলিপ সিদ্দিক, অন্য কিছু নয়। রাজনীতি মানে মানুষের সেবা করা—এই চেতনা টিউলিপের মধ্যে সঞ্চার করেছেন তাঁর খালা শেখ হাসিনা। খালা তাঁর রোল মডেল। নানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে চোখে দেখেননি, তাঁর গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
গতকাল বুধবার স্কলাসটিকা স্কুল আয়োজিত ‘অনুপ্রেরণাময়ী নারী’ শীর্ষক একটি আলোচনায় অংশ নিতে টিউলিপ সিদ্দিক গিয়েছিলেন স্কলাসটিকা স্কুলের উত্তরা শাখায়। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনে টিউলিপ এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে টিউলিপ মতবিনিময় করেন স্কুলছাত্রীদের সঙ্গে। স্কলাসটিকায় তিনি নিজে চার বছর পড়েছেন। কাল সে স্কুলেই অনুপ্রেরণাময়ী নারী হিসেবে উপস্থিত হতে পেরে তাঁর খুশির কথা জানান। রাজধানীর নয়টি স্কুলের ছাত্রীদের সঙ্গে টিউলিপসহ ২০ জন অনুপ্রেরণাময়ী নারী কথা বলেন। টিউলিপ ছাত্রীদের বলেন, ‘আমি রাজনীতি করতে চেয়েছিলাম। রাজনীতি করছি। তোমাদের যার যা করতে ইচ্ছে হয়, লক্ষ্য ঠিক রেখে তাই করার চেষ্টা করবে।’
সংবাদকর্মীদের প্রতি আয়োজকদের অনুরোধ ছিল যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে যেন বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করা না হয়। ঘুরেফিরে প্রশ্নটা এলই শেষ পর্যন্ত। এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছে তাঁর আছে কি না। একগাল হেসে টিউলিপ বললেন, ‘জানতাম, প্রশ্নটা উঠবেই। ভবিষ্যতে কি হয়, বলা যায়?’
রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে টিউলিপ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি রাজনীতি করতে চেয়েছি। আমি বড় হয়েছি যুদ্ধের গল্প শুনে। আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি, কিন্তু তাঁর অবদানের কথা জেনেছি। তিনি প্রেরণা জুগিয়েছেন। আমার মা-খালা শিখিয়েছেন রাজনীতি মানে মানুষকে সাহায্য করা। আমিও তাই মনে করি।’
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্ত হবেন কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে টিউলিপ বলেছেন, মানুষের জন্য কাজ করতে চাইলে সব জায়গা থেকেই করা যায়। টিউলিপ জানান, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপিরা ব্রিটেনের কারি ইন্ডাস্ট্রিতে যখন অভিবাসী বাংলাদেশিরা বিপদে পড়েছিলেন, তখন এগিয়ে গেছেন। ট্রাম্প যখন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিলেন, তখন তিনি তাঁর উদ্বেগের কথা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তুলে ধরেছেন।
টিউলিপ গতকাল ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। টিউলিপ বলেন, ‘কেউ কেউ বলেছিল যে আমি নির্বাচিত হলে শুধু আওয়ামী লীগের কথাই বলব। এমন একটা চ্যালেঞ্জে আমাকে পড়তে হয়েছিল। আমার আসনে খুব বেশি বাঙালি নেই। আমি মুসলিম। এসব চ্যালেঞ্জে আমাকে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু আমি ভোটারদের বোঝাতে পেরেছি। সিলেট, খুলনা, টাঙ্গাইলসহ অনেক জেলা থেকে মানুষ ব্রিটেনে গেছেন। তাঁরা সবাই আমার খোঁজখবর করেছেন। আমার শিকড় যে বাংলাদেশে, এটা ভেবে আমি গর্ববোধ করি। বিশেষ করে বাংলাদেশকে যখন ‘উদীয়মান অর্থনীতি’র দেশ বলা হয়, আমার অহংকার হয়।’
টিউলিপ বললেন, তাঁর এমপি হওয়ার পথটা খুব কঠিন ছিল। এর আগে যিনি তাঁর এলাকার এমপি ছিলেন, তিনি খুব জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন। নিজেকে ভোটারদের কাছে পরিচিত করে তুলতে টানা দুই বছর তিনি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গেছেন, স্কুলের অনুষ্ঠান, হাসপাতাল উদ্বোধন থেকে শুরু করে সব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর দল হারলেও তিনি জিতে গেছেন। তবে ঐতিহাসিকভাবেই লেবার পার্টির প্রতি অভিবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা আছে বলে জানান তিনি।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানের পর টিউলিপ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। তিনি বলেন, খালা তাঁর রোল মডেল। তাঁর মা, বাংলাদেশের সংসদের স্পিকার, নারী মন্ত্রী, ওয়াসফিয়া সবাই তাঁকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তাঁর মতে, নারী শুধু বাংলাদেশেই নয়, ব্রিটেনের মতো দেশেও প্রতিবন্ধকতার শিকার হন। টিউলিপ বলেন, ব্রিটেনের সংসদে সাড়ে ছয় শ আসন, নারী মাত্র ১৬০ জন।
অনুপ্রেরণাময়ী নারী হিসেবে টিউলিপ শুধু স্কলাসটিকা স্কুলেই নয়, দেশের অন্যান্য স্কুলেও যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

No comments:

Post a Comment