কোনো
আসামি ছাড় পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব
আবু মো. মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, দুদকের কাছে ছোট-বড় বলতে কোনো আসামি
নেই। আসামিদের আসামি হিসেবেই দেখা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সংস্থার মিডিয়া
সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দুদকের সচিব এসব কথা
বলেন। তিনি বলেন, যেসব মামলার আসামিরা বাইরে আছেন, তাঁরা কেউ ছাড় পাবেন না।
তদন্ত কর্মকর্তারা তাঁদের ক্ষমতাবলে আসামিদের গ্রেপ্তার করছেন। এক
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আশ্বস্ত করতে পারি যে কেউ ছাড় পাবেন না।
সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, আইন অনুযায়ী সে পদক্ষেপ
নেওয়া হবে।’ প্রভাবশালীদের গ্রেপ্তার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে
আবু মো. মোস্তফা কামাল বলেন, এই সিদ্ধান্ত তদন্ত কর্মকর্তা নেন। তিনি তাঁর
তদন্তের স্বার্থে যেকোনো আসামিকেই গ্রেপ্তার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে
প্রভাবশালীদের গ্রেপ্তারে কোনো বাধা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকর রিজার্ভ চুরির
বিষয়ে দুদকের সচিব বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুলিশের গোয়েন্দা শাখা
অনুসন্ধান করছে। এখন পর্যন্ত দুদক এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে
দুদক নজর রাখছে। প্রয়োজন হলে অনুসন্ধানের বিষয়টি আমলে নেওয়া হবে। পানামা
পেপারস কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশের যারা জড়িত, সে বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধানের
অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের অনুসন্ধান চলছে। এ
পর্যায়ে মন্তব্য করাটা সমীচীন হবে না।’ প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে
দুদক সচিব বলেন, মার্চ মাসে ৮৪৯টি দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ
সময়ে অনুসন্ধান শেষে ৩৪টি মামলা করা হয়েছে এবং অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে
৪৫টি মামলায়। এ ছাড়া জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট ৯৪টি মামলা করা হয়।
তিনি জানান, গত তিন মাসে ১৫১টি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
মার্চ মাসে দুদকের ২১টি মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি
মামলার আসামিদের সাজা হয়েছে এবং ১১টি মামলার আসামিরা খালাস পেয়েছেন।
ব্রিফিংয়ে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য উপস্থিত
ছিলেন। আজ প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হঠাৎ করেই
গ্রেপ্তার অভিযানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দুদক। গত ২৫ দিনে সারা দেশে অভিযান
চালিয়ে ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিপরিচয় ও
অবস্থান বিবেচনা না করে ছোট-বড় সব অভিযুক্তকে ধরতে না পারলে অভিযান
প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সাবেক সচিব ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে দুদকের নতুন কমিশন
দায়িত্ব নেয় গত ১৪ মার্চ। ২৭ মার্চ থেকে গ্রেপ্তার অভিযানে নামে সংস্থাটি।
২০০৭ সালে এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রভাবশালী
ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল দুদক। এরপর গত আট-নয় বছরে
তেমন কোনো গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করেনি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment