২০১৩ সালের অনার্স পার্ট-৪ (ফাইনাল) পরীক্ষার ফল সংশোধন ও দ্রুত খাতা
পুনঃমূল্যায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ
অব্যাহত রেখেছে। অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করতে বাধ্য হয়েছেন। বৈঠকে জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ অঙ্গীকার করেন আবেদনের পর
মাত্র ১০ দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হবে। প্রথমবার গ্রেডিং
পদ্ধতিতে ফল প্রকাশ করাই অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি অভিযোগ তুলে
আন্দোলন করছিল। প্রকাশিত ফল বাতিল করে নতুন করে ফল প্রকাশ করার দাবি জানান
তারা। এ বছর থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একক পরীক্ষক পদ্ধতিতে
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করেছে। অনার্স পার্ট-৪ পরীক্ষার খাতা
একক পরীক্ষকের মাধ্যমে মূল্যায়নের ফলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিস সূত্রে জানা যায়। সূত্র জানান,
পরিস্থিতি সামাল দিতে কোন ধরনের পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না কর্তৃপক্ষের।
অনার্স পার্ট-৪ (ফাইনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরদিন থেকেই জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে (গাজীপুর) পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে
আসছেন। সর্বশেষ দফায় গতকাল শিক্ষার্থী-পরীক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে
প্রবেশ করে মূল ফটক বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের সমস্যা শুনতে
রাজি হন এবং পুনঃনিরীক্ষার ফল আবেদনের পরবর্তী দশ দিনের মধ্যে প্রকাশের
অঙ্গীকার করেন। কোনো পরীক্ষার্থী তার খাতা দেখতে চাইলে তাকে খাতা দেখানোরও
দাবি মেনে নেন। এছাড়া, প্রতি বিষয়ে খাতা মূল্যায়নের জন্য যে চার্জ ধার্য
করা হয়েছে তা কমানোর দাবিও মেনে নেন। এখন প্রতি বিষয়ে মাত্র ১শ’ টাকার
বিনিময়ে পুনঃমূল্যায়নের আবেদন করা যাবে। তবে, এর সঙ্গে কিছু সারচার্জ যুক্ত
হবে। সেটিও অত্যন্ত কম ধার্য করা হয়েছে। সর্বসাকুল্যে মাত্র ১৫০ টাকার
মধ্যেই পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করতে পারবেন। এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান বলেন, প্রথম বার গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল
প্রকাশ হওয়ায় কিছু শিক্ষার্থীর বিষয়টি বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। আগামীতে এটি আর
হবে না। শিক্ষার্থীদের দাবির ব্যাপারে ভিসি স্যার যেটি বলেছে সেটি চূড়ান্ত।
ভুক্তভোগী টঙ্গী সরকারি কলেজের ছাত্র সৈকত আহমদ জানান, অনার্স পার্ট-৪
পরীক্ষার ফলাফলে দেশের বিভিন্ন কলেজের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষার্থীর একেকজন
একেক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এ কারণে তারা মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারছে না।
তাদের দাবি ওইসব পরীক্ষার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি। এদের মধ্যে
অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনার্স পাট-৩ পর্যন্ত সকল বিষয়ে ভালো ফলাফল করেছে। খাতা
যথাযথ মূল্যায়িত হলে তারা পাস করতো। ঢাকার লালমাটিয়া মহিলা কলেজের উদ্ভিদ
বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী শারমিন আক্তার জানান, খাতা পুনঃমূল্যায়নের জন্য
কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করলে ৮৪৬ টাকা খরচ হয়। প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষার্থীর
খাতা পুনঃমূল্যায়নে বিপুল পরিমাণ টাকা প্রয়োজন। তারা বিনা খরচে খাতা
মূল্যায়নের দাবি জানান। গত ২৬শে নভেম্বর ২০০৯-১০ সেশনে ভর্তি হওয়া
শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বর্ষের ফল প্রকাশ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ
পরীক্ষায় ২৮টি বিষয়ে ২৪৫টি কলেজের ১৪৬টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫১
পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এতে পাস করে শতকরা ৭৬ দশমিক ১২ ভাগ। সেই হিসেবে
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৪ ভাগের কাছাকাছি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment