Wednesday, December 9, 2015

নিজামীর চূড়ান্ত রায় ৬ই জানুয়ারি

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায় আগামী বছরের ৬ই জানুয়ারি ঘোষণা করা হবে। গতকাল শুনানি শেষে এদিন নির্ধারণ করেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ৪ সদস্যের একটি বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। চূড়ান্ত  রায়ে নিজামীর সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে নিজামী ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার দায়ে গত বছরের ২৯শে অক্টোবর জামায়াতের শীর্ষ নেতা নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তার বিরুদ্ধে গঠন করা ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে চারটি অভিযোগে তাকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন মতিউর রহমান নিজামী। গতকাল শেষ দিনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি খণ্ডন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। আসামিপক্ষের যুক্তি খণ্ডনের মধ্য দিয়ে নিজামীর আপিল মামলার কার্যক্রম শেষ হলো। এর আগে সোমবার নিজামীর আপিলের ওপর রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি নিজামীর সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার আরজি জানান। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৩শে নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন নিজামী। ছয় হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার নথিপত্রসহ ১৬৮টি যুক্তি তুলে ধরে সাজার আদেশ বাতিল করে খালাস প্রার্থনা করেন তিনি। তবে, সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেনি রাষ্ট্রপক্ষ। গত ৯ই সেপ্টেম্বর নিজামীর আপিলের শুনানি শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২রা ডিসেম্বর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। ওই দিন আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপনকালে নিজামীর সাজা কমানোর আরজি জানান। এদিকে আপিলের চূড়ান্ত রায়ে নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগে মুজাহিদের ফাঁসি হয়েছে। একই অপরাধে রায়ের ধারাবাহিকতায় মতিউর রহমান নিজামীরও ফাঁসি চান তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আলবদর বাহিনী যখন গঠিত হয়, তখন তিনি (নিজামী) ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন। আর ছাত্রসংঘের সদস্যের সমন্বয়ে আলবদর গঠিত হয়। আলবদরদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ ছিল। তিনি বলেন, মুজাহিদের মামলার রায় আদালতে পেশ করেছি। ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতৃত্বে নিজামী-মুজাহিদ ও গোলাম আযমের নাম ছিলো। যেহেতু একই অপরাধে মুজাহিদের ফাঁসি হয়েছিলো। তাই রায়ের একই রকম ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একই অপরাধে নিজামীরও ফাঁসির দাবি করেছি। বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে মতিউর রহমান নিজামী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) না হলে তিনি হতাশ হবেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, যে সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে দেয়া হয়েছে, তাতে তিনি (মতিউর রহমান নিজামী) খালাস পাবেন বলে আমরা আশা করছি। তিনি বলেন, যদি ধরে নেয়া হয় যে, তিনি সহযোগী ছিলেন, তাহলেও তাকে যেন লঘুদণ্ড দেয়া হয়। আমাদের প্রত্যাশা নিজামী ন্যায়বিচার পাবেন। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯শে জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই বছরের ২রা আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১৩ সালের ২৮শে মে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খানসহ প্রসিকিউশনের পক্ষে ২৬ জন নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য  দেন। নিজামীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য  দেন তার ছেলে মো. নাজিবুর রহমানসহ চারজন।

No comments:

Post a Comment