Wednesday, December 9, 2015

কুনিও হত্যা- রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি পুলিশের

জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। হত্যার ঘটনায় জেএমবি নেতা মাসুদ রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, মাসুদ রানা শুধু কুনিও নয়, রংপুরে মাজারের খাদেম এবং বাহাই সম্প্রদায়ের নেতার ওপর হামলার ঘটনায়ও জড়িত।গত ৩রা নভেম্বর রংপুরে কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় এর আগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেলের ভাইও রয়েছেন। এতদিন এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বড় ভাই তত্ত্ব প্রচার করা হয়েছিল। আইএস এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছিল বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যদিও বাংলাদেশ সরকার ওই দাবি নাকচ করে দিয়েছিল। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা কুনিও হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছি। মাসুদ রানা জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার এবং কুনিও হোশির হত্যাকারীদের অন্যতম। ওই জাপানিকে মাসুদ রানাই গুলি করেছে বলে সোমবার রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শফিউল আলমের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বলেছেন। গত মাসে কাউনিয়ার চৈতারমোড়ে মাজারের খাদেম রহমত আলীকে হত্যা এবং বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমীনকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গেও মাসুদ জড়িত বলেও জবানবন্দি দেয়। জেএমবি নেতা মাসুদ রানাকে গত বৃহস্পতিবার কাউনিয়ার কল্যাণী ইউনিয়নের পশুয়া টাঙ্গাইল পাড়ায় তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হুমায়ুন বলেন, তদন্তের স্বার্র্থে আমরা এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করিনি। জবানবন্দি নেয়ার পর আজ সাংবাদিকদের অবহিত করলাম।  ডিআইজি হুমায়ুন সাংবাদিকদের বলেন, কুনিওকে হত্যার পর থেকেই মাসুদ রানা পলাতক ছিল। বৃহস্পতিবার তার বাড়িতে আসার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে বাড়ির পুকুর থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো হাতবোমা তৈরির ৫০টি লোহার কৌটা ও তিনটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। ওই তিন ছোরার একটি দিয়েই খাদেমকে জবাই করা হয় বলে মাসুদ জানিয়েছে। পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, বাংলা ভাইয়ের যখন ফাঁসি হয়, তখন মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই বছর জেল খেটে জামিনে বের হয়ে আসার পর থেকে সে আত্মগোপনে ছিল। গত ২৮শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় কূটনৈতিক পাড়ায় ইতালিয়ান নাগরিক সিজার তাভেলাকে হত্যা করা হয়। এর এক সপ্তাহের মধ্যে ৩রা অক্টোবর রংপুরে কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। রংপুরের সাতমাথা-হারাগাছ সড়কের কাউনিয়ার আলুটারী গ্রামে সকালে মোটরসাইকেলে করে তিন দুর্বৃত্ত এসে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের মাত্র এক মাসের মাথায় ৮ই নভেম্বর ধাপ আরকে রোডে একই কায়দায় গুলি করা হয় বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিনকে। রুহুলকে গুলি করার তিন দিনের মাথায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর এলাকায় জাহাঙ্গীর আল সুরেশ্বরী মাজার শরীফের পরিচালক রহমত আলীকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

No comments:

Post a Comment