Sunday, December 6, 2015

ফেসবুকের দুই কর্মকর্তা ঢাকায় বৈঠক আজ

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিয়ন্ত্রণ চায় সরকার। এ লক্ষ্যে চুক্তির প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের রাজি হওয়া না হওয়ার ওপর। সরকারের অন্যতম চাওয়া বাংলাদেশে ফেসবুক তাদের সার্ভার বা আ্যাডমিন স্থাপন করবে। এটা সম্ভব হলেই কেবল বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে সরকার। বিষয়টি নিয়ে আজ সকাল ৯টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসছে সরকার। এরইমধ্যে ফেসবুকের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকায় এসেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তি করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখানো হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ফেসবুকের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পলিসি ম্যানেজার দিপালী লিবারেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার আইন ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা বিক্রম ল্যাংয়ে বৈঠকে অংশ নেবেন। আর সরকারের তরফ থেকে বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খান কামাল। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ বিটিআরসি ও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ফেসবুকের দুই কর্মকর্তা ঢাকায় এসেছেন। আমাদের সমস্যাগুলো তাদের জানাবো। তারাও এ ব্যাপারে ইতিবাচক বলে আমাদের জানিয়েছে। ফলে ওই বৈঠকে দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে বলে আমি আশাবাদী। সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর ফেসবুকের কর্মকর্তারা বেলা ৩টায় টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। কারণ ফেসবুক কর্মকর্তারা তারানা হালিমের ব্যক্তিগত ই-মেইলের জবাব দিয়েছে এবং তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। ওই বৈঠকেও নারীদের সাইবার ক্রাইমে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কি করতে পারে সে ব্যাপারে আলোচনা হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এই বৈঠকের সঙ্গে ফেসবুক খোলা বা বন্ধ রাখার কোনো সম্পর্ক নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে সবুজ সংকেত পেলেই ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যম চালু করা হবে। আলোচিত এ বৈঠক নিয়ে কোন ধরনের ব্রিফিং করা হবে না বলে আগেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, ফেসবুক কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বৈঠকের আগে বা পরে কোন ব্রিফিং করা হচ্ছে না। এর আগে আলোচনার আগ্রহের কথা জানিয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। ওই চিঠির জবাবে সরকারের আহ্বানে সাড়া দেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তার অজুহাতে গত ১৮ই নভেম্বর থেকে ফেসবুক-ভাইবার-হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগের কয়েকটি মাধ্যম বন্ধ করে দেয় সরকার। দুটি আলাদা নির্দেশনায় এসব মাধ্যম বন্ধ করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে। ওই দিন দুপুরে প্রথম নির্দেশনায় ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করার নির্দেশনা দেয় বিটিআরসি। পরে আরেকটি নির্দেশনায় লাইন, ট্যাংগো, হ্যাংআউটসহ আরও কয়েকটি মাধ্যম বন্ধের কথা জানানো হয়। বর্তমানে দেশে পাঁচ কোটি ৪১ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক কোটি ৮০ লাখ। রাষ্ট্র বিরোধী, নারীর প্রতি অবমাননাসহ নানা ধরনের পোস্ট দেয়া হয় ফেসবুকে। এধরনের হাজারো অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ফেসবুকের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ধরনের চুক্তি না থাকায় এগুলো প্রত্যাহার বা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।

No comments:

Post a Comment