Wednesday, December 9, 2015

নির্বাচনের নামে লোক দেখানো প্রহসন চলছে

নির্বাচনের নামে লোক দেখানো প্রহসন চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০দলীয় জোটের  শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া। বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো দিন আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করতে পারি না। এ নির্বাচন কমিশন হচ্ছে, শেখ হাসিনার পদলেহী ও আজ্ঞাবহ কমিশন। গতকাল রাতে গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিগত আন্দোলনে ও সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের নির্যাতনে পঙ্গু ছাত্রদল নেতারা দেখা করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি চারজন পঙ্গু চার ছাত্রনেতা-কর্মীকে আর্থিক সহায়তাও দেন। খালেদা জিয়া বলেন, পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এখনই নানা অনিয়ম করছে। তারা কি কি ষড়যন্ত্র করেছে এবং করছে তার সব তথ্যই আমাদের কাছে আছে। তারা চোরামি করে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে মানুষকে বলবে, আমরা জিতেছি। চোরামি বন্ধ করুন, জাতীয় নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ করুন- আপনারা নিরপেক্ষ। দলের গুম হওয়া নেতাকর্মীর স্বজনদের আকুতির কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নিজের দেশের মানুষকে হত্যা করা বন্ধ করুন। তিনি সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নিজের দেশের মানুষের দিকে তাকান। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, জঙ্গি জঙ্গি বলে আওয়ামী লীগ বিদেশিদের কাছে বোঝাতে চায় জঙ্গি দমনে তাদের প্রয়োজন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়। বিএনপি সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না, জঙ্গিতে বিশ্বাস করে না। আমাদের সময়ে জঙ্গিবাদের বিচার করেছি, শাস্তি দিয়েছি। র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, তারা নিরীহ লোকজনকে ধরে নিয়ে যায়। অনেকদিন আটকে রাখে। ঠিকমতো খেতে দেয় না। বীভৎস চেহারা বানিয়ে কিছুদিন পর নানা জিনিস দিয়ে তাদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করে। এভাবে তারা নিরীহ লোকদের ধরে নিয়ে জঙ্গি বানায়। র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদকে উদ্দেশ্য করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদকে বলি- এর পরিণতি ভালো হবে না, হতে পারে না। আপনাদেরও পরিবার আছে, বাবা-মা, সন্তান আছে। বুঝতে হবে। দলের গুম নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২ বছর ধরে নিখোঁজ নেতাকর্মীদের স্বজনরা আমার কাছে জানতে চায়- তাদের স্বজন কই? আমি এর কি উত্তর দেব। কিছুদিন আগেও রংপুরে আমাদের নেতা মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেনকে গুম করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনের মুখে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। আল্লাহ যদি থেকে থাকেন তবে এর বিচার হবে। আমরা আল্লাহর বিচার পাব। তিনি দেশের মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জাগুন-জাগুন। আর কতো হলে আপনাদের বিবেক নাড়া দেবে। আপনারা সাড়া দেবেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, পুলিশকে ভয় দেখানো হয়- বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চাকরি থাকবে না। কিন্তু তারা তো কোন অপরাধ করেননি। অপরাধ করেছে শেখ হাসিনা। সেই পুলিশকে নির্দেশ দিচ্ছে। আওয়ামী লীগই পুলিশের চরিত্র নষ্ট করেছে। আমি পুলিশ বাহিনীকে বলতে চাই, সামরিক বাহিনীকে বলতে চাই- আপনারা এ দেশের সন্তান। খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে বিচার বিভাগের একপক্ষীয় মনোভাবের সমালোচনা করেন। বিচার বিভাগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা শপথ নিয়েছেন, শপথ রক্ষা করে চলুন। ন্যায় বিচার করুন। প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করুন। বিএনপি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় দেখা হবে না। প্রশাসনের দক্ষতা ও যোগ্যতা দেখেই পদোন্নতি দেয়া হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। এ মাস মানুষের আনন্দ করার মাস। কিন্তু ডিসেম্বর জুড়ে আওয়ামী লীগ মানুষ হত্যা করছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে শরণার্থীর দল। প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের দল হচ্ছে বিএনপি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিএনপিতেই সর্বাধিক সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি খুন হয়েছে। কারণ তাদের কাছে এমন তথ্য ছিল যে, যেখানে সরকারের গোমর ফাঁস হতো। অনেকেই চাপের মুখেও  ফেসবুকে লিখতেন। আওয়ামী লীগ সে ফেসবুকও বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিগত আন্দোলনে ও সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের নির্যাতনে পঙ্গু ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণে আলোচনা করতেই দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ বৈঠকে নির্বাচনের প্রচারণা ও সমন্বয়ের জন্য কয়েকটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, কোন সরকারি সুবিধাভোগী নন বলে এ নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন খালেদা জিয়া। কিন্তু কিছু বিধি-নিষেধও রয়েছে। ফলে ২০দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া পৌর নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেয়ার সম্ভাব্য কৌশল নিয়েও আলোচনা হবে। এছাড়া, পৌর নির্বাচনে ক’টি পৌরসভায় জোটের শরিক দল জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের ছাড় দেয়া হবে সে বিষয়টিও চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

No comments:

Post a Comment