ব্যক্তিগত গাড়িতে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের নামসংবলিত স্টিকার ব্যবহার নিষিদ্ধ
করেছে সরকার। এ বিষয়টি মনিটরিং করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ
দেয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়িতে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্টিকার লাগিয়ে
মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ জিনিস বহনের দায়ে এর আগে অনেক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার
গাড়ি আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণেই গত ৩০শে নভেম্বর পরিপত্র জারি
করে ব্যক্তিগত গাড়িতে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের নামসংবলিত স্টিকার ব্যবহার
নিষিদ্ধ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের
চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সরকারি
কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়িতে মন্ত্রণালয়/দপ্তরের
নামসংবলিত স্টিকার ব্যবহার করছেন। এ ধরনের ব্যক্তিগত গাড়ি কখনও কখনও অবৈধ
কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সরকারি
কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এমন অবস্থায়, যথাযথ সরকারি
কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত স্টিকার ছাড়া সরকারের মনোগ্রামযুক্ত
মন্ত্রণালয়/দপ্তরের নামসংবলিত কোনোপ্রকার স্টিকার/কম্পিউটার
কম্পোজকৃত/টাইপকৃত/অন্য কোনোভাবে প্রস্তুতকৃত বোর্ড/পোস্টার ইত্যাদি
ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হলো।
এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে কিনা- এ বিষয়ে সব মন্ত্রণালয় ও
বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এর আগে গত নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে
কুমিল্লার চান্দিনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিবের গাড়ি
থেকে ৩০০ বোতল ফেরসিডিল উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। ওই দিন খাদঘর নামক এলাকায়
অভিযান চালিয়ে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়’
স্টিকারসংবলিত একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ-৩৭-০৩৬৮) থেকে এসব
ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাশার নামে ওই গাড়ির চালককে আটক করা হয়। আটক
গাড়িচালক বাশার জানান, গাড়িটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব
মো. আবদুল্লাহ হাক্কানীর। এ সময় গাড়িতে থাকা সিনিয়র সহকারী সচিবের সিল,
ভিজিটিং কার্ডও পাওয়া যায়। এর আগে এ বছরের এপ্রিলে সিলেটের সাবেক ডিসি
শহীদুল ইসলামের স্ত্রীর গাড়িচালককে ফেনসিডিলসহ আটক করে র্যাব। সিলেট শহরের
শিবগঞ্জ শাকিল কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে ডিসির স্ত্রীর ব্যবহৃত
সরকারি গাড়ি নম্বর (সিলেট-ঘ ১১-০২৫৭) আটক করে। এ সময় র্যাব ফেনসিডিল
ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চালক রুমন মিয়াকে আটক করে। গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে
র্যাব ডারবি সিগারেটের কার্টনে রাখা ১৮২ বোতল জেনোসেডিল ও ১৯৩ বোতল
ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ দুই ঘটনা সরকারের উচ্চপর্যায়ের টনক নাড়িয়ে দেয়।
তারা বদনাম ঘুচানোর জন্য উপায় খুঁজতে থাকেন। এর ভিত্তিতেই পরিপত্র জারি করা
হয়েছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment