Friday, December 25, 2015

সিপিডি দেশের উন্নতি দেখে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

তোফায়েল আহমেদ
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘আমাদের উন্নতি তারা দেখে না। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সম্মেলনে সবাই বাংলাদেশকে প্রশংসার চোখে দেখেছে। অথচ সিপিডি কিছুই দেখতে পায়নি।’
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন।
কেনিয়ার নাইরোবিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিও মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) প্রাপ্তিকে হতাশাজনক বলেছে সিপিডি। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি এই মূল্যায়নের কথা জানায়।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সিপিডি একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান। তাদের নিয়ে আমার কথা বলা মানানসই নয়। অন্তত দেখতে ভালো লাগে না। ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যে সফলতাগুলো অর্জন করেছি, তা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছি। সাংবাদিকেরা ক্ষমা করবেন। যেহেতু এগুলো অর্জন, তাই বোধ হয় সিপিডি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, ডব্লিউটিও সম্মেলনে প্রাপ্তি হতাশাজনক। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলি, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, সিপিডির কোনো প্রতিনিধিকে ডব্লিউটিওর সম্মেলনের ধারেকাছেও দেখিনি।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সিপিডির লোকজনও ডব্লিউটিওর সম্মেলনে গিয়েছেন। কিন্তু বাইরে দূরে তাঁরা ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নিয়ে বৈঠক করেছেন। আমাকেও যেতে বলেছিলেন তাঁদের বৈঠকে। কিন্তু আমার যাওয়া সম্ভব হয়নি। সুতরাং ভেতরে কী হলো, কী হলো না, তাঁদের জানার কথা নয়। অথচ তাঁরা বলে দিলেন সম্মেলনের প্রাপ্তি হতাশাজনক।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ওষুধ খাতে ১৭ বছরের মেধাস্বত্ব মানা থেকে অব্যাহতি পেয়েছি। ডব্লিউটিও সম্মেলনে এই অব্যাহতি গৃহীত না হলে তা বাস্তবায়ন করা যায় না। এবারের সম্মেলনে তা গৃহীত হয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এটা কি আমাদের প্রাপ্তি নয়?’ তিনি বলেন, পণ্য উৎপাদনে রুলস অব অরিজিন (উৎসবিধি) শিথিল হয়েছে। সেবা খাতে ছাড় (সার্ভিস ওয়েভার) পাওয়া গেছে। এগুলোও তো প্রাপ্তি। অথচ সিপিডির চোখে এগুলো পড়েনি।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, সিপিডির সংবাদ সম্মেলনের পরেই দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও মোস্তাফিজুর রহমানের (সিপিডির নির্বাহী পরিচালক) সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের সম্মান করি আমি। সিপিডির সঙ্গেও আমার সম্পর্ক আছে। কিন্তু কোনো দিন তাঁরা বাংলাদেশের ভালো কাজের প্রশংসা করেননি। কোনো দিন তাঁরা আমাদের উন্নতি দেখেন না।’
মন্ত্রী বলেন, উন্নতির সব সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে। পাকিস্তানের চেয়ে সব সূচকেই এগিয়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতের চেয়েও এগিয়ে। অমর্ত্য সেনও এই কথা বলেছেন। সম্প্রতি বলেছেন কৌশিক বসুও (বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ)।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য তো জেনেভায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তিনি কী করেছিলেন? তাঁর অর্জন কী? অথচ জেনেভায় বর্তমানের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান ও মোস্তফা আবিদ খান চমৎকার কাজ করছেন।’ তিনি বলেন, ‘খারাপ লাগে, দেশের জন্য কষ্ট করি, পরিশ্রম করি, এগুলোর কোনো মূল্যায়ন নেই।’
পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া প্রায় সবার কাছ থেকে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের কিছু অর্জন নিয়ে সিপিডি হতাশ। কিন্তু কোন দেশের কারণে হতাশ, ওই দেশের নামটা কিন্তু সিপিডি বলেনি। আমার মনে হয় বললে তাদের অসুবিধা আছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডব্লিউটিওর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও এবারের সম্মেলন থেকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর যে প্রত্যাশা ছিল, তার বিপরীতে প্রাপ্তি নিয়ে আমরা সমালোচনা করেছি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কোনো অর্জনকে খাটো করা হয়নি বা এককভাবে বাংলাদেশের সমালোচনা করা হয়নি।’
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘আমার মনে হয়, সিপিডি অত গভীরে গিয়ে দেখেনি।’ বাংলাদেশের উন্নতি থামিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, গ্লাসের অর্ধেক খালি বা অর্ধেক ভরা। দুটিই সত্য। ডব্লিউটিওর এবারের সম্মেলন থেকে কতটুকু অর্জন, তা তো গোপন করার কিছু নেই। কারণ, সম্মেলনের ঘোষণাপত্রেই সব লেখা আছে। এ ধরনের সম্মেলন থেকে একক দেশ হিসেবে আলাদা কিছু অর্জন থাকে না। গোষ্ঠীগতভাবেই আলোচনা হয় এবং অর্জনগুলোও হয় সবার জন্য। বাংলাদেশ এবারের সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশের পক্ষ হয়ে কাজ করেছে, সম্মিলিত প্রস্তাবই উপস্থাপন করেছে। আর যেটুকু পেয়েছে, সেটাও সম্মিলিত অর্জন।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির বলেন, ওষুধ খাতে মেধাস্বত্ব মানা থেকে ১৭ বছরের অব্যাহতি একটা বড় অর্জন। এটা এমনিতেই হয়নি। এলডিসির অন্য কেউ ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম নয় বলে কোনো কোনো উন্নত দেশ এলডিসির কোনো কোনো সদস্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ একা হয়ে গিয়েছিল। ওই সব এলডিসিকে বুঝিয়ে পক্ষে আনতে হয়েছে আর তাতে লাভবান হয়েছে একমাত্র বাংলাদেশ।

No comments:

Post a Comment