Thursday, December 24, 2015

রামাদি পুনর্দখলের পথে ইরাকি বাহিনী

রামাদির দক্ষিণে আল-আরামিল এলাকায় সারি বেঁধে থাকা
সাঁজোয়া যানের পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় ইরাকি সেনারা।
ছবিটি মঙ্গলবার তোলা l এএফপি
ইরাকের রামাদি শহরে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি গতকাল বুধবার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। গত মে মাসে আনবার প্রদেশের এ রাজধানী শহর দখল করে নিয়েছিল আইএস। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
ইরাকের সন্ত্রাস-দমন বিষয়ক বিভাগ সিটিএস-এর নেতৃত্বাধীন সরকারি বাহিনীর সদস্যরা গত মঙ্গলবার রামাদির একেবারে কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। এর এক দিন পর গতকাল তারা শহরের সরকারি দপ্তরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে অগ্রসর হয়।
সিটিএস বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘সেনারা শহরের হজ নামের এলাকায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখানে সরকারি দপ্তরগুলো অবস্থিত।’
সেনারা সরকারি স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হলে তা হবে রামাদির পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে আরেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সিটিএসের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার দাবি করেন, তিন দিনের মধ্যে তাঁদের বাহিনী শহরটি আবার দখলে নিয়ে নেবে।
খবরে বলা হয়, আইএসের ওপর নিয়মিতভাবে বিমান হামলা চালিয়ে লড়াইয়ে ইরাকি সেনাদের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী।
বিবদমান পক্ষগুলোর হামলা ও পাল্টা হামলায় ধ্বংসস্তূপের শহরে পরিণত হয়েছে রামাদি। জনশূন্য সড়কগুলোতে ভবনের ধ্বংসাবশেষ ও গোলাবারুদের টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় শহরে সতর্কতার সঙ্গে ঢুকতে হচ্ছে সরকারি সেনাদের। এ ছাড়া আইএসের পরিত্যক্ত স্থানগুলোতে তাদের ফেলে রাখা ফাঁদ, রাস্তার ধারে পুঁতে রাখা বোমা ও বিস্ফোরকে ভরা ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের দিকেও খেয়াল রেখে এগোতে হচ্ছে তাদের।
রামাদিতে ইরাকি সেনাদের প্রবেশের আগে কর্মকর্তাদের অনুমান ছিল, শহরটির কেন্দ্রে তিন শর বেশি আইএস যোদ্ধা নেই।
ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল স্টিভ ওয়ারেন মঙ্গলবার বলেন, রামাদির পতন অনিবার্য। চূড়ান্ত ক্ষণ সামনেই। তবে কঠিন লড়াই হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সেখানে এখনো হাজারো বেসামরিক মানুষ আটকা পড়ে আছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কিছু লোককে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে আইএস।
কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ইরাকি বাহিনী শহরটি ঘিরে ফেলার মধ্যে আইএস সদস্যরা বেরিয়ে যাচ্ছে।
খবরে বলা হয়, সরকারি বাহিনীর পক্ষে রামাদি পুনর্দখল করা সম্ভব হলে আইএস-নিয়ন্ত্রিত ফালুজা শহরেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে আইএস সদস্যরা। ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে বেশি দূরে নয় শহরটি। আইএস রামাদি হারালে ইরাকে তাদের স্বঘোষিত ‘খেলাফত’ টিকে থাকার বিষয়টিও ঝুঁকিতে পড়বে।
ইরাকের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালেদ আল-ওবেইদি গত সপ্তাহে বলেন, ইরাকি বাহিনী ও তাদের মিত্রদের সফল আক্রমণের মুখে দেশটিতে আইএসের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ওবেইদি দাবি করেন, গত বছর তাঁদের দখলে থাকা এলাকা ৪০ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশে নেমে এসেছে।
দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পর রামাদি শহর পুনর্দখলের কাছাকাছি অবস্থানে আসতে সক্ষম হয়েছে ইরাকি সেনারা। আইএসের কাছে এ শহরের দখল হারানোর ঘটনাটিকে জঙ্গি সংগঠনটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাগদাদের সবচেয়ে বড় পরাজয় বলে গণ্য করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ মসুল শহর এখনো আইএসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

No comments:

Post a Comment