শাহিদ মোস্তফা শাহিদ, কক্সবাজার সদরঃ
কক্সবাজার সদরের ৪ ইউনিয়নে স্থাপিত ৮টি ইটভাটায় পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে
সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জ্বালানী কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ফলে পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলের
বৃক্ষাদি উজাড় হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে পরিবেশ হুমকিসহ বহু
মূল্যবান বনজ সম্পদ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার
রাজস্ব। স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীদের আশংকা এ অবস্থা চলতে থাকলে
বৃক্ষ শূণ্য হয়ে পড়বে পুরো বনাঞ্চল। সরেজমিনে দেখা যায়, জালালাবাদের পূর্ব
ফরাজী পাড়ায় ২টি, হাসির দিঘীতে ১টি, ইসলামাবাদ সাতজুলাকাটায় ১টি, ঈদগাঁওয়ের
ভোমরিয়াঘোনায় ১টি, বাসস্টেশনে ২টি, চৌফলদন্ডীর নতুন মহালে ১টি ইটভাটা
রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের অর্থায়নে এই ইটভাটা স্থাপনসহ চলতি মৌসুমে
পুরোদমে ইট তৈরীর কার্যক্রম চলছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নিয়মাবলী
উপেক্ষা করে ইটভাটার মালিকরা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে মাশোহারা দিয়ে সংরক্ষিত
বনাঞ্চল থেকে কাঠ পাচার করে পোড়ানো হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অন্যদিকে
পাথরী কয়লার পরিবর্তে দিবারাতে চারাগাছ পোড়ানোর ফলে কালো ধুয়া চারপাশে
ছড়িয়ে পড়ছে। কয়েকজন ইটভাটার শ্রমিকের সাথে কথা হলে বনাঞ্চলের কাঠ দিয়ে
পোড়ানো হচ্ছে বলে স্বীকার করে। এতে পার্শ্ববর্তী বন বিভাগের সংরক্ষিত ও
রক্ষিত পাহাড়ের সৃজিত বাগানের কচি বৃক্ষাদি উজাড় হচ্ছে। জালালাবাদে স্থাপিত
২টি ইটভাটায় ব্যাপক হারে জ্বালানী কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব চলছে বলে স্থানীয়
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩জন ব্যক্তি জানান। জানা যায়, প্রত্যেক ইটভাটায় ৫/৬টি
করে পিকআপ, ড্যাম্পার, জীপ রয়েছে। ভাটার মালিকরা এসব পরিবহন দিয়ে রাত-দিন
পার্শ্ববর্তী ঈদগড়, বাইশারী, ইসলামপুর, ভোমরিয়াঘোনা, কালিরছড়া,
পার্শ্ববর্তী উপজেলা চকরিয়া, খুটাখালী, ডুলাহাজারা থেকে চারাগাছ কেটে
জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করে নিয়ে এসে স্ব স্ব ইটভাটায় মজুদ করে রাখে।
পরবর্তীতে ঐসব জ্বালানী কাঠ সমূহ ইটভাটায় রক্ষিত করে তা নিরাপদে পোড়ানো হয়
বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। এভাবে ইটভাটার মালিকরা বেপরোয়া ভাবে বন
বাগানোর মুল্যবান উঠতি গাছ সমূহ ইটভাটায় পুড়িয়ে বিপন্ন করছে বনাঞ্চল আর
পরিবেশ। ফলে একদিকে যেমন বনবিভাগের মুল্যবান বৃক্ষ সাবাড় হচ্ছে। সরকার
হারাচ্ছে প্রচুর রাজস্ব, অন্যদিকে অনবরত গাছপালা কেটে ফেলার ফলে ওজোনস্থর
ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব ও পরিবেশ তার ভারসাম্য হারিয়ে মানব
দেহের ক্ষতিকারক অতিবেগুনী রশ্মি পৃথিবীতে এসে পড়ে। এলাকার সচেতন মহল ও
পরিবেশবাদীদের দাবী ইটভাটাগুলোকে অভিযান চালিয়ে বৃক্ষ নিধন বন্ধ করা জরুরী।
চিহ্নিত কাঠপাচারকারী ও ইটভাটার মালিকদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অচিরেই
ঈদগাঁওসহ পার্শ্ববর্তী সংরক্ষিত বনজ সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে
কক্সবাজার উত্তর-দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ডিএফও শাহী-ই-আলমের
সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাস্কফোর্স গঠন করে এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান
পরিচালনা করা হবে বলে জানান।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment