কিশোরগঞ্জ সাতটি পৌরসভার মধ্যে পাঁচটিতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী
প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে চারটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের
ছয় বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তিনটি পৌরসভায় বিএনপির তিন বিদ্রোহী প্রার্থী
মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে চার পৌরসভার মধ্যে কেবল হোসেনপুর পৌরসভাতেই
আওয়ামী লীগের তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর বাইরে
করিমগঞ্জ, কটিয়াদী ও বাজিতপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের একজন করে বিদ্রোহী
প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ সদর, কটিয়াদী ও হোসেনপুরে বিএনপির
একজন করে বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জেলার অপর দুই পৌরসভা
কুলিয়ারচর ও বাজিতপুরে কোন দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। এদিকে মনোনয়নপত্র
দাখিলের মাধ্যমে বিদ্রোহী প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলের মনোনীত
প্রার্থীদেরই অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছেন। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে এক
ধরনের টেনশন কাজ করছে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। মনোনয়নপত্র
প্রত্যাহারের সময়ে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে
নেবেন, দু’দলের নেতারা এমন আশা করলেও বাস্তবে তেমনটি না-ও হতে পারে। ফলে
যেসব পৌরসভায় শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে থাকবেন, সেসব পৌরসভায়
দল মনোনীত প্রার্থীদের কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে বলেই মনে করছেন
সংশ্লিষ্টরা। কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী
মো. পারভেজ মিয়া এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম। এখানে আওয়ামী
লীগের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও বিএনপিতে দলীয় প্রার্থিতাকে
চ্যালেঞ্জ করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী
ইসরাইল মিয়া। এই পৌরসভায় বিগত নির্বাচনেও বিএনপির সমর্থন পেয়েছিলেন দলটির
জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। কিন্তু দলীয় কোন্দলের জেরে
বিএনপির আরেক নেতা পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ আবু তাহের মিয়া নির্বাচনে
প্রার্থী হলে কপাল পুড়ে তার। এ ছাড়া নির্বাচনের আগের দিন বিএনপি এই দুই
প্রার্থীকে নিয়ে চলে পালটাপালটি বহিষ্কারের খেলা। ফলে স্বল্প ভোটের
ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন মাজহারুল ইসলাম। এবারের
নির্বাচনেও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হাজী ইসরাইল মিয়া বিদ্রোহী
প্রার্থী হওয়ায় টেনশন ছড়িয়ে পড়ছে দলের তৃণমূল এবং সমর্থক ভোটারদের মাঝে। এই
পৌরসভায় মনোনয়নপত্র জমাদানকারী অন্যরা হলেন- সিপিবির মো. আবুল হাশেম এবং
বিকল্প ধারার ফারুক আহমেদ খান। করিমগঞ্জ: করিমগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ
প্রার্থী কামরুল ইসলাম চৌধুরী মামুন এবং বিএনপি প্রার্থী আশরাফ হোসেন
পাভেল। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা
দিয়েছেন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক বর্তমান মেয়র হাজি আবদুল কাইয়ুম। মূলত
দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা নিয়ে আগে থেকেই এখানে আওয়ামী লীগের গৃহদাহ ফের প্রকাশ্য
রূপ নেয়। ফলে পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী
মামুন দলীয় মনোনয়ন পেলে তুঙ্গে ওঠে এই বিরোধ। এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ হাজি আবদুল
কাইয়ুম সমর্থকরা দলীয় প্রার্থিতাকে চ্যালেঞ্জ করে শুরু করেন নির্বাচনী
তৎপরতা। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মনোনয়নপত্রও জমা দেন বর্তমান
মেয়র হাজি আবদুল কাইয়ুম। নির্বাচনে লড়ার জন্যে দু-নেতাই মনোনয়নপত্র জমা
দেয়ায় তাই নতুন করে হিসাব-নিকাশ চলছে দলটিতে। কটিয়াদী: কটিয়াদী পৌরসভায়
আওয়ামী লীগ প্রার্থী শওকত উসমান শুক্কুর আলী এবং বিএনপি প্রার্থী বর্তমান
মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী
হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক তানভীরুল হক রাহাত ও বিএনপির বিদ্রোহী
প্রার্থী হিসেবে উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মো. গোলাম ফারুক চাষী মনোনয়নপত্র
জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া এই পৌরসভায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র
জমা দিয়েছেন অ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন আহমেদ। বাজিতপুর: বাজিতপুর পৌরসভায়
আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন আশরাফ এবং বিএনপি প্রার্থী বর্তমান
মেয়র এহসান কুফিয়া। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে
মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. শওকত আকবর। রাজনৈতিক
গ্রুপিং-লবিং ও নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে বাজিতপুর পৌরসভার নির্বাচনে নৌকা
প্রতীক পান কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল
হোসেনের ছোট ভাই উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন আশরাফ।
মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় বিদ্রোহ করেন আরেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য
শওকত আকবর। শওকত আকবর সাবেক পৌর মেয়র হাজি মিজবাহ উদ্দিনের ছেলে এবং
উপজেলা চেয়ারম্যান সারোয়ার আলমের ছোট ভাই। এমনিতেই এই পৌরসভায় বিএনপি
প্রার্থী বর্তমান মেয়র এহসান কুফিয়ার অবস্থান বেশ সংহত হওয়ায় বিদ্রোহী
প্রার্থী শওকত আকবর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর জন্য গলার কাঁটায় পরিণত
হয়েছেন বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। এ ছাড়া এই পৌরসভায় ইসলামী আন্দোলনের
প্রার্থী হিসেবে সেলিম খান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।হোসেনপুর: হোসেনপুর
পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল কাইয়ুম খোকন এবং বিএনপি প্রার্থী
বর্তমান মেয়র এস.এম. মাহবুবুর রহমান। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলেরই
বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন দলের তিন নেতা পৌরসভাটিতে
‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
তারা হলেন, ঠিকাদার সৈয়দ হোসেন হাছু, সাবেক ভিপি রাইসুল হাসান কেনেডি ও
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুল কাদরি স্বপন। অন্যদিকে এখানে বিএনপির একমাত্র
বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আনোয়ার আলী মৃধা রতন। ফলে
বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে এখানে দুই দলেই বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment