Monday, December 7, 2015

অনিয়ম-অপরাধে শতাধিক বিজিবি সদস্য চাকরিচ্যুত

 বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবিতে অনিয়ম-অপরাধের কারণে গত তিন বছরে প্রায় শতাধিক বিজিবি সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সীমান্তে কড়া নজরদারির কারণে মাদক পাচার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফেনসিডিল অনুপ্রবেশ কমে এসেছে। এরপরও যা আসছে তা আমাদের উদ্বেগের কারণ। এক্ষেত্রে চাহিদার জায়গা নিয়ন্ত্রণ করলে সাপ্লাই কমে যাবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবির ডিজি বলেন, আমাদেরও দুর্বলতা আছে। আমি কখনও বলব না, আমাদের শতভাগ লোক ধোঁয়া তুলসিপাতা। তবে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ মাদকসহ অন্যান্য চোরাচালানে সম্পৃক্ততা ও ‘নারীঘটিত’ কারণে গত তিন বছরে প্রায় একশ জনকে বিজিবি থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে বিজিবির বিভিন্ন অর্জন নিয়ে কথা বলেন মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। ২০১২ সালের ৫ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর দায়িত্ব নেন সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা। বিজিবির ডিজি বলেন, যে কোনো ধরনের জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, গত তিন বছরে বিজিবির জন্য ২৭৬টি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। রণকৌশল নির্ধারণে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রশিক্ষণে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবারই প্রথম বিজিবিতে একশ নারী সদস্য যুক্ত হচ্ছে জানিয়ে বিজিবির ডিজি বলেন, বিজিবিতে যুক্ত হওয়া নারী সদস্যদের আগামী জানুয়ারিতে প্রশিক্ষণ শুরু হবে। সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি এটা সত্য। তবে কিছুটা কমে এসেছে। রাতের আঁধারে সীমান্ত অতিক্রম না করলে এটা আরও কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আজিজ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা মারণাস্ত্র ব্যবহার করেন, কিন্তু ভারত এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করে না। মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির রাজনৈতিক শাখার প্রধানকে ভারত আটক করার পর বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, মিয়ানমার-সংলগ্ন বাংলাদেশ সীমান্তে সেনাবাহিনী ও বিজিবির যৌথ অভিযানের পর মিয়ানমার আশ্বস্ত হয়েছে যে বাংলাদেশ তাদের দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রশ্রয় দেয় না। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ভালো হয়েছে। চালু হচ্ছে সীমান্ত ব্যাংক: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবি ‘সীমান্ত ব্যাংক’ নামে একটি ব্যাংক চালু করবে বলে জানিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। এটি বিজিবির কল্যাণ তহবিলের অধীনে পরিচালিত হবে। বিজিবি সূত্র জানায়, ব্যাংক স্থাপনের ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রাইফেলস কল্যাণ সংস্থা ব্যাংকটি পরিচালনা করবে। বিজিবির মহাপরিচালক পদাধিকারবলে এই ব্যাংকের প্রধান হবেন। সূত্র জানায়, নতুন এই ব্যাংক স্থাপনের ব্যাপারে যাবতীয় কর্মকাণ্ড প্রায় শেষ করে ফেলেছে বিজিবি। এতে অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন থাকবে ১০০ কোটি টাকা। ঝিগাতলা সীমান্ত স্কয়ারের কাছে যে নতুন ভবন হচ্ছে, সেখানেই এই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হবে। ব্যাংকে চাকরির ক্ষেত্রে বিজিবির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যরা সুবিধা পাবেন। তাদের জন্য কোটা থাকবে। একইভাবে ঋণের ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ সুবিধা পাবেন। বিজিবির একটি সূত্র জানায়, সীমান্ত ব্যাংকের সবকিছু হবে সেনাবাহিনী পরিচালিত ট্রাস্ট ব্যাংককে অনুসরণ করে।

No comments:

Post a Comment